, ,

রেলওয়ের অবহেলায় ভোগান্তি ও ঝুঁকিতে যাত্রীরা: নরসিংদী ও জিনারদীতে চরম দুর্ভোগ

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি এবং নিরাপত্তার ঝুঁকি এখন চরম আকার ধারণ করেছে।

একদিকে জিনারদী স্টেশনে ৩৩ নং তিতাস কমিউটার ট্রেন প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বসিয়ে রাখায় তীব্র গরমে অতিষ্ঠ যাত্রীদের হাহাকার, অন্যদিকে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনের ১ নম্বর লাইনের জরাজীর্ণ অবস্থা ও বর্জ্যের স্তূপ বড় ধরনের দুর্ঘটনার বার্তা দিচ্ছে।
​ঘণ্টা পর ঘণ্টা জিনারদীতে আটকা তিতাস কমিউটার: সাধারণ যাত্রীদের সময়ের কি কোনো মূল্য নেই?
​চারটি রানিং লাইন থাকা সত্ত্বেও জিনারদী স্টেশনে ৩৩ নং লোকাল তিতাস কমিউটার ট্রেনটি প্রায় এক ঘণ্টা যাবত দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বগিগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী অবস্থান করায় এবং তীব্র দাবদাহে ভেতরে থাকা সাধারণ যাত্রীদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। গরমে হাঁসফাঁস করতে করতে কয়েকজন যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ার খবরও পাওয়া গেছে।
​ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রেনে থাকা সাধারণ যাত্রীরা জানান, “লোকাল ট্রেন বলেই কি আমাদের সময়ের কোনো মূল্য নেই? ঘণ্টার পর ঘণ্টা এভাবে বসিয়ে রেখে চরম দুর্ভোগে ফেলা হচ্ছে। কার কাছে বললে আমরা এর সঠিক সমাধান পাব? আমরা সরকারের কাছে আমাদের সময়ের সঠিক মূল্যায়নের দাবি জানাচ্ছি।”
​নরসিংদী স্টেশনের ১ নম্বর লাইনে চরম অবহেলা: জোড়াতালির পাত ও বর্জ্যের স্তূপে মারাত্মক ঝুঁকি
​ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশন। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এই স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করলেও ১ নম্বর লাইনের অবকাঠামোগত ও পরিবেশগত অবহেলা এখন চরমে পৌঁছেছে।
​জোড়াতালি ও ক্ষয়ে যাওয়া পাত, বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা: রেললাইনের পাত ও এর সংযোগস্থলে (ফিসপ্লেট ও জয়েন্ট) স্পষ্ট ক্ষয়ের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। পাতের নিচের অংশে মরচে ধরে লোহার অংশ অনেকটাই পাতলা হয়ে গেছে। একাধিক স্থানে ফিসপ্লেট ও ক্লিপ বসিয়ে পাতের সংযোগস্থল কোনোমতে ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। ট্রেন চলাচলের সময় নড়বড়ে পাতের কারণে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
​লাইনের ওপর ময়লা-আবর্জনা ও প্লাস্টিকের স্তূপ: ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের ঠিক কোলঘেঁষে থাকা এই লাইনের পাত ও স্লিপারের ফাঁকে ছড়িয়ে রয়েছে একবাটি/ওয়ান-টাইম প্লেট, চিপসের প্যাকেট, পলিথিন ও প্লাস্টিকের বোতল। স্তূপীকৃত বর্জ্য থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধ প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানো যাত্রীদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্টেশনে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকা এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম না চালানোর কারণেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
​কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি
​প্রতিদিন একাধিক আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেন নরসিংদী স্টেশনের এই ১ নম্বর লাইন ব্যবহার করে। ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় রোধ, যাত্রীদের সময়ের সঠিক মূল্যায়ন এবং অনতিবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ রেললাইন মেরামত ও বর্জ্য অপসারণের জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় যাত্রী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।