, ,

ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ: সর্বশ্রেষ্ঠ নেক কর্ম

নিউজটি শেয়ার করুন

ফিরোজ মাহবুব কামাল
অপরিহার্য কেন ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণ?
কুর’আনী রোডম্যাপের পূর্ণ অনুসরণ করে যে বাঁচতে চায়, তাঁর জীবনে অবশ্যই ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের জিহাদও এসে যায় -যেমন এসেছিল নবীজী (সা:) ও তাঁর সাহাবাদের জীবনে। কুর’আন বুঝলো অথচ ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের তাড়না সৃষ্টি হলো না – এমনটি কখনো হয় না। নবীজী (সা:)’য়ের যুগে যারা সেরূপ জিহাদ থেকে দূরে থেকেছে তাদের মুনাফিক বলা হয়েছে। আব্দুল্লাহ বিন উবাই ও তার ৩০০ সহচর ছিল সে আমলের চিহ্নিত মুনাফিক। ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণের পক্ষে পবিত্র কুর’আনে রয়েছে প্রবল দর্শনের বল -যা প্রতিটি ঈমানদারকে ধাবিত করে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের জিহাদে। যারা নাই সে জিহাদে, বুঝতে হবে তারা ব্যর্থ হয়েছে কুর’আন বুঝতে। এবং বুঝতে হবে তারা ব্যর্থ হয়েছে সিরাতাল মুস্তাকীমের যাত্রী হতে। সিরাতাল মুস্তাকীমে চলার অর্থ শুধু ঘর থেকে মসজিদ যাওয়া নয়। শুধু রোজা রাখা, যাকাত দেয়া ও হজ্জে যাওয়াও নয়। বরং সেটি হলো মহান রব’য়ের পূর্ণ এজেন্ডাকে বিজয়ী করার জিহাদ নিয়ে বাঁচা। সিরাতাল মুস্তাকীম হলো সে পথ -যা মহান রব’য়ের এজেন্ডাকে বিজয়ী করার জিহাদে পথ দেখায়। বস্তুত পবিত্র কুর’আন হলো সে পথের রোডম্যাপ।
যুদ্ধ জয়ে হাতিয়ার জরুরি। ইসলামী রাষ্ট্র হলো সে অপরিহার্য হাতিয়ার। মুসলিম জনসংখ্যা যত বিশালই হোক, তাদের হাতে ইসলামী রাষ্ট্র না থাকলে মহান রব’য়ের এজেন্ডাকে বিজয়ী করার কাজটি কখনোই হয়না। তখন বরং মুসলিমদের ভূমি, সম্পদ ও সামর্থ্য ব্যয় হয় ইসলামকে পরাজিত রাখার কাজে। মুসলিম দেশগুলি যখন ঔপনিবেশিক ব্রিটিশদের দখলে যায়, তখন তো সেটিই হয়েছে। মুসলিমদের সম্পদে ব্রিটিশদের শক্তি ও সাম্রাজ্য বেড়েছে। আজও চিত্রটি ভিন্নতর নয়। বিশ্বের ৫০টির বেশী মুসলিম রাষ্ট্র মুসলিম নামধারী সেক্যুলারিস্ট, ফ্যাসিস্ট, জাতীয়তাবাদী ও রাজতন্ত্রীদের দখলে থাকায় ইসলামের শত্রুপক্ষেরই শক্তি বেড়েছে। তাতে বিভক্তি ও পরাজয় বেড়েছে মুসলিম উম্মাহর। ফলে অধিকৃত মুসলিম ভূমি ফিলিস্তিন, আরাকান ও কাশ্মীরের পক্ষে দাঁড়াবার কেউ নাই। মুসলিম বিশ্বের অনৈসলামী রাষ্ট্রগুলি সহায়ক ভূমিকা রাখছে না সিরাতাল মুস্তাকীমে চলায়; বরং এ রাষ্ট্রগুলির শাসকগণ পরিণত হয়েছে মহান রব’য়ের সার্বভৌমত্ব, তাঁর শরিয়া আইন এবং তাঁর ভূ-রাজনৈতিক ও শিক্ষা সাংস্কৃতিক এজেন্ডাকে বিজয়ী করার পথে সবচেয়ে বড় বাধা। তাই ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ ও তার পরিচালনা শুধু সিরাতাল মুস্তাকীমের অবিচ্ছেদ্য অংশই নয়, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বরং সত্য তো এটাই, ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না দিলে কখনোই সম্পূর্ণ সিরাতাল মুস্তাকীমে চলার কাজটি হয়না। তখন আদালতে শরিয়ার বিচার, শিক্ষালয়ে কুর’আন শিক্ষা, শুরা ভিত্তিক শাসন, মৌলিক মানবাধিকার, দুর্বৃত্তির নির্মূল ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার জিহাদ, প্যান-ইসলামী মুসলিম ভাতৃত্ব, মুসলিম ঐক্য, স্বাধীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তা -এ ধরণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি স্রেফ কিতাবেই থেকে যায়। বস্তুত মুসলিম বিশ্বের আজকের চিত্রটি অবিকল সেটাই।
