, ,

সিলেট সিটি কর্পোরেশনে নতুন প্রশাসকের কঠোর বার্তা: ‘দেরি করে অফিসে আসলে বিহিত ব্যবস্থা’

নিউজটি শেয়ার করুন

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) নতুন প্রশাসক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি জনাব মোঃ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই নগর ভবনের প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা ফেরাতে এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

প্রথম দিনেই কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অসন্তোষ
অফিসে যোগদানের প্রথম দিনেই কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মস্থলে উপস্থিতির হার দেখে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন নতুন প্রশাসক। নির্ধারিত সময়ে অনেক ডেস্কে সংশ্লিষ্টদের না পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানান, জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের শৈথিল্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন:

“আজকের পর থেকে যদি কেউ সঠিক সময়ে অফিসে উপস্থিত না হন কিংবা জনসেবায় অবহেলা করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নগরবাসীর ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

সিলেটবাসীর প্রত্যাশা: আধুনিক ও হকারমুক্ত নগরী
দীর্ঘদিন ধরে পুঞ্জীভূত হওয়া সিসিকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে নতুন প্রশাসকের ওপর পাহাড়সমান প্রত্যাশা রাখছেন সিলেটবাসী। সচেতন মহলের মতে, সিলেটের প্রধান সমস্যা এখন যানজট, যত্রতত্র হকার দখল এবং পরিচ্ছন্নতার অভাব। সাধারণ নাগরিকদের প্রধান দাবিগুলো হলো:

হকারমুক্ত ফুটপাত: সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ সুগম করতে ফুটপাত থেকে অবৈধ হকার উচ্ছেদ করে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা।

পরিচ্ছন্নতা অভিযান: আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে সিলেটকে একটি স্বাস্থ্যসম্মত ও ঝকঝকে নগরী হিসেবে গড়ে তোলা।

নাগরিক সেবায় গতি: জন্ম নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তি নিরসন।

টেকসই উন্নয়ন: অপরিকল্পিত খনন বন্ধ করে টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও রাস্তাঘাট সংস্কার করা।

দ্রুত পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি
সিলেটবাসীর এসব দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে মোঃ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, তিনি নগরীকে একটি আধুনিক, সুশৃঙ্খল এবং পর্যটনবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে হকার সমস্যা নিরসন এবং যানজট কমিয়ে আনার বিষয়ে তিনি দ্রুত বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলের সাথে বসে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলে আশ্বাস দেন।

সিলেটের সুধী সমাজ মনে করছেন, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই ব্যক্তিত্বের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও কঠোর প্রশাসনিক তদারকি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের হারানো জৌলুস ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।