, ,

মহালয়ায় ‘মাতৃরূপে সংস্থিতা’: অন্তর সরকারের পরিচালনায় নৃত্যনাট্যে দেবীশক্তির মহিমা

নিউজটি শেয়ার করুন

মহালয়ার পবিত্র আবহে দেবী মহামায়ার মহিমা, অসুরবিনাশিনী রূপ এবং পৌরাণিক কাহিনি অবলম্বনে ব্যতিক্রমী নৃত্যনাট্য ‘মাতৃরূপে সংস্থিতা’ মঞ্চস্থের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর সরকার পরিচালিত অন্তর নৃত্য নিকেতন।

আমলাপাড়া সার্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটির আয়োজনে নির্মিত এই বিশেষ প্রযোজনায় নৃত্য, অভিনয় ও শৈল্পিক অভিব্যক্তির মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে দেবীশক্তির মাহাত্ম্য এবং শুভশক্তির বিজয়ের বার্তা।

প্রায় এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের এই নৃত্যনাট্যে উঠে এসেছে শিব-পার্বতীর পৌরাণিক কাহিনি, পার্বতীর মহাকালী রূপে আবির্ভাব, মহিষাসুরের বরপ্রাপ্তি এবং দেবী দুর্গার সঙ্গে মহিষাসুরের যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ আখ্যান। নৃত্য ও অভিনয়ের সমন্বয়ে পৌরাণিক ঘটনাপ্রবাহকে দর্শকদের সামনে জীবন্ত করে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

নৃত্যনাট্যটির পরিকল্পনা, পরিচালনা ও মঞ্চায়নের দায়িত্বে রয়েছেন নৃত্য পরিচালক ও সংস্কৃতিকর্মী অন্তর সরকার। তাঁর সৃজনশীল ভাবনা ও নির্দেশনায় বাংলাদেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাজানো হয়েছে এই বিশেষ সাংস্কৃতিক প্রযোজনা।

নৃত্যনাট্যটি মঞ্চে তুলে ধরতে শিল্পীদের প্রায় দেড় মাস ধরে নিবিড় মহড়া ও প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। নৃত্যের মুদ্রা, চরিত্রের অভিব্যক্তি, মঞ্চ পরিকল্পনা এবং পৌরাণিক কাহিনির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রতিটি দৃশ্য নির্মাণে দেওয়া হয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। শিল্পীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, নিষ্ঠা ও দীর্ঘ প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে প্রযোজনাটিকে নান্দনিকভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।

পরিচালক অন্তর সরকারের ভাবনায় ‘মাতৃরূপে সংস্থিতা’ কেবল একটি নৃত্যনাট্য নয়; বরং দেবীশক্তির মহিমা, নারীশক্তির জাগরণ এবং অশুভের বিরুদ্ধে শুভশক্তির বিজয়ের এক শিল্পিত প্রকাশ। নৃত্য ও অভিনয়ের মাধ্যমে পৌরাণিক ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে সমৃদ্ধ করাই এ প্রযোজনার অন্যতম উদ্দেশ্য।

মহালয়া বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এই গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষকে কেন্দ্র করে এমন একটি বৃহৎ নৃত্যনাট্য নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে আমলাপাড়া সার্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটি। আয়োজকদের এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় অনুভূতি, শিল্পচর্চা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি সম্মিলিত প্রকাশ ঘটবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

সংস্কৃতির বিকাশ, পৌরাণিক ঐতিহ্যের সংরক্ষণ এবং বাংলাদেশের শিল্পীদের প্রতিভা তুলে ধরার এই প্রয়াস দর্শকদের মধ্যে দেবী মহামায়ার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভক্তির অনুভূতি জাগিয়ে তোলার পাশাপাশি শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ বাড়াতেও ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আয়োজনে: আমলাপাড়া সার্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটি
পরিবেশনায়: অন্তর নৃত্য নিকেতন
পরিকল্পনা ও পরিচালনায়: অন্তর সরকার