চট্টগ্রামের ফলমণ্ডিতে জমে উঠেছে আমের বাজার
চট্টগ্রামের পাইকারি ও খুচরা বাজারে মৌসুমের শুরুতেই দেশি বিভিন্ন জাতের আমের সরব উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। নগরের ফলমণ্ডি এলাকার আড়ত ও দোকানগুলো এখন গুটি, গোপালভোগ, হিমসাগর, ক্ষীরশাপাতিসহ নানা জাতের আমে ভরে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকভর্তি আম আসতে শুরু করায় বাজারে সরবরাহ বাড়ছে, আর ব্যবসায়ীরাও পার করছেন ব্যস্ত সময়।
আড়তে বাড়ছে আমের সরবরাহ
পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে প্রতিদিন এক থেকে দুই ট্রাক আম চট্টগ্রামের প্রধান আড়তগুলোতে পৌঁছাচ্ছে। মৌসুমের শুরু হওয়ায় সরবরাহ এখনো সীমিত থাকলেও আগামী কয়েক সপ্তাহে আমের প্রবাহ কয়েকগুণ বাড়বে বলে আশা করছেন তারা। সাতক্ষীরা, রাজশাহী ও চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসব আম আনা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজারে এখন গুটি, গোপালভোগ, ক্ষীরশাপাতি, হিমসাগর, ল্যাংড়া, সীতাভোগ ও গোবিন্দভোগসহ বিভিন্ন জাতের আম পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি কাটিমন ও ব্যানানা ম্যাঙ্গোর মতো বিদেশি জাতের আমও ক্রেতাদের নজর কাড়ছে।
দাম এখনো নাগালের মধ্যে
বর্তমানে পাইকারি বাজারে হিমসাগর আম বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬৫ টাকায়। সীতাভোগের দাম প্রায় ৫৫ টাকা, গুটি আম ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা এবং গোপালভোগ ও গোবিন্দভোগ ৫৫ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। রুপালি আমের দাম উঠেছে ৯০ থেকে ১১০ টাকা পর্যন্ত। কাটিমন বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৬০ টাকায় এবং ব্যানানা ম্যাঙ্গো পাওয়া যাচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ বছর আমের উৎপাদন তুলনামূলক ভালো হওয়ায় সরবরাহও বাড়বে। ফলে দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই থাকবে বলে আশা করছেন তারা। বিশেষ করে ঈদুল আজহার পর বাজারে আমের সরবরাহ আরও বেড়ে যেতে পারে।
খুচরা বাজারেও বেড়েছে আমের উপস্থিতি
চট্টগ্রামের চকবাজার, বহদ্দারহাট, কাজীর দেউড়ি ও ২ নম্বর গেট এলাকার খুচরা বাজারগুলোতেও এখন আমের উপস্থিতি চোখে পড়ছে। মান ও আকারভেদে বিভিন্ন জাতের আম বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে।
চকবাজারের ক্রেতা মো. হাবিব ইসলাম বলেন,
“এখন হিমসাগরের চাহিদা বেশি। দাম কিছুটা কম থাকায় কিনছি, তবে মান ভালো না হলে ক্রেতারা নিতে চান না।”
অন্যদিকে বাকলিয়া এলাকার খুচরা বিক্রেতা মো. সোলায়মান জানান,
“আম মিষ্টি ও মানসম্মত হলে বিক্রি ভালো হয়। আমি সাধারণত হিমসাগর ও গোবিন্দভোগ কিনে খুচরা বাজারে সরবরাহ করি। এখনো পুরোপুরি বিক্রি জমেনি, তবে সামনে ভালো বিক্রি হবে।”
ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা
স্টেশন রোডের ফলমণ্ডির বড় পাইকারি আড়ত ‘আল্লাহর দয়া স্টোর’-এর কর্ণধার শাহ আলম বলেন,
“এখন মৌসুমের শুরু, তাই প্রতিদিন এক-দুই ট্রাক আম আসছে। সামনে সরবরাহ আরও বাড়বে। এ বছর উৎপাদন ভালো হওয়ায় দামও সহনীয় থাকবে বলে আশা করছি।”
মৌসুমের শুরুতেই চট্টগ্রামের আম বাজারে যে প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, তাতে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা—দুই পক্ষই আশাবাদী। আগামী কয়েক সপ্তাহে বাজার আরও জমজমাট হয়ে উঠবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।






