স্বীকারোক্তি দিলেন গ্রেপ্তার দুই তরুণ, তদন্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন
রংপুর নগরীর কামালকাছনা এলাকার মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতরা হলেন—গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী।
গত শনিবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে রংপুরের দখীগঞ্জ মহাশ্মশানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে তাঁদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই তরুণ মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। তবে পুলিশের এই বক্তব্য নিয়ে নিহত পরিবারের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা এবং রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধও হয়েছে।
এরই মধ্যে মামলার তদন্তভার থানা পুলিশের কাছ থেকে গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-তে দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব ঘটনার কোনো অসংগতি রয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন।
চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো রংপুরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসী ও নিহত পরিবারের স্বজনরা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।







