বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থভাগে (নির্বাহী বিভাগ) প্রথম পরিচ্ছেদে ৪৮নং অনুচ্ছেদ থেকে ৫৪ নং অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মহামান্য রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যবলীর বিধান উল্লেখ রয়েছে।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিদের ইতিহাস সুখকর নয়। বিএনপি’র রাষ্ট্রপতিদের ইতিহাস দুঃখজনক ও বির্তকের বেড়াজালে আবদ্ধ। বিএনপি’র পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন তা নিয়ে চলছে দেশজুড়ে জল্পনা-কল্পনা, অধীর আগ্রহ ও প্রতীক্ষার পালা। খুব সতর্কার সহিত রাষ্ট্রপতির নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বিবেচনায় রাখতে হবে। তাই এবার কারো দয়ায়, বিশেষ অনুরোধে বা বিবেচনায়, বৈদেশিক চাপ, কোন ষড়যন্ত্রের আবহ সৃষ্টি অথবা মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে বা দলের বাহিরে থেকে কাউকে রাষ্ট্রপতির পদে মনোনয়ন দিলে তা হবে বিএনপির জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ও দলের রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে। অতীতে বিএনপি’র চারজন রাষ্ট্রপতির মধ্যে তিনজন দলের ও একজন ছিলেন দলের বাহিরে থেকে নেওয়া। তন্মধ্যে দলের দুইজন ও দলের বাহরের একজনের কার্যক্রম দলের জন্য বিতর্ক, বিপর্যয়, পরাজয় ও বিশ্বাসঘাতকতার জন্ম দিয়েছিল।
১৯৮১ সালের ৩০শে মে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নির্মম হত্যাকান্ডের পর তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করেন। বিশ্বে একমাত্র দেশ বাংলাদেশ যেখানে একজন ব্যক্তির জন্য সংবিধান সংশোধন করা হয়েছিল। ১৯৮২ সালের ৮ই জুলাই সংবিধানের ষষ্ঠ সংশোধনিটি পাশ হয়। “উপ-রাষ্ট্রপতির পদ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের বিধান নিশ্চিতকরণ-এই উদ্দেশ্যে।” ১৯৮১ সালের ১৫ই নভেম্বর বিচারপতি আব্দুস সাত্তার রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হন। কিন্তু ১৯৮২ সালের ২৪শে মার্চ তৎকালীন সেনাপ্রধান এইচএম এরশাদের নেতৃত্বে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।
১৯৯১ সালে বিএনপি’র আব্দুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন কিন্তু ১৯৯৬ সালে বিএনপি’র ক্রান্তিকালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস দল থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালের ১২ই জুন ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২ দিন পরই তিনি টুঙ্গিপাড়াতে বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত করে বলেছিলেন- “বঙ্গবন্ধু ছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী।” শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদে শপথ নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে সৌদি আরবে যান। দেশে ফিরে তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে ছিলেন। শেখ হাসিনার এই সৌজন্য সাক্ষাতের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস বলেছিলেন- “শেখ হাসিনা আমাকে যতটুকু সম্মান করেছেন কোন মন্ত্রী আমাকে এত সম্মান করেনি।” এখানে লক্ষণীয় যে কোন মন্ত্রী বলতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকেও বুঝিয়েছেন।
২০০১ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস। হাওয়া ভবনের সামনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন আমি আশা করি নমিনেশন পাব। দল আমাকে যোগ্য মনে না করলে চলে যাব। হাওয়া ভবন থেকে নেমে অশ্রুসিক্ত নয়নে কোন কথা না বলে হাতের ইশারায় সাংবাদিকদের বিদায় জানিয়েছিলেন।
বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একান্ত সহচর ডাঃ একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী পররাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন। ২০০২ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারতকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে অভিশংসনের অভিযোগ আনা হয়। বেগম খালেদা জিয়া তখন রাষ্ট্রীয় সফরে সৌদি আরবে ছিলেন। আর এ সুযোগে ডাঃ একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী তৎকালীন সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশিদের সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে খালেদা জিয়া সরকারকে উৎখাত করতে চেয়েছিলেন। ২১শে জুন ২০০২-এ ডাঃ একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী