বইমেলায় আবদুল জলিলের ‘সর্বংসহা’: সমাজবাস্তবতার বহুমাত্রিক গল্পসংকলন
মোঃ আলমগীর হোসেন
উপজেলা প্রতিনিধি, কাজিপুর
অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এ প্রকাশিত হয়েছে সাংবাদিক, কবি, গীতিকার ও কথাসাহিত্যিক আবদুল জলিলের নতুন গল্পগ্রন্থ ‘সর্বংসহা’। ধানসিঁড়ি প্রকাশন থেকে প্রকাশিত এ গ্রন্থটি ইতোমধ্যে পাঠকমহলে আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। বইটির প্রচ্ছদে এক নারীর প্রতীকী অবয়ব—যা যেন সমগ্র গ্রন্থের ভাবনাকে দৃশ্যরূপ দিয়েছে: সহিষ্ণুতা, সংগ্রাম ও বেঁচে থাকার অবিচল লড়াই।
গ্রন্থটিতে বাঙালির হাজার বছরের যাপিত জীবনের খণ্ডচিত্র ফুটে উঠেছে বহুমাত্রিক আঙ্গিকে। প্রেম-ভালোবাসা, দ্রোহ, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির বেদনার পাশাপাশি সমাজের সূক্ষ্ম বাস্তবতা ও মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন গল্পগুলোকে করেছে প্রাণবন্ত ও ভাবনাপ্রসূত।
‘অসীম মুক্তি’ গল্পে জীবনের চড়াই-উৎরাই পেরোনো এক আবেগঘন পরিণতি পাঠককে নাড়া দেয়। ‘মনের ফাগুণ’-এ আত্মত্যাগী বন্ধুত্বের অনন্য মানবিক রূপ ফুটে ওঠে। ‘নিষিদ্ধ পল্লী’, ‘শায়ক বেঁধা পাখি’ ও ‘বাসন্তী বিকেল’-এ সমাজের ঘাত-প্রতিঘাত অতিক্রম করে এগিয়ে চলা মানুষের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা হয়েছে।
‘নিশিথের অতিথি’ গল্পে রূপালির জীবনসংগ্রাম যেন হাজারো বাঙালি নারীর প্রতিনিধিত্ব করে। ‘শেষ চিঠি’-তে নারীর অব্যক্ত স্বপ্ন ও আধ্যাত্মিক আকাঙ্ক্ষা গভীর আবেগে প্রকাশ পেয়েছে। ‘আলোর অমানিশা’য় সামাজিক বাস্তবতার নির্মমতা যেমন আছে, তেমনি ‘শেষ বিকেলে স্বপ্ন’-এ মাতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা সমাজের এক করুণ সত্যকে সামনে আনে।
‘লাল ডায়েরি’ গল্পে মরণব্যাধী ক্যান্সারকে কেন্দ্র করে আবর্তিত মানবিক বেদনা পাঠককে ভাবায়। সর্বশেষ ‘অভিশাপ’ গল্পে বিশ্বাস ও মনস্তত্ত্বের জটিল সম্পর্ক এক ব্যতিক্রমী পরিসরে উপস্থাপিত হয়েছে।
গ্রন্থটি সম্পর্কে অধ্যাপক এ.কে.এম. ছোলায়মান হোসেন বলেন, “পুরো বইটির গল্পগুলো আমাদের সমাজবাস্তবতার ছবি, যা লেখক সাহিত্যগুণে ঋদ্ধ করে পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন।”
উল্লেখ্য, ‘সর্বংসহা’ বইটি অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ধানসিঁড়ি ও আইডিয়া প্রকাশনীর ৮৮৬ নম্বর স্টলে পাওয়া যাচ্ছে।







