বসতবাড়ির জায়গা ও ঘর ভাড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হামলা, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকির তীব্র অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী নাসরিন ইসলাম নামে এক নারী এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে নরসিংদী শহরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তোলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নাসরিন ইসলাম জানান, বসতবাড়ির জায়গা নিয়ে প্রতিপক্ষের কয়েকজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তার বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় কয়েকজন ব্যক্তি অনাধিকার চর্চা করে তার বাড়িতে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আশপাশের স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার পেয়ে তিনি নরসিংদী ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় আইনগত সহায়তা পেতে তিনি ইতোমধ্যে স্থানীয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, সম্পত্তি ও ভাড়া কেন্দ্রিক জের ধরে তাকে দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মানসিক হয়রানি করা হচ্ছে, যার ফলে বর্তমানে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
নাসরিন ইসলাম বলেন, “আমি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত চাই। যারা আমার ওপর হামলা চালিয়েছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে, তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে আমার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমি প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করছি।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি দাবি: এদিকে বিষয়টি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন মত ও পাল্টাপাল্টি নানা মন্তব্য দেখা গেছে। সুমাইয়া আক্তার নামে এক ব্যক্তি কমেন্টে দাবি করেন, উক্ত বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরেই পরিবারের সদস্যরা বসবাস করছেন। ভাই-বোনদের মধ্যে পূর্বে ভাড়া নিয়ে কোনো মনোমালিন্য না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে ভাড়ার টাকা দাবি করাকে কেন্দ্র করেই নাসরিনের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত।
অন্যদিকে নাইরা সুলতানা নামে অপর একজন তার কমেন্টে উল্লেখ করেন, বাড়ির ভাড়া থেকে প্রাপ্ত অর্থ সমানভাবে ভাগ করে দেওয়ার কথা ছিল। এমনকি যে অংশে একজন অবস্থান করছেন, সেই অংশের ভাড়াও নিয়মিত পরিশোধ করা হয় বলে দাবি করে তিনি মাসিক প্রায় ১০ হাজার টাকা ভাড়ার কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি নাসরিন ইসলামের বিরুদ্ধে মনগড়া বিরোধ সৃষ্টির অভিযোগ আনেন।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এসব বক্তব্য ও প্রতিপক্ষের দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মূল ঘটনা উদঘাটনে তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট দলিলাদি যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।







