মোহাম্মদ ফরহাদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা , জাতীয় মুক্তি , উদার মানবিক গণতন্ত্র এবং শ্রমজীবী মানুষের সামাজিক মুক্তির সংগ্রামের অকুতোভয় নায়ক। তিনি ছিলেন আমাদের শিক্ষক, অভিভাবক এবং অনুসরণীয় আইকন।
মোহাম্মদ ফরহাদ ছিলেন “আপনি আচরি ধর্ম পরেরে শিখাও”— নীতিতে বিশ্বাসী সাচ্চা শিক্ষক। দেশপ্রেম, সততা, নির্লোভ এবং সহকর্মীদের প্রতি সহানুভূতিশীল নেতা, সংগঠক এবং দৃঢচিত্ত আধুনিক মানুষ। রক্ষণশীল কমিউনিস্টদের মতো তত্ত্বের খাঁচায় বন্দি গণবিচ্ছিন্ন নেতা ছিলেন না। ছিলেন বাস্তববুদ্ধি সম্পন্ন ( Pragmatic) কৌশলী রাজনৈতিক নেতা।
বাংলাদেশের বাস্তবতায়, যেখানে বিপুল সংখ্যাগডি্ষ্ঠ মানুষ
প্রবলভাবে ধর্মবিশ্বাসী, সেকুলার বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনাও পশ্চাৎপদতায় আচ্ছন্ন, জাতিগঠন প্রক্রিয়া ( অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবোধ ও জাতীয় সংস্কৃতি) অসম্পূর্ণ এবং সমাজে শ্রেণি বিভাজন অসম্পূর্ণ সেখানে “ কমিউনিস্ট” নামে গণভিত্তিক পার্টি গডে্ তোলা যে কতটা দুরহ তা আমরা এক শতাব্দীর অভিজ্ঞতায় বুঝতে পারছি।
কমরেড শব্দটি পর্যন্ত কমিউনিস্টদের জনগণ ও অন্য রাজনৈতিক দল থেকে আলাদা করে। এই পরিপ্রেক্ষিত মনে রেখেই সত্তরের দশকে মোহাম্মদ ফরহাদ পার্টির নেতৃত্ব পর্যায়ে কমিউনিস্ট পার্টির নাম পরিবর্তনের বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। ১৯৮০ সালে ঢাকা জেলে থাকা কালে তিনি আমাকে ( অনেকেই জানেন) বলেছিলেন, সোভিয়েত পার্টিও নাম পরিবর্তনের বিষয়টি সমর্থন করেনি। তবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের সাথে তথা মূল ধারার সাথে ঐক্য ও সংগ্রামের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। মোহাম্মদ ফরহাদ তাই আমৃত্যু এই নীতি অনুসরণ করেছেন।
বাংলাদেশের বাস্তবতা হলো যে দুইবার পার্লামেন্টে যেতে পেরেছে এবং ভূমিকাও রেখেছে, সেই দুইবারই সিপিবিকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে হয়েছে।
মোহাম্মদ ফরহাদের স্মরণদিবসে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। আবারও বলছি তার মতো নীতিতে অটল এবং কৌশলে নমনীয় নেতা সে সময় জীবিত থাকলে ১৯৯৩ সালে সম্ভবত কমিউনিস্ট পার্টি ভাঙন এড়াতে পারত।❤️মোহাম্মদ ফরহাদ চিরন্জীব।❤️






