, ,

স্বৈরাচারী পতিত লীগের দোসর গনপুর্তের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মনিরুল ইসলামকে প্রাইজ পোস্টিং হিসাবে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে পদায়ন

নিউজটি শেয়ার করুন

শেখ নাজমুল: পতিত লীগ সরকারের দোসর গনপুর্ত অধিদপ্তরের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামকে পুরস্কার হিসেবে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুত্রে যানা গেছে, স্বৈরাচারী পতিত লীগ পন্থী হিসেবে নিজেকে জাহির করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা লীগ সরকারের আমলে। লীগের দাপট দেখিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছিলো বিগত লীগ সরকারের আমলে। এখনো বহাল তরিয়াতে ঘুষ বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন দেদারসে। নিষিদ্ধ ঘষিত পতিত লীগ সরকারের পুর্নবাসন করতে মারিয়া হয়ে উঠেছেন সাবেক তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম। সুত্রে আরও যানা যায়,
স্বৈরাচার দোসর হওয়া সত্ত্বেও বাগিয়ে নিয়েছেন সকল সুযোগ সুবিধা
জুলাই গণহত্যা স্মৃতি জাদুঘরের প্রকল্প পরিচালক বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদ নেতা মনিরুল ইসলাম।

জুলাই আন্দোলনের পরে দেশে সংস্কারের হাওয়া বয়ে গেলেও সরকারি দপ্তরগুলোতে তেমন কোনো সংস্কারই হয়নি। পতিত আওয়ামী সরকারের আমলে সরকারি চাকুরীরত অবস্থায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত সরকারি কর্মকর্তারা ধরাছোঁয়ার বাহিরেই রয়ে গেছেন। তারা অনিয়ম দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েও তিরষ্কারের বদলে পাচ্ছেন পুরষ্কার। তেমনই অভিযোগ উঠেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। মনিরুল বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়া সত্ত্বেও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব পেয়েছেন। গনপুর্ত অধিদপ্তরের কর্মরত সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝে চলছে নানান গুনজন। এছাড়াও তিনি জুলাই গণহত্যা স্মৃতি জাদুঘরের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সেখানে রাত কে দিন আর দিন কে রাত বানিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা বলে একাধিক কর্মকর্তারা এই প্রতিবেদককে জানান।
সুত্রে আরও জানা যায়, গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ২৫.০০.০০০০.০০০.১৩০.১১.০০০২.২৫-১২ স্মারকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদ থেকে চলতি দায়িত্বে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী করে। মনিরুলের এই নতুন পদায়নকে গণপূর্ত সংশ্লিষ্ট অনেকেই প্রাইস পোস্টিং বলছেন। তাদের মতে মনিরুল ইসলাম সাবেক আওয়ামী সরকারের আমলেও সুবিধাভোগী ছিলেন। বর্তমান সরকারের আমলেও সুবিধা নিয়েই যাচ্ছেন। টাকার বিনিময়ে সবসময় মনিরুল সুবিধা আদায় করে নেন বলে জানান তারা।

