দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, ব্যাংকিং, প্রশাসন ও গণমাধ্যম অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা অভিজাত সংগঠন বিজনেস এলিট ক্লাব লিমিটেড-এর নতুন সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছেন সাংবাদিক সালাম মাহমুদ ও সাংবাদিক হাফিজ রহমান। তাদের সদস্যপদ লাভকে কেন্দ্র করে ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে উৎসাহ ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
এদিকে বিজনেস এলিট ক্লাব লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন নতুনধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ড. মো. সাদী-উজ-জামান। সম্প্রতি রাজধানীর বনানী ক্লাবের ব্যানকোয়েট হলে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ক্লাবের নতুন নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। একই অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হয় ক্লাবটির প্রথম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম)।
এজিএমে ক্লাবের বিগত বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং সংগঠনের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
নবনির্বাচিত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আজিম উদ্দিন আহমেদ, মো. খালেদ মোশারফ হোসেন চৌধুরী (রানা), আহসান হাবিব সেতু, সাবিনা ইয়াসমিন, মেরিনা আক্তার, প্রকৌশলী দেবাশীষ বডুয়া, কামাল হোসেন পলাশ, মো. রফিকুল হোসেন, রাসেল আহম্মেদ, খোরশেদ ইসলাম, মোহাম্মদ শাহীন মিঞা শিকদার ও রবিন আলম শাহীন।
বিজনেস এলিট ক্লাব দেশের ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, ব্যাংকার, আমলা, সাংবাদিক এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পারস্পরিক যোগাযোগ, মতবিনিময় ও পেশাগত সম্পর্ক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। ব্যবসা ও অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি দেশের সম্ভাবনাময় খাত, বিনিয়োগ, উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করাও সংগঠনটির অন্যতম লক্ষ্য।
ক্লাবের নতুন সদস্য সাংবাদিক সালাম মাহমুদ ও হাফিজ রহমান দীর্ঘদিন ধরে গণমাধ্যম অঙ্গনে কাজ করছেন। বিজনেস এলিট ক্লাবের মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ সংগঠনে তাদের অন্তর্ভুক্তি ব্যবসা ও গণমাধ্যম অঙ্গনের মধ্যে যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের ক্ষেত্রকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
বর্তমানে বিজনেস এলিট ক্লাবের নিজস্ব কার্যালয় রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত। পাশাপাশি মাওয়া নতুনধরা প্রকল্পে বিশাল এলাকাজুড়ে ক্লাবের স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে উঠলে ক্লাবটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও গতিশীল হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সদস্যরা নতুন নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বিজনেস এলিট ক্লাবকে আরও কার্যকর, গতিশীল ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তাদের মতে, নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে পারস্পরিক সহযোগিতা, যোগাযোগ এবং ইতিবাচক ভূমিকা আরও জোরদার হবে।
নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি এবং নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে বিজনেস এলিট ক্লাব ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পেশাজীবী অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
[3:48 PM, 8/27/2026] Ashok Dhar Sampadak: বাহারি আহার: খাবারের টেবিলে যেন এক টুকরো লোকজ বাংলাদেশ
নাহীদ ফরহাদ রাজু
