সুব্রত ঘোষ, বগুড়াঃ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার অনেক আহত জুলাই যোদ্ধাকে গেজেটভুক্ত করে নি। ফলে অনেকে রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুত চিকিৎসাসুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে তাদের কেউ কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় বগুড়া মহানগরের টিটু মিলনায়তনে জুলাই-২৪ গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি কথা বলেন। জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির রাজশাহী বিভাগীয় সভাপতি উজ্জল হোসেন জোবায়েলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, বগুড়া জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির, আরডিএর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. আব্দুল মজিদ প্রামানিক, বগুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র মাহবুবুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফারজানুল হক নির্ঝর, জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির চেয়ারম্যান গোলাম রহমান, ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইমন, সাধারণ সম্পাদক রবিউল আওয়াল তুহিন এবং বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান প্রমুখ। ইশরাক হোসেন বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে যারা আহত ব্যক্তিদের গেজেটভুক্ত করেননি, তাদের এমন পদক্ষেপ নিন্দনীয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির সম্পত্তি নয় আন্দোলনটি ছাত্রদের হাত ধরে শুরু হলেও পরে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ তখন রাজপথে নেমে এসেছিলেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তরের মাধ্যমে আহত যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের পুনর্বাসনে কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না। বাদ পড়া ব্যক্তিদের পুনরায় আবেদনের জন্য সীমিত সময়ের জন্য একটি সুযোগ দেওয়া হবে। ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ ও ‘জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’র পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল কিংবা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়েও এই আবেদন জমা দেওয়া যাবে। ইশরাক হোসেন আরও বলেন, আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং তাদের দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী করে তোলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। যারা স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের প্রয়োজন ও দক্ষতা অনুযায়ী পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এতে প্রয়োজন অনুযায়ী কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজন ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার ব্যবস্থা থাকবে। এ লক্ষ্যে গঠিত ১৭টি মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি কাজ করছে।