পদত্যাগ করেই খান্ত হয়নি। খালেদা জিয়া সরকারকে ব্যর্থ ও উৎখাতের জন্য এহেন কোন কু-কর্ম নেই তিনি করেনি। নীতি ও আদর্শচ্যুত প্রয়াত এ রাষ্ট্রপতি পল্টন ময়দানে মহাজোটের এক সমাবেশে শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন। স্টেজে শেখ হাসিনার ডানকানের পাশে যেয়ে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ডাঃ একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছিলেন-“প্রিয় নেত্রী, আপনি কেমন আছেন।” শেখ হাসিনা সাথে সাথে ডান থেকে বাম দিকে ঘৃণা, ক্রোধ ও বিরক্তিস্বরে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। অতঃপর নীতি ও আদর্শচ্যুত এ রাষ্ট্রপতি শেখ হাসিনার পিছন দিয়ে বাম কানের পাশে ঐ একই কথা বলেছিলেন। শেখ হাসিনা সাথে সাথে বাম থেকে ডান দিকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, আসম আব্দুর রব ও ড. কামাল হোসেন মিলে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখার জন্য ২০১৮ সালে ঐক্য জোট করেন। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতিতে “রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের পুরুষ” ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী শেখ হাসিনার আঁচল তলে আশ্রয় নিয়ে তার দলের জন্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাঁচটি আসনের মনোনয়ন পেয়েছিলেন যা ছিল বিএনপি’র জন্য অবিশ্বাস্য ও বিশ্বাসঘাতকতার এক তিক্ত ইতিহাস।
ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হলে তৎকালীন স্পীকার জমির উদ্দিন সরকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু মুন্সিগঞ্জ থেকে রাষ্ট্রপতি করতে হবে এটা ছিল বিএনপি’র অদূরদর্শীতার বহিঃপ্রকাশ। রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রফেসর ডা. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ এর নাম ঘোষণা করা হলে তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন-“স্বপ্নেও কল্পনা করিনি আমি রাষ্ট্রপতি হব।” কিন্তু ২২ জানুয়ারি ২০০৭-এর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব তিনি কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। উক্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হলে নির্বাচনের ঢেউ উল্টো পথে যাত্রা করে। তৎকালীন নবম পদাতিক ডিভিশনের জেওসি বর্তমানে কারাঅন্তরীন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী কর্তৃক বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির পিএসএর সাথে অশালীন ও অশোভন আচরণ এবং প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে তত্ত্বাবদায়ক সরকার প্রধান থেকে পদত্যাগে বাধ্য করেছিল যা বিএনপি’র রাজনৈতিক পরাজয় ডেকে আনে। এই ধারাবাহিকতায় সৃষ্টি হয় ওয়ান-ইলেভেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কারাবরণ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপর অমানবিক দৈহিক নির্যাতন ও দেশত্যাগে বাধ্য করা এবং একটি ঝুলন্ত পার্লামেন্ট তৈরি করে বিএনপিকে ২৭টি আসন উপঢৌকন দেওয়া।
তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান ড. ফকরুউদ্দিন আহমেদ, সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন উদ্দিন আহমেদ ও সাভার ক্যান্টনমেন্টের জেওসি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে “মিস্টার নো বডি”তে পরিণত করেন। ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ নিজ ক্ষমতা ও যোগ্যতা বলে বিএনপি’র জন্য কোন কিছুই করেন নি এবং তাকে কিছু করতেও দেওয়া হয়নি। অথচ প্রয়াত ব্যারিষ্টার জমিরউদ্দিন সরকার রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপি’র এই দূর্গতি হত না। দলের প্রতি প্রয়াত ব্যারিষ্টার জমিরউদ্দিন সরকারের ছিল শ্রদ্ধা, অবিচল আস্থা, আনুগত্য, আন্তরিকতা ও ভালোবাসা যা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের ছিল না। শুধু তাই নয় ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ছিলেন জামায়াতে ইসলামী পন্থী বিএনপি সমর্থিত পরিচিত মুখ। প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম সংসদে এক পয়েন্ট অব অর্ডারে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেনÑ কোত্থেকে ধরে এনে কাকে রাষ্ট্রপতি করা হল।
মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদত্যাগের পর কে হবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের রাষ্ট্রপতি তার অধীর অপেক্ষায় দেশবাসী। বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন- “বিএনপি’র দলীয় নাকি বাইরের কাউকে প্রার্থী করা হবে, তা দলের নীতি-নির্ধারনী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংবিধান ও আইন মেনে ঠিক করা হবে।”
১ লা আগষ্ট ২০২৬ বিএনপি’র চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রাষ্ট্রপতির পদে বিএনপি’র প্রার্থী কে হবেন সেই নাম চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলটির চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপর ন্যস্ত করেছেন সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি। কিন্তু রাষ্ট্রপতি যে কেউ হলে অন্যেরা ব্যথিত হবে না, দংশিত হবেন না,পীড়িত হবেন না একথা কেউ বলেন নি জাতীয় স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে এবং যে কোন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পূর্বে যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ তা হল কে হবেন পরবর্তী সেনাপ্রধান। সিজিএস-চীফ অব জেনারেল স্টাফ, প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার-১, প্রিন্সিপ্যাল স্টাফ অফিসার-২, নবম পদাতিক ডিভিশনের জেওসি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রধান, প্রেসিডেন্ট গার্ড অব রেজিমেন্টের (পিজিআর) প্রধান, ডিজিএফআই-এর প্রধান, এনএসআই-এর প্রধানের পদে কে বা কারা থাকছেন।
প্রসঙ্গ উল্লেখ্য যে, ভাটিয়ারীতে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত বাংলাদেশের সেনা কর্মকর্তারা সামরিক অভ্যুত্থান করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হরণের আস্ফালন আজও দেখায়নি। কিন্তু পাকিস্তানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাংলাদেশের সেনা কর্মকর্তাগণ বরাবরই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দলের চেষ্টায় মরিয়া ছিল। বগুড়া থেকে রংপুর। মাঝখানে গাইবান্ধা। একই বঙ্গের মানুষ ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ। দু’জনে একই বঙ্গের মানুষ হলেও এইচ এম এরশাদের মনে ছিল বহু রঙ্গ। এইচ এম এরশাদ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার কেবল নেপথ্য নায়কই ছিলেন না তিনি বিএনপি’র প্রয়াত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সত্তারকে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন। ১৯৯৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনুগত ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিশ্বস্ত লে.জে. নাসিম বেগম খালেদা জিয়া সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থান করে চাকুরীচ্যুত হয়েছিলেন।
লে.জে নাসিমের অভ্যুত্থান সফল হলে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপি’র অসংখ্য নেতাকর্মীর কারাভোগ ও মৃত্যুদন্ডের মুখোমুখি হতে হত এবং বিএনপিকে রাজনৈতিক বিপর্যয় মেনে নিতে হত।
২০০৪ সালে তৎকালীন বাণিজ্য উপদেষ্টা বরকত উল্লাহ বুলুর সুপারিশে জেনারেল মইন উদ্দিন আহমেদকে সেনাপ্রধান করা হয়। উল্লেখ্য, লে.জে নাসিম ও জেনারেল মঈন উদ্দিন আহমেদ উভয়ই সিনিয়র তিনব্যাচকে পাশ কাটিয়ে সেনাপ্রধান হয়েছিলেন। ড. ফখরুদ্দিন আহমেদের শাসনামলে জেনারেল মইন উদ্দিন আহমেদ ১৩০ বারের অধিক রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হরণের অপ-চেষ্টা করেছিল। ২০০৭ সালের ২৩শে এপ্রিল হোটেল সোনারগাঁতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের এক অনুষ্ঠানে জেনারেল মইন উদ্দিন আহমেদ বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতার স্বীকৃতি দিতে পারেন নি বলে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন আওয়ামীপন্থী সেনাকর্মকর্তাদের সমর্থন পাওয়ার জন্য। ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির পা ধরে জেনারেল মইন উদ্দিন তার চাকুরীর মেয়াদ দু’বছর বৃদ্ধি করেছিলেন। