বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) এ বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হয় বিশ্ব ডিম দিবস ২০২৬।
৯ অক্টোবর সকালে বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষ্যে বিএলআরআই কর্তৃক আয়োজিত হয় বর্ণাঢ্য একটি র্যালি। উক্ত র্যালিতে বিএলআরআই-এর সর্বস্তরের বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ অংশগ্রহণ করেন। র্যালিটি বিএলআরআই-এর পোল্ট্রি রিসার্চ সেন্টার প্রাঙ্গন থেকে শুরু হয়ে বিএলআরআই এর অভ্যন্তরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালি শেষে বিএলআরআই-এর পোল্ট্রি রিসার্চ সেন্টার সংলগ্ন ফটক এলাকায় পথচারীদের মধ্যে ডিম বিতরণ করা হয়।
সকাল ১০.০০ ঘটিকায় বিএলআরআই-এর চতুর্থ তলার সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষ্যে সেমিনার ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উক্ত আলোচনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আওতাধীন কেন্দ্রীয় গো প্রজনন ও দুগ্ধ খামার, সাভার এর পরিচালক জনাব মো. শহিদুল ইসলাম। আর আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পোল্ট্রি রিসার্চ সেন্টারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সাজেদুল করিম সরকার।
পবিত্র কোরআন থেকে তিলওয়াতের মধ্য দিয়ে সেমিনার ও আলোচনা অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পোল্ট্রি রিসার্চ সেন্টারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হালিমা খাতুন। এরপর “Egg production and consumption scenario in Bangladesh, Asia and Globe- way forward” শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মো. সাজেদুল করিম সরকার। এসময় তিনি তার উপস্থাপনায় বিশ্ব ডিম দিবস পালনের ইতিহাস, তাৎপর্য ও গুরুত্ব, ডিম খাওয়ার উপকারিতা ও গুরুত্ব এবং বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্প ও ডিম উৎপাদনের অতীত ও বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের পরে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষজ্ঞ আলোচনা পর্ব। এসময় আলোচনায় অংশ নেন পোল্ট্রি রিসার্চ সেন্টারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. কামরুননাহার মনিরা এবং ডেইরি রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং সেন্টারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. রাকিবুল হাসান। বিশেষজ্ঞ আলোচনা পর্বের পরে অনুষ্ঠিত হয় উন্মুক্ত আলোচনা এসময় আলোচকগণ ডিমের উৎপাদন বাড়ানোয় গুরুত্ব আরোপের পাশাপাশি ডিম হতে ভ্যালু অ্যাডেড প্রোডাক্ত উৎপাদন ও প্রোডাক্ট ডাইভারসিফিকেশন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণে জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে মানুষকে জানানোর জন্যই ডিম দিবসের সূচণা। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ডিমের গুণাগুণ ও ডিম গ্রহণের গুরুত্ব সম্পর্কে সকলকে সচেতন করতে হবে। বিএলআরআই এর বিজ্ঞানী-গবেষকরা যদি গবেষণার ফল প্রচারের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে, তবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী দ্রুত গবেষণার ফলাফল জানতে পারবে, গবেষণালব্ধ তথ্য জানতে পারবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ও আয়োজকগণকে ধন্যবাদ জানান ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বিএলআরআই আঞ্চলিক কেন্দ্র, রাজশাহী এর স্টেশন ইনচার্জ ড. মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ।
ডিমের পুষ্টিগুণ ও গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এগ কমিশন (আইইসি) ১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় প্রথম ‘বিশ্ব ডিম দিবস’ পালনের আয়োজন করে, যা পরবর্তী সময়ে প্রতিবছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার পালিত হয়ে আসছে। বিশ্বের অপরাপর দেশের মতো বাংলাদেশ তথা বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটও দিবসটি পালন করে আসছে। এবছর ডিম দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে “ডিমে পুষ্টি ডিমে শক্তি, ডিমে আছে রোগ মুক্তি”।







