, ,

রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: দুর্গন্ধ, অপরিচ্ছন্নতা ও নিম্নমানের খাবার – রোগীর দুর্ভোগ চরমে!

নিউজটি শেয়ার করুন

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন যেন রোগ নিরাময়ের বদলে রোগ-যন্ত্রণার কেন্দ্রবিন্দু। ভর্তি হওয়া অসহায় ও দরিদ্র রোগীরা এখানে দুর্গন্ধ, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং নিম্নমানের খাবারের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা মানুষজন কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছ।
হাসপাতালের অভ্যন্তরে ঢুকলেই নাকে আসে তীব্র দুর্গন্ধ। অভিযোগ রয়েছে, শৌচাগারগুলি সবসময় অপরিষ্কার থাকে এবং দিনের পর দিন ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না। বর্জ্য ব্যবস্থাপনারও বেহাল দশা। হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা এবং শয্যার আশপাশেও যথেষ্ট পরিচ্ছন্নতার অভাব লক্ষ্য করা যায়।

ভর্তি হওয়া একাধিক রোগী জানান, “আমরা এখানে সুস্থ হতে এসেছি, কিন্তু এই অপরিষ্কার পরিবেশে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছি। মশা-মাছির উপদ্রব তো আছেই, বাথরুমের দুর্গন্ধে টেকা দায়। রাতে ঘুম আসে না, সারাক্ষণ কেমন যেন গা গুলিয়ে ওঠে।”

উপজেলা পর্যায়ের এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটির এমন বেহাল দশা দেখে হতবাক সাধারণ মানুষ। তাদের প্রশ্ন, যেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা, সেখানে কেন এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ?

পরিবেশের পাশাপাশি খাবারের মান নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভর্তিকৃত রোগীদের যে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত নিম্নমানের বলে জানিয়েছেন সকলে।

ভাত: অনেক সময় বাসি বা নিম্নমানের চালের ভাত দেওয়া হয়।

তরকারি: সবজি ও মাছ-মাংসের পরিমাণ ও মান খুবই খারাপ। প্রায়শই অরুচিকর এবং পরিমাণ কম দেওয়া হয়।

ডাক্তারি নির্দেশনার অভাব: পুষ্টিবিদ বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পথ্য তৈরি হচ্ছে না বলে অভিযোগ।

দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন এক বৃদ্ধ রোগী হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, “এই খাবার কোনো সুস্থ মানুষও খেতে পারবে না। পেট ভরে দু’মুঠো খাব, সেই উপায়ও নেই। গরীব মানুষ, বাইরে থেকে কিনে খাওয়ারও সামর্থ্য নেই। বাধ্য হয়েই উপোস থাকতে হচ্ছে।”

রোগীরা বলছেন, হাসপাতালে থাকা মানেই দ্রুত আরোগ্যের আশা, কিন্তু নিম্নমানের খাবার শরীরের দুর্বলতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

🗣 কর্তৃপক্ষের নীরবতা ও অসহনীয় ভোগান্তি
রোগীদের এই গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। অসহায় ও দরিদ্র রোগীরা, যারা নিরুপায় হয়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর নির্ভরশীল, তারাই সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।

বিষয়টি নিয়ে দ্রুত উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা জরুরি। দ্রুত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ, খাবারের মান উন্নত করা এবং সার্বিক সেবার মান বাড়ানোর পদক্ষেপ না নিলে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও কমতে থাকবে।

এলাকাবাসীর দাবি, জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ অবিলম্বে এই বিষয়ে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক এবং রোগীদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করুক।