, ,

সন্ত্রাসের বুলেট থামাতে পারল না আদর্শ, জঙ্গল সলিমপুরে শহীদ র‍্যাব সদস্য

নিউজটি শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাস দমনে অভিযানে গিয়ে এক র‍্যাব সদস্যের আত্মত্যাগ আবারও প্রমাণ করলো—রাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আপসহীন ও দৃঢ়।

সোমবার বিকেলে র‍্যাব-৭ এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা করতে গেলে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এই সময় সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে একজন র‍্যাব সদস্য ঘটনাস্থলেই শহীদ হন। হামলায় আরও তিনজন র‍্যাব সদস্য গুরুতর আহত হন। একই সঙ্গে সন্ত্রাসীরা তিনজনকে জিম্মি করে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করে।

নিহত র‍্যাব সদস্য অভিযানের শুরু থেকেই দায়িত্বশীল ও সাহসী ভূমিকা পালন করছিলেন। সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার মুখেও তিনি পিছু হটেননি; বরং দলকে নিরাপদ রাখতে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দেন। তার এই আত্মত্যাগ রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ও পেশাগত আদর্শের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য জঙ্গল সলিমপুর
জঙ্গল সলিমপুর এলাকা দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। ভূমি দখল, চাঁদাবাজি, অস্ত্র মজুত ও সংঘবদ্ধ অপরাধের অভিযোগে এলাকাটি বহুবার আলোচনায় এসেছে। দুর্গম পাহাড়ি ও বনাঞ্চল হওয়ায় সন্ত্রাসীরা এই এলাকাকে নিজেদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর বার্তা
হামলার পরপরই ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত র‍্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুরো এলাকা ঘিরে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলাকারীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। যারা রাষ্ট্রের ওপর আঘাত হেনেছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

র‍্যাব ও পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, শহীদ সদস্যের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। সন্ত্রাস নির্মূলে আরও সমন্বিত ও কঠোর অভিযান চলবে।
জাতির জন্য এক আত্মত্যাগ একজন র‍্যাব সদস্যের মৃত্যু শুধু একটি বাহিনীর ক্ষতি নয়—এটি পুরো জাতির শোক। দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে তার আত্মত্যাগ নতুন করে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানায়। সন্ত্রাসীদের বুলেট হয়তো একজনকে থামাতে পেরেছে, কিন্তু রাষ্ট্রের আদর্শিক লড়াইকে থামাতে পারেনি—এই বার্তাই আজ জঙ্গল সলিমপুর থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।