মাগুরার শ্রীপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের হামলায় আহত আমিরুল মোল্যা (৫৫) নামের এক ব্যক্তি ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ৩দিন পরে মৃত্যু হয়েছে।
তার মৃত্যুর খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের ঘর বাড়িসহ আশে পাশের অন্তত ১০ টি ঘর বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। তবে এলাকাবাসীর দাবি যাদের ঘরবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে তারা হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত না। হামলাকারীরা বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুরের পাশাপাশি গরু-ছাগল, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা পয়সা লুটপাট করে নিয়ে যায়। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৪ টার দিকে উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের সভাশতডাঙ্গা গ্রামে ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সুভাশতডাঙ্গা গ্রামের নিহত আমিরুল মোল্যার সাথে প্রতিবেশী আবুজার মন্ডল, তবিবর মন্ডল ও ফরিদ বিশ্বাসের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জেরে গত ১৪ জুলাই মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে প্রতিবেশী ফরিদ বিশ্বাসের ঘরের টিনের চালে বিকট শব্দ হলে তাদের ধারনা হয় আমিরুল মোল্লা তার টিনের চালে ইট মেরেছে। এ নিয়ে বিশ্রিভাষায় বকাবকির এক পর্যায়ে আমিরল মোল্লা বাড়ি হতে বের হয়ে রাস্তায় এসে তর্কে জড়িয়ে পড়লে আবুজার মণ্ডল, তবিবর মণ্ডল, ফরিদ বিশ্বাস, ফিরোজ বিশ্বাস ও মিরাজ বিশ্বাস দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমিরুল মোল্যাকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। পরে তাকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। এ ঘটনায় নিহত আমিরুল মোল্যার ছোট ভাই আব্দুল মোল্যা বাদী হয়ে ওই ৫ জনের নাম উল্লেখ করে শ্রীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। শুক্রবার রাত ১ টা ৩০ মিনিটের দিকে ঢাকা শ্যামলী ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমিরুল মোল্যার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সংবাদ তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে বৃহস্পতিবার রাত ৪টার দিকে ভাঙচুর-লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সালামত বিশ্বাসের ৩টি গরু,ও নগদ এক লক্ষ টাকা, মোসলেম বিশ্বাসের নগদ ৫০হাজার টাকা ও স্বর্নালংকার, তারিকুলে ১টি গরু, বসির আহম্মদের ১টি গরু,আতিকুলের ১টি গরু ও রওশনের ৩টি গরু আবুল বিশ্বাস, হাসান বিশ্বাসের বাড়িসহ অন্তত ১০ টি বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর কয়েকজনের সাথে কথা বললে তারা জানান, মূলত যারা সেদিন এ ঘটনা সাথে জড়িত ছিল তাদের প্রত্যেকের নাম উল্লেখ করে তার ছোট ভাই বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। আমাদের যাদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে এ ঘটনায় আমরা কেউই জড়িত না। শুধু শুধু আমাদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুরও লুটপাট করা হয়েছে।
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওলি মিয়ার একান্ত প্রচেষ্টায় ও শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বদরুল আলম হিরো ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আব্বাস উদ্দিনের সহযোগিতায় পরিবেশ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ঘটনাটি জানা মাত্রই সেখানে ছুটি আসেন মাগুরা জেলার মানবিক পুলিশ সুপার জনাব মোল্লা আজাদ হোসেন। তিনি আইনের প্রতি সম্মান রেখে সকলকে শান্ত থাকতে বলেন। তিনি আরো বলেন কোন নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির স্বীকার না হয়। তিনি জানান ন্যায় বিচারের স্বার্থে শ্রীপুর থানা পুলিশ ও মাগুরা জেলা পুলিশ সবধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।