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার ধানমন্ডি—নগরজীবনের ব্যস্ততা, আধুনিকতার ছোঁয়া আর নাগরিক কোলাহলে প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া এক জনপদ। সেই ব্যস্ত নগরীর রাফা প্লাজার পঞ্চম তলায় উঠলে হঠাৎ করেই যেন বদলে যায় পরিচিত শহুরে আবহ। সেখানে খাবারের গন্ধের সঙ্গে মিশে যায় বাংলার মাটি, মানুষ, ঐতিহ্য ও শেকড়ের গল্প।
এখানেই বাহারি আহার। নামের মধ্যেই যেমন খাবারের বৈচিত্র্যের ইঙ্গিত, তেমনি এর পরিবেশে রয়েছে বাংলার লোকজ সংস্কৃতির এক অন্যরকম উপস্থাপন। ফলে এটি কেবল একটি রেস্টুরেন্ট নয়—বরং অনেকটা লোকজ জাদুঘরের মতো, যেখানে খাবারের পাশাপাশি চোখে দেখা যায় বাংলার ঐতিহ্যকে।
রাফা প্লাজার পঞ্চম তলায় পৌঁছে বাহারি আহারে প্রবেশ করলেই প্রথম যে বিষয়টি নজর কাড়ে, তা হলো এর সাজসজ্জা। আধুনিক রেস্টুরেন্টের প্রচলিত নকশার বাইরে এখানে স্থান পেয়েছে বাংলার গ্রামীণ জীবনের নানা অনুষঙ্গ। দেয়াল, আসবাব, অলংকরণ ও পরিবেশনার নানা উপাদানে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা রয়েছে আমাদের চিরচেনা লোকজ জীবনকে।
মনে হয়, শহরের বহুতল ভবনের ভেতরেই যেন হঠাৎ কোনো গ্রামের উঠানে এসে দাঁড়িয়েছি।
বাংলার গ্রাম মানেই শুধু মাটির ঘর কিংবা ধানক্ষেত নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের জীবনযাপন, কৃষি, কারুশিল্প, উৎসব, পারিবারিক স্মৃতি ও খাবারের নিজস্ব সংস্কৃতি। বাহারি আহারের পরিবেশে সেই পরিচিত উপাদানগুলোকেই নান্দনিকভাবে তুলে ধরার প্রচেষ্টা চোখে পড়ে।
এখানে খাবার যেন কেবল ক্ষুধা নিবারণের উপকরণ নয়—খাবারের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে স্মৃতি ও সংস্কৃতির আবেগ।
বাংলাদেশের খাবারের ঐতিহ্য বহুমাত্রিক। অঞ্চলভেদে রান্নার ধরন বদলে যায়, বদলে যায় স্বাদ, উপকরণ ও পরিবেশনের রীতি। নদীমাতৃক বাংলাদেশের মাছ, শস্যভিত্তিক খাবার, দেশীয় মসলা, গ্রামীণ রান্নার নানা পদ—সবকিছু মিলিয়ে আমাদের খাদ্যসংস্কৃতি নিজেই একটি বিশাল ঐতিহ্যের ভাণ্ডার।
বাহারি আহারের বিশেষত্ব এখানেই—খাবারের পাশাপাশি একটি সাংস্কৃতিক অনুভূতি তৈরি করার চেষ্টা। ফলে একজন অতিথি এখানে শুধু খাবার খেতে আসেন না; তিনি চাইলে কিছুটা সময় কাটাতে পারেন নিজের শেকড়ের কাছে।
বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে এমন উদ্যোগের গুরুত্ব আলাদা। নগরজীবনে বেড়ে ওঠা অনেক তরুণ-তরুণীর কাছে গ্রামীণ জীবন আজ অনেকটাই গল্প, ছবি কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্মৃতি। সেই বাস্তবতা যখন একটি রেস্টুরেন্টের পরিবেশে শিল্পসম্মতভাবে ফিরে আসে, তখন খাবারের অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত হয় নিজের সংস্কৃতিকে নতুন করে চেনার সুযোগ।
বাহারি আহারের আরেকটি আকর্ষণ হলো এর অবস্থান। ধানমন্ডির ব্যস্ত নগরজীবনের মধ্যেই রাফা প্লাজার মতো একটি বাণিজ্যিক ভবনের ভেতরে এমন লোকজ আবহ তৈরি করা নিঃসন্দেহে ভিন্নধর্মী উদ্যোগ। অনলাইন ব্যবসায়িক তালিকাতেও রেস্টুরেন্টটির ঠিকানা রাফা প্লাজা, রোড ১৬, ধানমন্ডি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে এবং বর্তমানে এর গড় রেটিং ৪.৪/৫।
তবে বাহারি আহারকে শুধু ‘রেস্টুরেন্ট’ হিসেবে দেখলে এর মূল আকর্ষণের একটি বড় অংশ বাদ পড়ে যায়। এটি বরং খাবার, নকশা ও লোকজ সংস্কৃতিকে এক জায়গায় নিয়ে আসার একটি প্রচেষ্টা।
একটি রেস্টুরেন্ট যখন তার পরিবেশের মাধ্যমে একটি গল্প বলতে পারে, তখন সেটি আর নিছক খাবারের স্থান থাকে না। সেটি হয়ে ওঠে অভিজ্ঞতার স্থান। বাহারি আহারে সেই গল্পটি মূলত বাংলার—আমাদের মাটি, আমাদের মানুষ, আমাদের গ্রাম এবং আমাদের হারিয়ে যেতে বসা কিছু পরিচিত স্মৃতির গল্প।
ব্যস্ত ঢাকার কংক্রিটের ভিড়ে তাই বাহারি আহারকে অনেকটা ‘খাবারের টেবিলে সাজানো এক টুকরো লোকজ বাংলাদেশ’ বললে হয়তো খুব বেশি বলা হবে না।
এখানে পেটের ক্ষুধা মেটে খাবারে, আর মনের ক্ষুধা মেটে স্মৃতিতে।
আর সেই কারণেই ধানমন্ডির রাফা প্লাজার পঞ্চম তলায় বাহারি আহার—শুধু একটি রেস্টুরেন্ট নয়, বরং নাগরিক জীবনের ভেতরে বাংলার লোকজ ঐতিহ্যকে অনুভব করার এক নান্দনিক ঠিকানা।






