খিলগাঁও সাব রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন ঘুষ দুর্নীতি করে গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদ!!
খিলগাঁও সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন নিজেও সাব রেজিস্ট্রার হয়েও সাব -রেজিস্ট্রারদের বদলি বাণিজ্য গডফাদার সাব রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন। গত ৫ই আগস্ট ২৪ ইং এর আগে আওয়ামী লীগ থাকলেও বর্তমানে তিনি বিএনপি পরিচয় দিয়ে এখনো ঘুষ দুর্নীতি করে প্রতিদিন হাতে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
দুদকের অভিযোগ সূত্রে জানা যায় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি মালিক সাব রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন।
রাজধানী ঢাকার আফতাব নগরেই রয়েছে বিলাস বহুল ভবনে ২৯ টি ফ্ল্যাট। গুলশান-১ এর ৭ নং রোডের ৭ নং কোহিনুর টাওয়ারে তার বর্তমান আবাস্থল । এখানে ২ টি ফ্লোর নিয়ে ডুপলেক্স করে রাজকীয় জীবন তার। অ্যাসিওরেন্স মেহমান এইচ#১৫,আর#৩৬ এখানে ২৫০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট। নিজ জেলার খাস নগর (পূর্ব পাড়া ) বাঞ্চারামপুরে কৃষি জমি ১০০বিঘা। লাহীড়ী, রসুল্লাবাদও নবীনগরে রয়েছে ৩০ বিঘা কৃষি জমি, মাছের ঘের ও খামার।
এছাড়াও,তার নিজ গ্রাম খাল্লাসহ বাড্ডা সলিমগঞ্জ, মাঝিয়ারার জীবন নগরে ২০ একর কৃষি জমিসহ মাছের ঘের ও খামার রয়েছে।
মাইকেল মহিউদ্দিনের গ্রাম খাল্লাসহ বাড্ডা সলিমগঞ্জ, মাঝিয়ারার জীবন নগরে ২০ একর কৃষি জমিসহ মাছের ঘের ও খামার রয়েছে।
৪০/২ নর্থ এভিনিউ গুলশানে তার ৩টি ফ্ল্যাটের নির্মাণ কাজ চলমান। গ্রিন ভিউ এপার্টমেন্ট, এইচ#৩৯, রোড-২৪ লেক সার্কেল গুলশান-১ এ ২৫০০ বর্গ ফুটের একটি ফ্ল্যাট যার মূল্য প্রায় ১২ কোটিরও বেশি। তার স্ত্রী জান্নাত নীলার নামে রয়েছে প্লট ১৪৩, ব্লক এইচ এর পুরো প্লট যার নাম্বার ৬।
নিকেতন এ/১৩৩, ব্লক এ, রোড-৩ ১৮০০ স্কয়ার ফিটের ১ টি ফ্ল্যাট , হাতিরঝিল এর কাছে ৪৮/এ তে রয়েছে ১৫৫০ স্কয়ার ফিট এর ফ্ল্যাট যা তার শ্যালকের নামে।
গুলশান-১ এর ৩৩ নম্বর রোডের ৬ নম্বর হাউজে রয়েছে ১০ কোটি টাকা মূল্যের ২০০০ বর্গফুট এর ২টি ফ্ল্যাট। এছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নামে বেনামে ধানমণ্ডি , গুলাশান, নিকুঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে রয়েছে তার কোটি কোটি টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট ও প্লট।
দুদকের অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায় , ফ্যাসিস্ট আমলে নন ক্যাডার থেকে সরাসরি সাব-রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ পাওয়া আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ দলকে ব্যবহার করে ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে বিপুল অর্থের মালিক হন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতেই ঘুষ লেনদেন করে বেশ সমালোচনায় আসেন দেশজুড়ে। এরপর বর্তমানে বিএনপির নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলতে ইতোমধ্যে ব্যাপক চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
মাইকেল মহিউদ্দিন ২০০৮ সালে ২৯ ডিসেম্বরে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবার নিয়োগ দেয়া ২৮তম বিসিএসের নন ক্যডার থেকে সরাসরি সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগ পান । তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবে প্রথমবার দলীয় লোকদের নন ক্যাডারে সাব রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ বাগিয়ে নেন তিনি।শুধু নিজের নয়, চাকরির শর্ত পূরণ না করেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশ ছাড়াই বিসিএস ক্যাডার হিসেবে নিয়োগ পান ৯৫ জন। যার মধ্যে প্রশাসন ক্যডারে যোগদান করেন মাইকেলের আপন বোন আসমাউল হুসনা লিজা।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে চিহ্নিত হওয়ার পরও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দপ্তরে বহাল রয়েছেন তিনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া বানছারামপুরের খাল্লা গ্রামে তার বাড়ি। ঐ এলাকার এমপি ও তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী ক্যপ্টেন এবি তাজুল ইসলাম তাঁজের সঙ্গে পারিবারিক সখ্যতা থেকে বাগিয়ে নেন দুই ভাই বোনের চাকরি। শুধু চাকরি নয়, চাকরিতে যোগদানের পরে দুজনেই দেশের লোভনীয় পোষ্টিংও বাগিয়ে নেন।
সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে আত্মীয়তার পরিচয় দিয়ে বদলি বাণিজ্যে করে মাইকেল মহিউদ্দিন হয়ে যান সাব-রেজিস্ট্রার জগতের গডফাদার। বিভিন্ন সময়ে আইন মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তা ও মন্ত্রীর সাথে শুরু করেন সাব-রেজিস্ট্রারের বদলী বাণিজ্য। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সাবেক আইন মন্ত্রী আনিসুল হকের বাড়িও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হওয়ায় সহজেই গড়ে তোলেন বদলী বাণিজ্যের সাম্রাজ্য । এতে করে নিজের সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে টাকার বিনিময়ে দেশের বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষের সাথে গড়ে তুলেন সখ্যতা । সর্বক্ষেত্রে তার অবৈধ অর্থ উপার্জনের শেল্টারদাতা ছিলেন আনিসুল হক।
গত ১০-৫-২০২৬ ইং তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর সাব রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাখিল করা হয় যার একটি কপি দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা হাতে রয়েছে
এ সকল বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য খিলগাঁও সাব রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিনকে তার মুঠো ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে ফোনটি তিনি রিসিভ করেননি







