বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি চোরাচালান, মাদক, মানবপাচার, অস্ত্র পাচার ও প্রত্নসম্পদ পাচারসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
একই সঙ্গে দেশের মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও পুরাকীর্তি অবৈধভাবে পাচার রোধের মাধ্যমে জাতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে দিনাজপুর জেলার সদর থানাধীন চাতরাপাড়া এলাকা থেকে একজন আসামিসহ ৩২.১৫ কেজি ওজনের একটি কষ্টি পাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন । উদ্ধারকৃত মূর্তিসহ আটক ব্যক্তিকে দিনাজপুর জেলার কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়। তবে, থানায় কষ্টিপাথরের মূর্তি সংরক্ষণের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় মূর্তিটি দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর হেফাজতে রাখা হয় মর্মে জানাযায় ।
পরবর্তীতে গত ০৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, আমলি আদালত সদর, দিনাজপুর কর্তৃক উদ্ধারকৃত কষ্টি পাথরের বিষ্ণু মূর্তিটি কাস্টোডিয়ান, কান্তনগর প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর কাহারোল, দিনাজপুরে জমাকরণের আদেশ প্রদান করা হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অদ্য ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মূর্তিটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হয় বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ৪২ বিজিবি ।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, প্রত্নসম্পদ একটি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অমূল্য নিদর্শন। এসব প্রাচীন নিদর্শনের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব অপরিসীম। তাই প্রত্নসম্পদের অবৈধ পাচার ও ধ্বংস রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান জোরদারের পাশাপাশি উদ্ধারকৃত প্রত্নসম্পদ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে সেগুলোর সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি মাদক, মানবপাচার, অস্ত্র পাচার, চোরাচালানসহ সব ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।