সিরাতাল মুস্তাকীম নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা
অধিকাংশ মুসলিমই মনে করে, সিরাতাল মুস্তাকীমে চলার অর্থ কুর’আন তেলাওয়াত, নামাজ রোজা, হজ্জ যাকাত ও দোয়া দরুদ নিয়ে বাঁচা। অথচ পবিত্র কুর’আন এবং নবীজী (সা:)’য়ের ইসলাম পালন সিরাতাল মুস্তাকীমের ভিন্নতর চিত্র পেশ করে।  জান্নাতে পৌঁছতে হলে এগুলির বাইরেও দীর্ঘ পথ চলতে হয়। সে পথে কুর’আন শিক্ষা, ইসলামের দাওয়াত, দুর্বৃত্তির নির্মূল, সুবিচারের প্রতিষ্ঠা, ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ এবং সে রাষ্ট্রের সুরক্ষার অবিরাম জিহাদও এসে যায়। এসব নিয়েই তো ছিল নবীজী (সা:) ও তাঁর সাহাবাদের জীবন। অর্ধেকের বেশি সাহাবা ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের জিহাদে শহীদ হয়ে গেছেন। ইসলামের ইতিহাসে সবচেয়ে শিক্ষণীয় গর্বের ইতিহাস তো তাদেরই। অথচ সে গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস বাংলাদেশের স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখানো হয়না। শেখানো হয়না এমন কি মাদ্রাসাগুলিতেও। আলেমদের অবস্থা হয়েছে এমন কুর’আন ব্যবসায়ীর মত -যার দোকানে নানা রংয়ের মোলাটে বাঁধানো বহু রকমের কুর’আন ও কুর’আনের তাফসির; কিন্তু সে দোকানী কখনো কুর‌’আন পড়ে না এবং অন্যদের কুর’আন বুঝতেও শেখায় না। অথচ বাংলাদেশে এরা বিশাল শক্তি। বাংলাদেশে যত জন আলেম, নবীজী (সা‍:)’য়ের এরূপ বিশাল সংখ্যক সাহাবা ছিলেন না। যারা নিজেদের আলেম, আল্লামা, মৌলভী, মুফতি, ইমাম, মোহাদ্দেস রূপে পরিচয় দেয়া, তারা যদি সিরাতাল মুস্তাকীমের জিহাদের অংশটুকুতে পা রাখতো তবে বাংলাদেশের বুকে বহু আগেই ইসলামী রাষ্ট্র নির্মিত হতো। কিন্তু তাদের সকল আগ্রহ বেশি বেশি মসজিদ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠা নিয়ে; সে আগ্রহ ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নিয়ে নাই।
হচ্ছে না সিরাতাল মুস্তাকীমে চলার কাজ
ভয়ানক সমস্যাটি হলো, যারা নামাজের প্রতি রাকাতে “ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকীম” বলে আল্লাহর দরবারে আওয়াজ তোলে, তাঁরা সিরাতাল মুস্তাকীমের সবটুকু চলতে রাজী নয়। তার চলতে চায় জিহাদের বিশাল অংশটুকু বাদ দিয়েই। তারা ওয়াজে বা খোতবায় জজবা দেখালেও জিহাদে অর্থ, সময়, শ্রম ও রক্ত দানে তাদের কোন আগ্রহ নাই। ফলে বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যায় মসজিদ মাদ্রাসা নির্মিত হলেও নির্মিত হচ্ছে না ইসলামী রাষ্ট্র। ফলে মুসলিমগণ বাঁচছে আদালতে শরিয়ার বিচার ছাড়াই। এটি তো গুরুতর অপরাধ। মহান রব’য়ের ঘোষণা, কুর’আনে নাযিলকৃত শরিয়ার আইন অনুযায়ী যারা বিচার করেনা তারা কাফির, জালিম ও ফাসিক। অথচ ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ না হলে শরিয়া পালন তো অসম্ভব। কিন্তু তা নিয়ে ভাবনা ক’জনের? সে ভাবনা থাকলে তো ইসলামী রাষ্ট্রের লক্ষ্যে জিহাদ শুরু হতো। তারা বুঝতে ব্যর্থ হয়, শুধু নামাজ রোজা, হজ্জ যাকাত ও দোয়া দরুদে ধর্ম কর্ম সীমিত হলে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের লক্ষ্যে যে দীর্ঘ জিহাদের পথ রয়েছে -সে পথটুকু পাড়ি দেয়ার কাজ হয়না। ফলে অসম্ভব হয় সিরাতাল মুস্তাকীমে চলা। আর সিরাতাল মুস্তাকীমে চলায় ব্যর্থ হওয়ার অর্থ তো জান্নাতের বদলে জাহান্নামে পৌঁছা। তখন নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাত বিশুদ্ধ ভাবে পালন করেও কি কোন লাভ হয়?
