নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিরপুর-১০ ট্রেনিং কমপ্লেক্সে গত ১ জুলাইয়ে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান তদন্ত নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের সময় সংরক্ষিত একটি কক্ষে ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর রেজায়ে রাব্বির অনুমতিবিহীনভাবে এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে প্রবেশ এবং পরবর্তী তর্কাতর্কি ও বিরোধ এবং ধস্তাধস্তির ঘটনাকে তদন্তে যথাযথভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।
অধিদপ্তরের ১৬ জুলাইয়ের অফিস আদেশে ঘটনাটিকে হাতাহাতি হিসেবে উল্লেখ করা হলেও সংশ্লিষ্ট নথি ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে ঘটনাস্থলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্ব ও উপস্থিতি নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। বিশেষ করে ওই সময় রেজায়ে রাব্বী সেখানে কী দায়িত্বে ছিলেন এবং তার উপস্থিতির প্রশাসনিক ভিত্তি কী ছিল—এ প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর এখনো সামনে আসেনি।
ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার, সদস্য সচিব উপপরিচালক অপারেশন মো. মামুনুর রশিদ এবং সদস্য উপসহকারী পরিচালক মো. শাহজাহান শিকদার। ২২ জুলাই রেজায়ে রাব্বীকে সাক্ষ্য-প্রমাণসহ উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন:
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনায় আহত হওয়ার দাবি করা ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মুহিউদ্দীন ও ফায়ারফাইটার কামাল হোসেনের বক্তব্য যথাযথভাবে গ্রহণ না করেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ড্রাইভার সাখাওয়াতসহ সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের ভূমিকা পৃথকভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সিসিটিভি ফুটেজ, দায়িত্ব বণ্টনের নথি, উপস্থিতির তথ্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ঘটনার আগে-পরে প্রশাসনিক নথি পর্যালোচনা করা জরুরি। এসব প্রমাণ বিশ্লেষণ করলেই কে কেন ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং ধস্তাধস্তির সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে—তা নিরপেক্ষভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব।
রেজায়ে রাব্বিকে ঘিরে পূর্বের অভিযোগও আলোচনায়:
রেজায়ে রাব্বিকে ঘিরে এর আগেও সাময়িক বরখাস্তসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক অভিযোগের তথ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৪ সালের একটি সাময়িক বরখাস্তের আদেশ এবং ২০২৬ সালে তৃতীয়বার সাময়িক বরখাস্তের দাবি নিয়েও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত আইনগত বা প্রশাসনিক নিষ্পত্তির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সরকারি নথির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
বিদায়লগ্নে ‘দায়মুক্তির আয়োজন’—অভিযোগ কতটা সত্য?
এদিকে অধিদপ্তরের প্রশাসনিক পর্যায়ে সাম্প্রতিক রদবদলের প্রেক্ষাপটে অভিযোগ উঠেছে, বিদায়ী মহাপরিচালকের সময়সীমার মধ্যে তদন্ত দ্রুত শেষ করে রেজায়ে রাব্বিকে দায়মুক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে তদন্ত কমিটির কার্যক্রম, নথিপত্র এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু প্রকাশ ও যাচাই প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের প্রশ্ন—একই ব্যক্তিকে ঘিরে ইতিপূর্বেও নারী সহকর্মীর শ্লীতহানী এবং ২০২৪ সালের ছাত্র গণহত্যার মত গুরুতর একাধিক প্রশাসনিক অভিযোগ থাকলে প্রতিটি অভিযোগের স্বাধীন ও প্রমাণভিত্তিক নিষ্পত্তি কেন দৃশ্যমান নয়?
একটি সরকারি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য ব্যক্তি নয়, প্রমাণই হওয়া উচিত তদন্তের মূল ভিত্তি। তাই সিসিটিভি, নথি, সাক্ষ্য ও সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্যের ভিত্তিতে স্বচ্ছ তদন্ত এবং প্রত্যেকের পৃথক দায়-দায়িত্ব নির্ধারণের দাবি উঠেছে।






