শরতের কাশফুল বিদায় নিয়েছে সদ্যই। প্রকৃতিতে এখন কুয়াশার ওড়না জড়িয়ে আগমন ঘটেছে ঋতুশ্রী হেমন্তের। এই হেমন্তের হিমেল হাওয়া ও নবান্নের আনন্দকে বরণ করে নিতে এক বর্ণিল ও নান্দনিক ‘হেমন্ত সন্ধ্যা’র আয়োজন করেছিল রাজধানীভিত্তিক কুমিল্লা অঞ্চলের সাংবাদিকদের সংগঠন ‘কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা’ (সিজেএফডি)। গান, কবিতা আর ঐতিহ্যবাহী পিঠা-পুলির সুবাসে আয়োজনটি রূপ নিয়েছিল এক টুকরো গ্রামীণ উৎসবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর পরিবাগের ‘সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্র’ প্রাঙ্গণে বসেছিল এই প্রাণের মেলা। সিজেএফডি-র সভাপতি সাঈদ আহমেদ খানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন জসিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি রূপ নেয় সাংবাদিক ও সুধীজনদের এক মহাসম্মিলনে।
Pঅনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক সদস্য ড. মোহাম্মদ আলী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ড. নজরুল ইসলাম, জয়পুর হোমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম এফসিজিএ এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মিজানুর রহমান।
এছাড়াও সিজেএফডির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহমুদুর রহমান খোকন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম, সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল অদুদ ও এম মোশাররফ হোসাইন এবং এবারের হেমন্ত সন্ধ্যা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বেলালসহ ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে আয়োজনের গৌরব বৃদ্ধি করেন।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বটি ছিল এক কথায় অনবদ্য। জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী দিঠি আনোয়ারের উপস্থিতি শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী মনির হোসেন, শামীমা নাসরীন, হাফসা পলিন, রিজওয়ান কাদের কচি, রাশিদা রাশি, শারমীন সুলতানা রিনা, মহিন উদ্দিন স্বপন ও এসএ কিরণের সুরের মূর্ছনা পরিবাগের সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রকে মোহময় করে তোলে। বিশিষ্ট শিল্পী অর্জুন বিশ্বাসের জীবনভিত্তিক গান শ্রোতাদের হৃদয়ে গভীর আবেগ সৃষ্টি করে।
এদিকে, আবৃত্তি শিল্পী সীমা ইসলাম, জুনান নাশিত ও দুলাল চৌধুরীর কণ্ঠে কবিতার পঙক্তিমালা যেন হেমন্তের হিমেল হাওয়ায় অন্যরকম এক দোলা দিয়ে যায়। ছড়াকার ও সাংবাদিক প্রণব কুমার মজুমদার এবং সালাম ফারুকের চমৎকার উপস্থিতি ও রসাত্মক উপস্থাপন পুরো অনুষ্ঠানকে আরও জমজমাট করে তোলে। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিল ‘সিন্দাবাদ শিল্পী গোষ্ঠী’। তাদের কণ্ঠে কুমিল্লার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবগাথা নিয়ে পরিবেশিত গানগুলো অনুষ্ঠানজুড়ে এক ভিন্ন আবহ তৈরি করে, যা উপস্থিত সবাইকে শেকড়ের টানে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
শুধু গান আর কবিতাই নয়, হেমন্তের আসল আমেজ তো লুকিয়ে থাকে নবান্নের পিঠায়। তাই উৎসবের দিন বিকেল ৪টা থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী পিঠা-পুলি তৈরির ধুম। ভাপা, চিতইসহ হরেক রকমের শীতকালীন ও নবান্নের পিঠার স্বাদ নিতে নিতে সিজেএফডির সদস্য এবং তাদের পরিবার-পরিজনরা এক অনাবিল আনন্দে মেতে ওঠেন।
বিকেল গড়িয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত চলা এই সুর, সাহিত্য ও পিঠার যুগলবন্দি শহরের ব্যস্ত যান্ত্রিক জীবনে এক পশলা গ্রামীণ সজীবতা এনে দিয়েছিল। সমাপনী বক্তব্যে আয়োজকরা জানান, ইট-পাথরের এই ব্যস্ত নগরীতে নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতেই তাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস, যা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।