বিশ্বের কোথাও আজ ইসলামী রাষ্ট্র নাই; অধিকাংশ মুসলিম দেশে সে রাষ্ট্র নির্মাণের জিহাদও নাই। এ থেকে বুঝতে কি বাঁকি থাকে -অধিকাংশ মুসলিম ব্যর্থ হচ্ছে সিরাতাল মুস্তাকীমের পথে পুরা পথটি চলতে। অথচ জান্নাতের দিকে চলার এটিই হলো একমাত্র পথ। ফলে যে কোন ব্যক্তির জীবনে এর চেয়ে বড় বিপদ আর কি হতে পারে? বিপদ এখানে অনন্তকালের জন্য জাহান্নামে পৌঁছার। এর চেয়ে ভয়ানক বিপদ আর কি থাকতে পারে। ঈমানদারের মূল দায় তো ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের সৈনিক হওয়া; সে দায় বেশি বেশি দোয়া দরুদ ও তাসবিহ পাঠে পালিত হয়না। সিরাতাল মুস্তাকীমের এ পথে এমন জিহাদ অনিবার্য। যে পথটি সিরাতাল মুস্তাকীম নয়, সেটিই তো জাহান্নামের পথ।
সিরাতাল মুস্তাকীম চেনাটি অতি সহজ; এ পথে অবশ্যই থাকে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের জিহাদ। অবিরাম জিহাদ থাকে দুর্বৃত্তি নির্মূলে ও সুবিচারের প্রতিষ্ঠায়। দেশের আদালতে থাকে শরিয়া। জাহান্নামের পথটি চেনাও অতি সহজ। সে পথটি চেনা যায় সেক্যুলার রাজনীতি, দুর্বৃত্ত কবলিত প্রশাসন, শরিয়াশূণ্য আদালত, কুর’আনশূণ্য শিক্ষাব্যবস্থা, নগর-বন্দরে বৈধ পতিতাপল্লী, অশ্লিল নাচ-গানের সংস্কৃতি এবং দুর্বৃত্তির প্লাবন দেখে। বাংলাদেশে মুসলিম রাষ্ট্র রূপে পরিচিত হলেও দেশটিতে দেখা যায় জাহান্নামের মিছিলে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড়। বিস্ময়ের বিষয় হলো, এরা আবার নিজেদের মুসলিম রূপে দাবী করে।
ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ: সর্বশ্রেষ্ঠ নেক আমল
এ বিশ্বে সর্বশ্রেষ্ঠ নেক কর্মটি কাউকে কোটি টাকা দান করা নয়; গৃহদান বা বস্ত্রদানও নয়। বরং সেটি হলো জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানো। এ কাজের শ্রেষ্ঠতম হাতিয়ার মসজিদ মাদ্রাসা, পীরমুরিদী, তাবলিগী ইজতেমা বা ওয়াজ মাহফিল নয়। এগুলি জনগণকে জান্নাতে নেয়ার বাহন হলে বাংলাদেশ জান্নাতী মানুষদের দিয়ে ভরে যেত। কারণ, বিশ্বের যে কোন দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এগুলি বেশি বেশি হচ্ছে। জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হলো ইসলামী রাষ্ট্র। কারণ রাষ্ট্রের হাতে থাকে দুর্বৃত্তি নির্মূলের হাতিয়ার। থাকে সুশিক্ষা দেয়ার হাতিয়ার। থাকে বিশাল প্রশাসনিক অবকাঠামো। থাকে বিশাল সামরিক ও বেসামরিক লোকবল। সমগ্র মানব ইতিহাসের সকল নবী-রাসূল মিলেও এতো বিপুল সংখ্যক মানুষকে জান্নাতের পথে নিতে পারেননি, যা নিয়েছেন শেষ নবী মহম্মদ (সা:)। কারণ তাঁর হাতে ছিল বাংলাদেশের চেয়ে ২০ গুণ বৃহৎ রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো; এবং সে সাথে ছিল বিশাল সামরিক ও বেসামরিক জনবল। নবীজী (সা:)’য়ের প্রতিষ্ঠিত সে রাষ্ট্রের সামর্থ্য খোলাফায়ের রাশেদার আমলে আরো বহুগুণ বেড়ে যায়। ফলে বেড়ে যায় বিশ্ববাসীকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর সামর্থ্য। তাই সমগ্র ইতিহাসে মানব জাতির সবচেয়ে বড় কল্যাণটি করছে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাষ্ট্র। এটিই হলো তার সবচেয়ে বড় লিগ্যাসি। এ বিশ্বে বহু জাতিই বহু রাষ্ট্র গড়েছে, কিন্তু কেউই এতো বিপুল সংখ্যক মানব সন্তানদের জাহান্নামের আগুণ থেকে বাঁচানোর সর্বশ্রেষ্ঠ কল্যাণকর কাজটি করেনি -যা করেছে ইসলামী রাষ্ট্র।  আজ বিশ্বের কোথাও ইসলামী রাষ্ট্র নাই; ফলে হচ্ছে না জনগণকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর কাজটি।
