, ,

সিলেটে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা: পাষণ্ড চাচা গ্রেপ্তার

নিউজটি শেয়ার করুন

সিলেট সদর উপজেলার ৮নং কান্দিগাঁও ইউনিয়নে চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় পুরো সিলেট জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। পাষণ্ড চাচা জাকির হোসেন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এই জঘন্য হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে লাশ লুকিয়ে রাখার দুই দিন পর পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। স্থানীয় জনতা ও ভুক্তভোগী পরিবার এই ‘মানুষরূপী অমানুষের’ দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ ও নৃশংসতা সূত্রমতে, সিলেট সদর উপজেলার ৮নং কান্দিগাঁও ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জাকির হোসেন ইয়াবাসক্ত অবস্থায় নিজের আপন ভাতিজি ফাহিমাকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার করলে পাষণ্ড জাকির তার গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করে। হত্যাকাণ্ডের পর প্রমাণ লোপাট করতে সে শিশুটির নিথর দেহ নিজের ঘরের একটি বড় শুটকেসের ভেতর লুকিয়ে রাখে। দুই দিন ঘরের ভেতর লাশটি পড়ে থাকায় একপর্যায়ে তা থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গত গভীর রাতে অন্ধকার সুযোগ বুঝে জাকির লাশটি বাড়ি থেকে বের করে পার্শ্ববর্তী একটি নির্জন স্থানে ফেলে আসে।
উদ্ধার ও গ্রেপ্তার ফাহিমা নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি করছিলেন। গতকাল দুর্গন্ধের সূত্র ধরে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ তৎপরতায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘাতক জাকিরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে তার এই ভয়াবহ অপরাধের কথা স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে।এলাকায় উত্তেজনা ও ফাঁসির দাবি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে সিলেট সদর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাস্তায় নেমে ঘাতক জাকিরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। ফাহিমার পরিবারের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি: “যে হাত নিজের ভাতিজিকে রক্ষা করার কথা ছিল, সেই হাতে সে তাকে শেষ করে দিল। আমরা আর কিছু চাই না, এই নরপশুর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ফাঁসি কার্যকর দেখতে চাই।”পুলিশি তৎপরতা সিলেট জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আসামিকে ইতোমধ্যেই জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট গঠন করে খুনিকে আইনের আওতায় সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।
মাদক ও নৈতিক অবক্ষয় কীভাবে একটি সাজানো পরিবারকে ধ্বংস করে দিতে পারে, এই ঘটনা তারই এক ভয়াবহ চিত্র হিসেবে দেখছেন সমাজসেবীরা। আপাতত পুরো সিলেট এখন ফাহিমার বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।