, ,

নামেই স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বাস্তবে সেবাশূন্য—বাড়বকুণ্ডে চিকিৎসার অধিকার থেকে বঞ্চিত সাধারণ মানুষ

নিউজটি শেয়ার করুন

মোঃ আমজাদ হোসেন, ষ্টাফ রিপোর্টার: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ৫ নম্বর বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি যেন শুধু নামেই চিকিৎসাকেন্দ্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসাসেবা নিতে দূর-দূরান্ত থেকে এসে চিকিৎসক, ভিজিটর কিংবা দায়িত্বশীল স্বাস্থ্যকর্মীর দেখা না পেয়ে শূন্য হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

সরকারি অর্থে পরিচালিত একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্তদের অনুপস্থিতি ও কার্যকর চিকিৎসাসেবার অভাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন এলাকার নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ। যাদের বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য নেই, তাদের শেষ ভরসার সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতেও যদি সেবা না মেলে, তাহলে তারা যাবেন কোথায়—এমন প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে।

সরকার প্রতিবছর স্বাস্থ্য খাতে বিপুল অর্থ বরাদ্দ দিলেও সেই সেবা প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় কতটা পৌঁছাচ্ছে, বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের বর্তমান পরিস্থিতি সেই প্রশ্নকেই সামনে এনেছে। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র যদি দায়িত্বশীলদের অনুপস্থিতিতে কার্যত সেবাহীন হয়ে পড়ে, তবে এর দায় কে নেবে?

এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. সোহরাব হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আগামীকাল সরেজমিনে গিয়ে তদারকি ও তদন্ত করে দেখব, কেন দায়িত্ব পালনকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনুপস্থিত ছিলেন। প্রয়োজন হলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, প্রয়োজনের তুলনায় স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা কম এবং বর্তমানে জনবল সংকট রয়েছে।

তবে জনবল সংকট থাকলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

স্বাস্থ্যসেবা কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়—এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। একটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র শুধু সাইনবোর্ড আর ভবনে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। বাড়বকুণ্ডবাসীর প্রশ্ন—আর কতদিন চিকিৎসার আশায় এসে সেবাহীন হয়ে ফিরে যেতে হবে?