শিবচতুর্দশী তিথি ও মেলা উপলক্ষে সীতাকুণ্ড ও মহেশখালীতে শুরু হতে যাচ্ছে তিনদিন ব্যাপী মহোৎসব।
দিপাল অনিন্দ্য পাল।(চট্টগ্রাম)
আগামী ১৪-১৫-১৬ ই ফেব্রুয়ারি থেকে সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ ধাম ও মহেশখালী আদিনাথ ধামে শুরু হতে যাচ্ছে শিব চতুর্দশী মেলা।প্রতিবছর এই তিথি কে কেন্দ্র করে এই দুটি ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থানে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীদের সমাগম হয়।
ইতোমধ্যে মেলার সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে স্রাইন কমিটি,মেলা কমিটি ও স্হানীয় প্রশাসন।এ বিষয়টি একান্ত সাক্ষাৎকারে জানিয়েছে স্রাইন কমিটির সাধারণ সম্পাদক “অ্যাডভোকেট চন্দন দাস মহোদয়।”
তিনি আরো বলেন সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে নির্বাচনের বিশেষ সময়ে অনুষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী শিব চতুর্দশী মেলা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।তাছাড়া ও স্থানীয় রাজনীতিক বিদ ও সংশ্লিষ্ট মহল সর্বাত্মক আন্তরিকতা দিয়ে এই অনুষ্ঠানকে সম্পন্ন করার জন্য সব রকমের সহযোগিতা করা যাচ্ছে।তিনি প্রশাসন রাজনীতিবিদ সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
তিনি একান্ত সাক্ষাৎকারে সকল দর্শনার্থী ও পূর্ণর্থীদের উদ্দেশ্যে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন,” আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে ও স্বাচ্ছন্দে সকল মাঙ্গলিক কার্যক্রম অংশগ্রহণ করে নিজেদের মহৎ উদ্দেশ্য পূর্ণ করুন। আমি প্রত্যাশা করি প্রতি বছরের ন্যায় আপনারা এই বছরও সানন্দে সকল মাঙ্গলিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন।”

প্রসঙ্গত বলতে চাই সনাতন সম্প্রদায় বা হিন্দু ধর্মালম্বীদের তিনদিন ব্যাপী শিব চতুর্দশী তিথি উপলক্ষে মেলায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী পবিত্র ব্যাসকুন্ডে পুণ্যস্নান করে শিব স্নান,বিভিন্ন পূজা সহ,মঠ মন্দির দর্শনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিভিন্ন মাঙ্গলিক কাজে অংশগ্রহণ করে থাকে।তাছাড়া ও এই তিথিকে কেন্দ্র করে ভারত,শ্রীলংকা,নেপাল,লন্ডন সহ বিভিন্ন রাষ্ট্র থেকে লক্ষ লক্ষ পূর্নাথীর আগমন ঘটে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রতিবছর ফাল্গুন মাসের শিব চতুর্দশী তিথিতে (শিবরাত্রি)আদিনাথ ও চন্দ্রনাথ ধামে তীর্থযাত্রীদের তিনদিনের এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।বঙ্গোপসাগরের শাখা স্বন্দীপ চ্যানেলের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় এক হাজার ২০০ফুট উপরে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চুড়ায় থাকা চন্দ্রনাথধাম দর্শন করায়ই তীর্থযাত্রীদের মূল লক্ষ্য। প্রতিবছর শিবচতুর্দশীতে এ মন্দির পরিক্রমায় কষ্টের আঁকাবাঁকা পাহাড়িপথ প্রায় সাড়ে তেরশত সিঁড়ি পাড়ি দিয়ে চন্দ্রনাথ ধামে উঠে পূর্ণ্যার্থীরা।

মেলায় চতুর্দশী তিথিতে পূর্বপুরুষদের নামে ব্যাসকুণ্ডে স্নান-তর্পন, গয়াকুণ্ডে পিণ্ডদান করে তীর্থ যাত্রীরা। এছাড়া সীতাকুণ্ডে বিভিন্ন স্হানে থাকা অন্তত ৫০টি মঠ-মন্দির পরিক্রমা করবেন। ধর্মীয় এ মেলাকে ঘিরে বসে তৈজসপত্র, পাঠ্যপুস্তুক, খাবারের দোকান, খেলনা, আসবাবপত্রসহ নানা পন্যের দোকান। মেলায় আগত পূর্ণ্যার্থীরা ধর্মীয় আচার শেষ করে কেনাকাটা করে বাড়ি ফিরেন পূর্নাথীরা।তবে গত তিন বছর ধরে চন্দ্রনাথ ধাম সারাদেশের পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয় একটি স্থান। তরুনেরা সারা বছর এ চন্দ্রনাথ ধাম আগমন করে থাকেন।
সাইন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন দাশগুপ্ত মহোদয় আরো জানান,আমাদের বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান শিব চতুর্দ্দশী মেলা সুন্দরভাবে পালনে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ সহ প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।মেলা চলাকালীন সময় সবধরনের সহযোগিতা চাই ।এই মেলায় ১৫ থেকে ২০ লাখ দর্শণার্থীর আগমন ঘটবে।দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সীতাকুণ্ডে পুণ্যার্থী বহনকারী এক হাজারেও অধিক বাস আসবে বলে ধারনা করছি।তাছাড়াও রেলপথে প্রচুর পুন্যত্তীর আগমন ঘটে।







