পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ময়মনসিংহ নগরীতে বর্ণাঢ্য ও বিশাল জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৯টায় শম্ভুগঞ্জস্থ লালকুঠি পাক দরবার শরীফের উদ্যোগে আয়োজিত এ জশনে জুলুসে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লির অংশগ্রহণে নগরীর বিভিন্ন সড়ক উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
সকাল থেকেই লালকুঠি পাক দরবার শরীফ প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন বয়সী ধর্মপ্রাণ মানুষ। নির্ধারিত সময়ে দরবার শরীফ থেকে জশনে জুলুস বের হলে সৃষ্টি হয় প্রাণবন্ত ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ। অংশগ্রহণকারীরা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন এবং তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান।
জশনে জুলুসের নেতৃত্ব দেন মুজাদ্দেদীয়া তরিকত মিশনের সদর দপ্তর লালকুঠি দরবার শরীফের গদীনশীন খাজা মুহাম্মদ সুজা উদ দৌলা নকশেবন্দী মুজাদ্দেদী।
লালকুঠি পাক দরবার শরীফ থেকে শুরু হওয়া জশনে জুলুসটি ব্রীজ মোড়, রেলীর মোড়, বিপিন পার্ক, দুর্গাবাড়ী রোড, গাঙ্গিনারপাড় মোড়, রেলওয়ে স্টেশন ট্রাফিক মোড় ও রেলীর মোড় হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে ব্রীজ মোড় অতিক্রম করে দীর্ঘ পথ পরিক্রমা শেষে পুনরায় লালকুঠি পাক দরবার শরীফে গিয়ে জশনে জুলুসের সমাপ্তি ঘটে।
জশনে জুলুসে অংশ নেওয়া ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা বলেন, ইসলাম শান্তি, মানবতা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির ধর্ম। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর পুরো জীবনজুড়ে মানুষের কাছে শান্তি ও মানবিকতার বাণী পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সহনশীলতা ও কোমলতা ধারণ করতে হবে।
তারা বলেন, ইসলামে হিংস্রতা, উগ্রতা ও বর্বরতার কোনো স্থান নেই। মহানবী (সা.) মানুষের সঙ্গে কোমল আচরণ, ক্ষমাশীলতা ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়েছেন। বর্তমান সময়ে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর সেই আদর্শকে ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে পরিবার ও সামাজিক জীবনে ধারণ করা জরুরি।
অংশগ্রহণকারীদের ভাষ্য, মহানবী (সা.)-এর শান্তির বার্তা শুধু ধর্মীয় অনুশাসনের বিষয় নয়, এটি মানবিক সমাজ বিনির্মাণেরও অন্যতম ভিত্তি। মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও ভালোবাসা বৃদ্ধি পেলেই সমাজ থেকে হিংসা, বিদ্বেষ ও সংঘাত কমে আসবে।
বর্ণাঢ্য এ জশনে জুলুসকে ঘিরে নগরীর বিভিন্ন সড়কে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল উৎসাহ ও ধর্মীয় আবেগ। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে লালকুঠি পাক দরবার শরীফে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা ঈদে মিলাদুন্নবীর তাৎপর্য উপলব্ধি করে মহানবী (সা.)-এর আদর্শকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অনুসরণের আহ্বান জানান। তাদের প্রত্যাশা, ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও শান্তির এই বার্তা ব্যক্তি থেকে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়বে।







