জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় একটি বসতবাড়িতে সশস্ত্র হামলা, মারধর ও দুর্ধর্ষ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) সকালে উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের লোটাবর (বন্দধুলি) গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। হামলায় আহতদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহকর্তা আজাদ (৪২) বাদী হয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে কাজীপুর থানা এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন (৫০), মো. বাদশা ফকির (৬০), মো. রনি (৩০)-সহ অন্তত ১০ জন নামীয় এবং আরও ১৯-২০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আজাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে বাড়ির নারী ও সদস্যদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
হামলায় আজাদের মা ও স্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম হন। স্থানীয়রা জানান, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে তারা জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা তাণ্ডব চালানোর সময় আজাদের মায়ের গলা ও কান থেকে ২ ভরি এবং স্ত্রীর গলা থেকে ১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। এছাড়াও ঘরে ঢুকে আলমারি ও বাক্সের তালা ভেঙে নগদ প্রায় ১০ লাখ টাকা এবং গোয়ালঘর থেকে ১ লাখ টাকা মূল্যের একটি ষাঁড় গরু নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এসময় শ্লীলতাহানির মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনাও ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
কাজীপুর থানার বাসিন্দারা মাদারগঞ্জ এলাকায় এসে এভাবে দিনদুপুরে হামলা ও লুটপাট চালানোর ঘটনায় লোটাবর গ্রামে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
মাদারগঞ্জ মডেল থানা সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি তদন্ত করছে।







