, ,

তারাগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

নিউজটি শেয়ার করুন

খায়রুল আলম বিপ্লব
তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: 

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ৪ নম্বর হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুমারেশ রায়ের বিরুদ্ধে এক ইউপি সদস্যকে প্রাণনাশের হুমকি, অশালীন ভাষায় গালিগালাজ, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, বিভিন্ন অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মজুমদার রহমান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে মো. মজুমদার রহমান দাবি করেন, চেয়ারম্যান কুমারেশ রায় বিভিন্ন প্রকল্প দেওয়ার কথা বলে অর্থ আত্মসাতের প্রলোভন দেখান। একপর্যায়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জনসম্মুখে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও মানহানি করার অভিযোগও করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সরকারি উদ্যানের ফল বিক্রির অর্থ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, সরকারি অর্থ ইউনিয়ন পরিষদের তহবিলে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা যথাযথভাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

বৃক্ষরোপণ ও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের নামে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগও করেছেন ইউপি সদস্য মজুমদার রহমান। ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান নিয়মিত উপস্থিত না থাকায় নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী জানান, এসব অভিযোগের পক্ষে গালিগালাজ ও হুমকির অডিও রেকর্ড এবং চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তথ্যসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। তিনি অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুমারেশ রায়ের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দারা গতকাল সোমবার (২৪ আগস্ট) মানববন্ধন করেছেন। ডাংগীরহাট বাজার চত্বরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে চেয়ারম্যানের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও নাগরিক সেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা দাবি করেন, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তিনি সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর মাধ্যমে অর্থ আদায় করেছেন। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তেরও দাবি জানান তারা।

তবে লিখিত অভিযোগে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান কুমারেশ রায়ের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগকারী মজুমদার রহমান বলেন, “অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক—এটাই আমাদের দাবি।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোনাব্বর হোসেন বলেন, “যেহেতু অভিযোগটি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হয়েছে, সেহেতু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, সেই আলোকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”