, ,

প্রয়াত নার্সের ইলএলপিসি আটকে ঘুষ দাবির অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রশ্নে আনোয়ার হোসেন

নিউজটি শেয়ার করুন

হুমায়ূন মুজিব: ২০২১ সালে চাকরি থেকে অবসর নেওয়া প্রয়াত নার্সিং সুপারভাইজার ফ্রানচিলিয়া গোমেজের ইএলপিসি ও সার্ভিস স্টেটমেন্ট নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা হিসাব কার্যালয়ের বিরুদ্ধে।

পরিবারের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা, সার্ভিস বুকে বয়সসহ চাকরি সংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ থাকা এবং অডিট আপত্তি না থাকার পরও ইএলপিসি ইস্যু করা হয়নি।

পরিবারের দাবি, ইএলপিসি ইস্যুর জন্য ঘুষের টাকা দাবি করা হয়েছিল। সেই অর্থ না দেওয়ায় ফাইল আটকে রাখা হয়। এ ঘটনায় জেলা হিসাব কার্যালয়ের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসার আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলেছে পরিবার।
অধিদপ্তর থেকে বারবার চিঠি, তবুও ইএলপিসি ইস্যু নয়ঃ
প্রাপ্ত সরকারি নথিতে দেখা যায়, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর থেকে ফ্রানচিলিয়া গমেজের সার্ভিস স্টেটমেন্ট ও ইএলপিসি ইস্যুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে।

নার্সিং ও মিড ওয়াইফারি অধিদপ্তর একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এর আগে পত্র দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র/তথ্যাদি প্রেরণ করা হয়নি। পরে বিষয়টি পুনরায় নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়।

অন্যদিকে প্রাপ্ত অডিট আপত্তি না থাকার প্রত্যয়নপত্রে ফ্রানচিলিয়া গোমেজের কর্মকালীন সময়ে তাঁর নামে কোনো অডিট আপত্তি উত্থাপিত হয়নি বলে উল্লেখ রয়েছে এবং তাঁকে অডিট ছাড়পত্র দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

এ অবস্থায় পরিবারের প্রশ্ন—অডিট আপত্তি না থাকলে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে বারবার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হলে, ইএলপিসি আটকে রাখার কারণ কী?
কোন ক্ষমতাবলে ফাইল আটকে রাখা হয়েছেঃ

পরিবারের পক্ষ থেকে সরাসরি প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কোন বিধি বা প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে আনোয়ার হোসেন ফ্রানচিলিয়া গোমেজের ইএলপিসি ইস্যু আটকে রেখেছিলেন?

যদি কোনো নথি বা প্রশাসনিক ঘাটতি থেকে থাকে, তাহলে সেটি লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল কি না—সেটিও তদন্তের বিষয় বলে মনে করছে পরিবার।

পরিবারের অভিযোগ, ফ্রান্সিলিয়া গোমেজ ২০২১ সালে অবসর নেওয়ার পরও তাঁর প্রাপ্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। এমনকি তিনি মারা যাওয়ার পরও বিষয়টি নিয়ে দপ্তরগুলোর মধ্যে চিঠি চালাচালি হয়েছে।

ওএসডি সিভিল সার্জনকে দায়ী করার প্রশ্ন?

পরিবারের আরও অভিযোগ, ইএলপিসি জটিলতার দায় আনোয়ার হোসেন বারবার সিভিল সার্জনের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন।

পরিবারের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জনকে ইতোমধ্যে ওএসডি করা হয়েছে। তাহলে সেই সিভিল সার্জনের ওপর আবার দায় চাপানোর প্রশাসনিক ভিত্তি কী—এ প্রশ্নের জবাবও প্রয়োজন।

পরিবারের দাবি, সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তার সঙ্গে ফ্রানচিলিয়া গমেজের ইএলপিসি ইস্যুর বিষয়টির সম্পর্ক কী, সেটিও কর্তৃপক্ষকে পরিষ্কার করতে হবে।

মৃত্যুর জন্যও আনোয়ারকে দায়ী করছে পরিবারঃ

ফ্রানচিলিয়া গমেজের পরিবারের অভিযোগ, ইএলপিসি ও অবসর-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা এবং কথিত হয়রানির কারণে তিনি ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। পরিবার তাঁর মৃত্যুর জন্যও আনোয়ার হোসেনকে দায়ী করছে এবং এ বিষয়ে তদন্ত দাবি করেছে।
তবে ফ্রানচিলিয়া গমেজর মৃত্যুর সঙ্গে ইএলপিসি আটকে থাকার সরাসরি কারণগত সম্পর্ক প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রদর্শিত নথিতে নেই। তাই মৃত্যুর দায় নির্ধারণে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত অপরিহার্য।
বক্তব্য দিতে দরজা খুললেন না আনোয়ারঃ
অভিযোগগুলোর বিষয়ে ডিস্ট্রিক্ট অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড
১ অফিসার আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মীরা বক্তব্যের জন্য তাঁর কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে তিনি গেট খুলে সামনে এসে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
তদন্তের দাবি
পরিবারের দাবি, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে বের করতে হবে—
ইএলপিসির ফাইল কখন কার কাছে ছিল;
কোন কর্মকর্তা ইএলপিসি ইস্যুর দায়িত্বে ছিলেন;
কী কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চিঠির পরও ইএলপিসি ইস্যু হয়নি;
ঘুষ দাবির অভিযোগের সত্যতা আছে কি না;
কোনো কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার বা দায়িত্বে অবহেলা করেছেন কি না;
এবং ফ্রানচিলিয়া গোমেজের পরিবার তাঁর প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে কি না।
পরিবারের দাবি, “অডিট আপত্তি নেই, সার্ভিস বুকে প্রয়োজনীয় তথ্য আছে, অধিদপ্তর থেকে বারবার চিঠি গেছে—তারপরও ইএলপিসি কেন ইস্যু হলো না, এর জবাব আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিতে হবে।”
এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি ফাইলের নথি ও দায়িত্ব নির্ধারণ করে এই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করবে, নাকি দায় এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরের ওপর চাপিয়েই বিষয়টি শেষ হবে।
এ ব্যাপারে ডিস্ট্রিক একাউন্টস অফিসার আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য জানতে তার অফিসে গেলে তিনি সাংবাদিকদের সাক্ষাত দেননি।তার লোক দিয়ে খবর পাঠিয়ে দেন সিভিল সার্জন অফিসে যোগাযোগ করতে।