মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের জারিকৃত জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠন কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধনের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
আমরা গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠন ও নির্বাচনসংক্রান্ত প্রবিধানমালা-২০২৬ প্রণয়নের বিরোধী নই। বরং একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও যুগোপযোগী প্রবিধানমালা প্রণয়নকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে নতুন প্রবিধানমালা চূড়ান্ত না হওয়ার অজুহাতে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠন ও নির্বাচনী কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
আমাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য হলো—নির্বাচিত অভিভাবক প্রতিনিধি ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা ছাড়া একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘদিন স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা কঠিন। অনির্বাচিত বা অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। অন্যদিকে, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অভিভাবকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হয়।
দুঃখজনকভাবে, বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এ ধরনের সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত প্রতিনিধি পাওয়ার পথ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নতুন প্রবিধানমালা প্রণয়নের কাজ চলমান থাকলেও বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করা উচিত। প্রবিধানমালা প্রণয়নের প্রক্রিয়াকে নির্বাচন বন্ধ রাখার স্থায়ী অজুহাতে পরিণত করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। একই ব্যক্তির বারবার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং একই সদস্যদের পুনঃপুন অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইন, বিধি ও নিয়োগসংক্রান্ত নির্দেশনার আলোকে স্বচ্ছ তদন্ত ও ব্যাখ্যা প্রয়োজন। একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন না হওয়া অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
আমরা জানতে চাই, নতুন প্রবিধানমালা প্রণয়নের প্রক্রিয়া চলাকালে নির্বাচন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা কী? শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিশ্চিত করার পরিবর্তে অনির্বাচিত কমিটির কার্যক্রম দীর্ঘায়িত হলে এর দায়ভার কে নেবে? শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
আমাদের দাবিসমূহ
১. গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠনসংক্রান্ত প্রবিধানমালা-২০২৬ দ্রুত চূড়ান্ত করতে হবে।
২. আইন ও বিদ্যমান বিধিবিধানের আলোকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন কার্যক্রম দ্রুত চালুর ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. প্রবিধানমালা চূড়ান্ত না হওয়ার অজুহাতে অনির্দিষ্টকালের জন্য নির্বাচন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
৪. ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আমাদের আহ্বান—অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিশ্চিত করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করুন।
আমাদের স্লোগান:
“শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণতন্ত্র চাই, নির্বাচিত প্রতিনিধি চাই।”
“অ্যাডহক কমিটির দীর্ঘসূত্রতা নয়, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হোক।”
আয়োজনে:
সচেতন অভিভাবকবৃন্দ ও শিক্ষার মানোন্নয়নে আগ্রহী নাগরিকবৃন্দ
উপস্থিত ছিলেন:
আসমা হোসাইন, এন এ এম ইফতেখার মোমিন সহ অন্যান্য নেত্রী বৃন্দ