এছাড়াও একটি অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, পতিত আওয়ামী লীগের বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়া সত্ত্বেও মনিরুল চব্বিশের জুলাই গণহত্যা স্মৃতি জাদুঘরের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব বাগিয়ে নিয়েছেন। এই দায়িত্ব পালনে তিনি নিজেকে পতিত আওয়ামী লীগের সকল অপকর্ম থেকে পরিশুদ্ধ দেখিয়েছেন বলেও জানা যায়। কিন্তু তিনি প্রকল্প পরিচালক হিসেবে এখনো আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগপত্রে উঠেছে। মনিরুল জুলাই গণহত্যা স্মৃতি জাদুঘরে যেই ঠিকাদারই কাজ করুক না কেন, সাব-কন্ট্রাক্টর এর কাজ বাধ্যতা মূলকভাবে প্যারাডাইম এর ফয়সালকে দিতে বাধ্য করছেন বলে জানা যায়। এই প্যারাডাইম, বিতর্কিত সাবেক সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকারের একটি প্রতিষ্ঠান। প্যারাডাইমকে কাজ দেয়া নিয়ে মন্ত্রনালয় এবং দুদকে তদন্ত চলার ফলে সুকৌশলে অন্য নামে কন্সোর্টিয়াম করে কাজ করছে প্যারাডাইম। অভিযোগপত্রে আছে, মনিরুল ইসলাম ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২ এর সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী এ. এস. এম. সানাউল্লাহকে সাথে নিয়ে প্রথম ধাপে প্যারাডাইমকে দিয়ে অতি উচ্চমূল্যে প্রাক্কলন করে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়া (ডিপিএম) করার পায়তারা করেছিলেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন জোনের তৎকালীন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী চুরি ধরতে পেরে এই দুই কোটি টাকার প্রাক্কলন কেটে দেন। মন্ত্রনালয়ও আর ডিপিএম এর অনুমতি দেয়নি। এ কথা সর্বজন বিদিত যে, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ–২ এ দায়িত্ব পালনকালে সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী এ. এস. এম. সানাউল্লাহ, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের ভেরিয়েশন, টেন্ডার বাবদ পার্সেন্টেজ কালেক্ট করতেন। ফলে তাকে ওটিএম করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দেয়ার অনুমতি দিয়ে রেখেছিলেন শামীম আখতার। সানাউল্লাহর মাধ্যমে মনিরুল ইসলাম তার ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের একাধিক কাজ পাইয়ে দিয়েছেন বলেও অভিযোগপত্র উঠেছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ওপেন টেন্ডার মেথডে নিয়ম ভেঙে কাজ দেওয়া হলেও অনেক প্রকল্প শেষ না হতেই পুরো বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এসব কাজের আইডি নম্বর ৯৯৪৬৪৬, ৯৯৪৬৪৭, ৯৯৪৮১৭, ৯৯৪৮১৮, ৯৯৪৮৮০, ৯৯৫৬৪৭, ৯৯৭৮২৫, ৯৯৭৮২৬, ৯৯৭৮২৭ ও ৯৯৭৮২৮।

অভিযোগপত্রে আরো দেখা যায়, মনিরুল ইসলাম বিগত দুই অর্থবছরে বেশ কয়েকটি ডিভিশনের উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনযোগ্য ভেরিয়েশন অনুমোদনের ফাইল উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নিয়ে নিজে পাশ করে দিয়েছেন। ২০২৪ সালে ২৯ ডিসেম্বর এবং ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি এলটিএম বাদ ২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ওটিএমে দরপত্র আহ্বান করে নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে উঠেছে। অনিয়ম হওয়ার অভিযুক্ত ওই দরপত্রগুলোর আইডি: ১০১৮০৭৫, ১০৫৬০৭৩, ১০৫৬১৩৭, ১০৫৬১৩৮, ১০৫৬১৪৫, ১০৫৬১৪৮, ১০৫৭১০১, ১০৫৭১৯৬, ১০৫৭৯৪৫, ও ১০৫৭৯৪৭।

এছাড়াও অভিযোগপত্রে আরো দেখা যায়, আরবরিকালচার বিভাগে মনিরুল নিজের অনুসারী কর্মকর্তার মাধ্যমে ভুয়া ফুলগাছ রোপণ বিল, বিজ্ঞাপনে অনিয়ম,ভুয়া ভাউচারে অর্থ উত্তোলন করে বিপুল সরকারি অর্থ আত্মসাত করেছেন।

এদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা তাদের অনিয়ম ও দুর্নীতির ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ও গণমাধ্যমের মুখ বন্ধ করার জন্য নতুন পন্থা অবলম্বন করছেন। গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলেই সংবাদের সত্যতা তদন্ত না করে গণপূর্ত অধিদপ্তর সংবাদের প্রতিবেদককে হলুদ সাংবাদিক ও পত্রিকার ডিক্লিয়ারেশন বাতিল করার জন্য বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল বরাবর আবেদন করছে। কিন্তু গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এই সংবাদ মাধ্যমেই তাদের দুর্নীতির সংবাদ পেয়ে সেই দুর্নীতির সত্যতা তদন্তে প্রমাণ পেয়েই গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুল ইসলাম ও নির্বাহী প্রকৌশলী জোয়ারদার তাবেদুন নবীকে তিরষ্কার ও গত ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ তারিখে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামান সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
লীগের দোসর দুনীতিবাজ কর্মকর্তা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী চলতি দায়িত্ব পাওয়া মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের অপসারণ করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ কর্মকর্তাগন।