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মোহে জেনারেল মইন উদ্দিন আহমেদ তখন উন্মাদ ছিল। শেষ পর্যন্ত কুখ্যাতি জেনারেল মইন উদ্দিন আহমেদ আওয়ামীলীগের নিছক চাটুকায় পরিণত হয়। এখানে তিন জেনারেলের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস লিখতে এজন্য বাধ্য হয়েছি যে, বিএনপি কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত সেনাপ্রধানরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা জোরপূর্বক হরণ করেছিল ও অপ-চেষ্টায় লিপ্ত ছিল এবং কখনোই বিএনপি সরকারের দুর্দিনে ও ক্রান্তিকালে পাশে দাঁড়ায় নি ও সমর্থন দেয় নি এবং আওয়ামী ষড়যন্ত্র নস্যাতে কোন ভূমিকা রাখেনি। তাই পরবর্তী সেনাপ্রধান নিয়োগ পর্বে অবশ্যই তার সততা, দক্ষতা, যোগ্যতা, পেশাদারিত্ব, দেশপ্রেম ও বিএনপি সরকারের প্রতি আনুগত্য, শ্রদ্ধা ও অবিচল আস্থা রয়েছে এরূপ ব্যক্তিকে সেনাপ্রধান নিয়োগ দিতে হবে। উল্লেখ্য সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে সামরিক বাহিনী কর্তৃক রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলে চেষ্টা বা অপ-চেষ্টায় লিপ্ত হলে সর্বচ্চো শাস্তির বিধান করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ভেসে বেড়াচ্ছে। এক. দলীয় প্রার্থী ও দুই. দলের বাইরে থেকে।
এখানে দলের বাইরে থেকে প্রার্থীর বিষয়ে নিয়ে কিছু কথা উল্লেখ করছি। অতীত থেকে যদি বিএনপি কোন শিক্ষা গ্রহণ না করে তাহলে ফের রাজনৈতিক বিপর্যয়ে পতিত হব বিএনপি।
আর যদি কোন ক্রমে এবার বিএনপি’র রাজনৈতিক বিপর্যয় ঘটে তাহলে মুসলীমলীগের মত বিলুপ্ত হবে দলটি। ব্যারিষ্টার জমিরউদ্দিন সরকারকে রাষ্ট্রপতি না করে ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে রাষ্ট্রপতি করে যে খাঁদের কিনারে পতিত হয়েছিল বিএনপি সেই দুর্বিসহ অতীত ভুলে গেলে চলবে না। তবে দলের ভিতরে যে সবাই সূচি শুভ্র সন্ন্যাসী তা কিন্তু নয়।
একটি স্বার্থন্বেষী কু-চক্রী দুষ্টচক্র ড. ইউনুসকে রাষ্ট্রপতি করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু করেছে। ড. ইউনুসের মত রাষ্ট্র পরিচালনায় অদক্ষ, ব্যর্থ ও অর্থনৈতিক দূবর্ৃৃত্ত রাষ্ট্রপতি হলে মার্কিন নগ্ন স্বার্থ বাস্তবায়নে তিনি মরিয়া হয়ে উঠবেন। জাতীয় স্বার্থকে পদদলিত করে ব্যক্তি ও মার্কিন স্বার্থকে তিনি প্রাধান্য দিবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তিনি “মিষ্টার নো বডি”তে পরিণত করবেন। তাই দলের বাইরে থেকে কোন রাষ্ট্রপতি নয়। অর্থাৎ বিএনপি যদি অতীত থেকে শিক্ষা না নিয়ে থাকে তাহলে দলের বাহির থেকে কেউ আসুক। এতে দলের আরো রাজনৈতিক শিক্ষা-দীক্ষার প্রয়োজন মিটবে। চরমোনাই পীর সাহেব সৈয়দ মোঃ রেজাউল করিম বলেছেন-“বিএনপি অনুরোধ করলে আমি রাষ্ট্রপতি হবার বিষয়টি ভেবে দেখবো। দেশ ও জাতি আমাকে রাষ্ট্রপতি পদে দেখতে চায়।”
এবার দলীয় প্রার্থীদের কথা বলি। দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে ছাত্র জীবনে তিনি কোন রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন এবং ব্যক্তি জীবনে তিনি কোন মতাদর্শের অনুসারী হয়ে পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগদান করেছেন। তার চাইতেও স্পর্শকাতর হল উপরে বিএনপি এবং ভেতরে ভেতরে জামায়াতে ইসলামীর হয়ে কাজ করে এই ছদ্মবেশীদের থেকে সাবধান। বিএনপি’র একমাত্র প্রকৃত সম্পদ হলো জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। কিন্তু দুঃখের বিষয় জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ এই ছাত্র সংগঠনটিকে বিগত ফ্যাসিবাদের সময় জাতীয়তাবাদী ছাত্রলীগে পরিণত করেছিল সাবেক ছাত্রদলের দুই সভাপতি ও এক ছাত্র উপদেষ্টা। ‘৮০-দশকে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, ‘৯০-এ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সাথে যে সকল ছাত্রদল নেতা ছাত্রদল রাজনীতি করে সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও বিভিন্ন পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হয়েছেন তারাই বিএনপি’র প্রকৃত, পরীক্ষিত ও অনুগত সৈনিক। যেহেতু রাষ্ট্রপতি ঞরঃঁষধৎ ঊীপঁঃরাব বা নামমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান। বয়স কম হলেও এসব নেতাদের বিবেচনায় রাখা যায়। আলোচনায় যারা আছেন তাদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী থেকে কেউ হউক। এটাই হউক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নীতিগত সিদ্ধান্ত। প্রসঙ্গত উল্লেখ যে, ২০০৮-এর ৯ম জাতীয় নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনার সাথে এইচ এম এরশাদের চুক্তি হয়েছিল এই মর্মে যে, মহাজোট ক্ষমতায় এলে এরশাদই হবেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। কিন্তু কূটকৌশলী শেখ হাসিনা জিল্লুর রহমানকে ও পরবর্তীতে আব্দুল হামিদকে রাষ্ট্রপতি করেছিলেন। যারা শেখ হাসিনার নীতিগত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কখনোই কোনো বিষয়ে দ্বি-মত পোষণ করেননি। এ বিষয়টি উপলব্ধি করতে হবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে।