মানব জাতির আজকের সবচেয়ে বড় সংকটটি অর্থ সংকট, খাদ্য সংকট, গৃহ সংকট বা চিকিৎসা সংকট নয়। এ সংকটগুলির নাশকতা গুরুতর হলেও এগুলির কারণে কোন মানব সন্তান অনন্ত অসীম কালের জন্য জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে না। বরং মৃত্যুহীন জাহান্নামে গিয়ে পড়বে সিরাতাল মুস্তকীমে না চলাতে। তাই কাণ্ডজ্ঞান সম্পন্ন মানুষের কাছে সিরাতাল মুস্তকীম চাওয়াই জীবনের সবচেয়ে বড় চাওয়া। এবং সেটি পাওয়াই মানব জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। তাই মহান রব’য়ের কাছে সিরাতাল মুস্তাকীম চাওয়াই ঈমানদার ব্যক্তির সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া। এজন্যই মহান রব সে দোয়াটি পাঠ করা ফরজ করেছেন প্রতিটি নামাজের প্রতি রাকাতে।  যারা জ্ঞানবান মানুষ তারা নামাজের বাইরও এ দোয়াটি বেশে বেশি পাঠ করেন। কারণ মানব জীবনে এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নাই।
আর সিরাতাল মুস্তাকীমটি খুঁজে পেতে এবং সে পথে চলতে সর্বতোভাবে সাহায্য করে ইসলামী রাষ্ট্র। তাই ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের জিহাদই হলো এ পৃথিবীপৃষ্ঠের সর্বশ্রেষ্ঠ নেক কর্ম। তবে সে সর্বশ্রেষ্ঠ নেক কর্মের গুরুত্ব বুঝা এবং সে কর্মে যুক্ত হওয়ায় তো তাদেরই আগ্রহ থাকে -যারা সমাজের জ্ঞানবান ও প্রজ্ঞাবান। ঈমানদারকে সে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দেয় জ্ঞানের সর্বশ্রেষ্ঠ টেক্সটবুক পবিত্র কুর’আন। তাই মহান আল্লাহ তায়ালা কুর’আন অধ্যয়ন করা এবং কুর’আন বুঝাকে ফরজ করেছেন। কিন্তু সে ফরজই বা কতটুকু পালন হচ্ছে?
পৃথিবী পৃষ্ঠের সর্বশ্রেষ্ঠ নেক কর্ম।কে সনাক্ত করতে এবং সে পথে চলতে -নবীজী (সা:)’য়ের সাহাবাগণ ভুল করেননি। তাই অর্ধেকের বেশি সাহাবা ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের জিহাদে শহীদ হয়ে গেছেন। কিন্তু সে মানের ঈমান, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দেখাতে আজকের মুসলিমগণ ব্যর্থ হয়েছে। সেটি বুঝা যায় ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে ব্যর্থতা দেখে। একটি দেশের জনগণের ঈমান, জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ভাণ্ডার যে কতটা শূণ্য -তার নির্ভুল চিত্রটি পাওয়া যায় ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের জিহাদের ন্যায় সর্বশ্রেষ্ঠ নেক কর্মে জনশূণ্যতা দেখে। সে গভীর শূণ্যতা নিয়ে কেবল জাহান্নামের পথে চলাটাই সহজ হয় না, সহজ হয় দেশ জুড়ে দুর্বৃত্তির প্লাবন আনাটিও। বাংলাদেশের মত মুসলিম দেশগুলি তো তারই উদাহরণ। এমন এক প্রেক্ষাপটে ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ যে কতটা অপরিহার্য -সেটি বুঝায় কি সামান্যতম অস্পষ্টতা থাকে? 12/08/2026