, ,

তালহা ভাওয়াল মির্জাপুরে জমে উঠেছে মাসব্যাপী গ্রামীণ ক্ষুদ্র ও শিল্প কুটির পণ্য মেলা

নিউজটি শেয়ার করুন

বাহারি জুয়েলারি, কসমেটিকস, পোশাক-জুতা থেকে শুরু করে শিশুদের বিনোদনে নাগরদোলা—পরিবার নিয়ে মেলা উপভোগের আহ্বান

গাজীপুরের তালহা ভাওয়াল মির্জাপুর এলাকায় শুরু হয়েছে মাসব্যাপী গ্রামীণ ক্ষুদ্র ও শিল্প কুটির পণ্য মেলা। এলাকাবাসীর সহযোগিতা, আগ্রহ ও দীর্ঘদিনের চাওয়াকে গুরুত্ব দিয়ে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলা শুরুর পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন বয়সী মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় আসছেন এবং নিজেদের পছন্দের পণ্য কেনাকাটার পাশাপাশি বিনোদন উপভোগ করছেন।

মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি  মোঃ হাবিবুর রহমান পান্না এবং মেলার প্রধান সমন্বয়কারী  এম এ রহমান চৌধুরী-এর উদ্যোগ ও তত্ত্বাবধানে এ মাসব্যাপী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের লক্ষ্য হচ্ছে, এলাকার মানুষকে একই স্থানে কেনাকাটা ও বিনোদনের সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ ও কুটির শিল্পের বিভিন্ন পণ্য মানুষের কাছে তুলে ধরা।

মেলায় রয়েছে বাহারি পণ্যের সমাহার

মেলার অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের জুয়েলারি ও কসমেটিকসের দোকান। নারীদের পছন্দের বিভিন্ন ডিজাইনের অলংকার, ফ্যাশন জুয়েলারি ও প্রসাধনী সামগ্রী নিয়ে সাজানো হয়েছে একাধিক স্টল। বিভিন্ন বয়সের ক্রেতারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী এসব পণ্য কেনাকাটা করতে পারছেন।

এছাড়াও মেলায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের জুতা ও স্যান্ডেল। নারী, পুরুষ ও শিশুদের জন্য বিভিন্ন ডিজাইন ও ধরন অনুযায়ী জুতার সমাহার দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কাপড় ও পোশাকের দোকান। দৈনন্দিন ব্যবহার থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরার উপযোগী পোশাক ও কাপড়ের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা।

মেলায় বিভিন্ন ধরনের ফ্যাশন ও গৃহস্থালি সামগ্রীসহ নানা আকর্ষণীয় পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। ফলে দর্শনার্থীরা মেলা ঘুরে দেখার পাশাপাশি নিজেদের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য কেনাকাটার সুযোগ পাচ্ছেন।

শিশুদের জন্য রয়েছে বিশেষ বিনোদনের ব্যবস্থা

মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থা। শিশুদের আনন্দের জন্য স্থাপন করা হয়েছে নাগরদোলা। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা থাকায় শিশুদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস।

সন্ধ্যার পর মেলার বিভিন্ন স্টল ও বিনোদনের স্থানগুলো আলোকসজ্জায় আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। পরিবারের ছোট-বড় সবাই মিলে ঘুরে বেড়ানো, পছন্দের পণ্য দেখা, কেনাকাটা এবং শিশুদের বিনোদনের সুযোগ থাকায় মেলাটি স্থানীয়দের কাছে আনন্দের একটি নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

পরিবার নিয়ে মেলা উপভোগের সুযোগ

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেলাটি শুধু কেনাকাটার জন্য নয়; পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটানোর জন্যও এখানে বিভিন্ন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের বিনোদনের বিষয়টি মাথায় রেখে নাগরদোলা ও বিভিন্ন খেলাধুলার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মেলায় এসে দর্শনার্থীরা বিভিন্ন ধরনের পণ্য ঘুরে দেখতে পারবেন এবং নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী কেনাকাটা করতে পারবেন। একই সঙ্গে শিশুদের নিয়ে বিনোদনের সুযোগ থাকায় পুরো পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে মেলা উপভোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।

এলাকাবাসীর আনন্দ ও সন্তুষ্টি

মেলা ঘুরে স্থানীয় একাধিক মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তানহা ভাওয়াল মির্জাপুর এলাকায় এর আগে এ ধরনের মেলার আয়োজন হয়নি। ফলে নতুন ধরনের এ আয়োজনকে ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সাধারণত এ ধরনের মেলার জন্য তাদের অন্য এলাকায় যেতে হয়। কিন্তু এবার নিজেদের এলাকায় মেলা হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সহজেই মেলায় আসতে পারছেন তারা। বিশেষ করে শিশুদের জন্য নাগরদোলা ও বিভিন্ন বিনোদনের ব্যবস্থা থাকায় তারা বেশ আনন্দিত।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,

“আমাদের এলাকায় আগে এ ধরনের মেলা হয়নি। এবার মেলা হওয়ায় আমরা সবাই অনেক আনন্দিত। পরিবার নিয়ে এসে ঘুরতে পারছি, শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের পণ্যও কেনাকাটা করতে পারছি। আমরা চাই ভবিষ্যতেও যেন এলাকায় এ ধরনের মেলার আয়োজন করা হয়।”

আরেক এলাকাবাসী বলেন, মেলার কারণে এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সী মানুষ মেলায় আসছেন। শিশুদের আনন্দের পাশাপাশি বড়রাও নিজেদের পছন্দের পণ্য কেনাকাটা করার সুযোগ পাচ্ছেন।

ভবিষ্যতেও মেলার আয়োজন চান এলাকাবাসী

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এবারের মেলার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের মেলার আয়োজন করা হবে। এতে এলাকার মানুষ বিনোদনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের পণ্য কেনাকাটার সুযোগ পাবেন এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদেরও বেচাকেনার সুযোগ তৈরি হবে।

মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ হাবিবুর রহমান পান্না ও প্রধান সমন্বয়কারী এম এ রহমান চৌধুরী-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলাকে সফল করতে এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

মেলা পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে তানহা ভাওয়াল মির্জাপুর ও আশপাশের এলাকার সর্বস্তরের মানুষকে পরিবার-পরিজন নিয়ে মাসব্যাপী এ মেলায় এসে ঘুরে দেখার, কেনাকাটা করার এবং বিনোদন উপভোগ করার জন্য আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় এ মাসব্যাপী গ্রামীণ ক্ষুদ্র ও শিল্প কুটির পণ্য মেলা একটি প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হবে।