দেওয়ান মোনাকিব চৌধুরী, মৌলভীবাজার ( সদর) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার,তিনটি বড় হাওর, হাকালুকি, কাউয়াদিঘি, হাইল হাওর। এই তিনটি হাওর মৌলভীবাজারের শষ্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত। প্রান্তিক কৃষক, তিন হাওর মিলে শত, শত হেক্টর ভূমিতে বোর ধান আবাদ করেছিলেন, এবং ভালো ফলন পাওয়ার আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু কৃষকের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে গেল, অতি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারনে। হাওরের প্রায় সব বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকদের মধ্যে আহাকার ও হতাশার ছাপ পরিলক্ষিত হচ্ছে।
এমতাবস্থায়, জেলার হাকালুকি, কাউয়াদিঘি, ও হাইল হাওরের কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল বোরো ধান রক্ষা, কৃষকদের এই দুর্যোগ থেকে পরিত্রানের উপায় ও হাওর রক্ষা সহ চার দফা দাবীতে রবিবার, হাওর রক্ষা আন্দোলন মৌলভীবাজার, জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান মন্ত্রী বরাবরে স্মারক লিপি প্রাদান করেছেন।
স্মারকলিপিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, অতি বৃষ্টির কারনে,বাংলাদেশের হাওরাঞ্চলের বোরো ধান তলিয়ে গেছে। কৃষকরা সর্ব শ্রান্ত, দিশেহারা, এখানো বৈরী আবহওয়া অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মনু সেচ প্রকল্প আওতাধীন মৌলভীবাজার জেলার কৃষককুলের এই করুন অবস্থা বিবেচনা করে তাদের বিভিন্ন দাবী জরুরী ভিত্তিতে বাস্তবায়নের আবেদন করেন।
তারা আরও উল্লেখ করেন, মনু সেচ প্রকল্প, একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। কুশিয়ারা নদীর পানি পরিমিত থাকলে এ প্রকল্পের কাসিমপুর পাম্প হাউজের ৮ টি পাম্প এক সাথে চালু রাখলে ভরা কাউয়াদিঘি হাওর ৪৮ ঘন্টার ভিতরে শুকিয়ে ফেলা সম্ভব। পাম্প সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ২.৫ মেগাওট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ করতে হবে। জেলা প্রশাসন তরিত গতিতে চা বাগান, মালিক – ম্যানেজারদের সাথে সমন্বয় করে চা বাগানের পার্ট- টাইম শ্রমিকদের হাওরে ডেপুট করত পারেন।
রোদের আলো না থাকায় ইতিমধ্যে কৃষকের সংগ্রহকৃত বোরো ধানের গোলা কৃষকের বাড়ি – ঘরে, আঙ্গিনায় এবাং রাস্তায় পঁচে যাওয়ার উপক্রম তৈরী হয়েছে।
জেলার সবকটি অটো রাইসমিল মালিকদের নির্দেশ প্রদান করে এই ধান দ্রুততার সাথে চালে রুপান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
কাশেমপুর পাম্প হাউসের সম্মুখে নয়, হাওরের বারো মাসের পানির লেভেল নির্ধারণের জন্য, জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, হাওর রক্ষা আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে অথবা যৌক্তিক পরামর্শের ভিত্তিতে প্রকল্প ভুক্ত হাওরের মাঝখানে নির্ধারণ করা।
স্মারকলিপি প্রদান কালে উপস্থিত ছিলেন, হাওর রক্ষা আন্দোলন মৌলভীবাজার এর আহবায়ক, বিশিষ্ট নাট্যকার আ স ম সালেহ সোহেল, সদস্য সচিব খছরু চৌধুরী, নির্বাহী সদস্য আলমগীর হোসেন, নুরুল ইসলাম ফয়সল, শাহীন ইকবাল, গণমাধ্যম কর্মী দেওয়ান মোনাকিব চৌধুরী, কৃষক নেতা হারুনুর রশীদ নোমান, বাসদ নেত্রী, সাদিয়া নোশিন তাসনীম চৌধুরী, ও সিপিবি নেতা জহর লাল দত্ত প্রমূখ।







