, ,

গৃহস্থালি ও শিল্পবর্জ্য অব্যবস্থাপনায় বাড়ছে নদী দূষণ

নিউজটি শেয়ার করুন

সাভারের ধলেশ্বরী নদী দূষণের কবলে, নদী রক্ষায় প্রশাসনের নেই কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা
‎
‎গোপাল মালাকার, সাভার: সাভার উপজেলার পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে বংশী ও ধলেশ্বরী নদী। বর্ষার মৌসুমে যে নদীতে  দেখা যাবার কথা ছিল জেলেদের ব্যাস্ততা আর জালে থাকার কথাছিল ঝাঁকে ঝাঁকে  দেশীয় মাছ  কিন্তু বর্তমান চিত্র ভিন্ন। ঢালাওভাবে দূষিত বর্জ্য নদীতে ফেলার  কারনে  বংশী ও ধলেশ্বরী তাদের পূর্বের সেই চিরচেনা জৌলুশ হারাতে বসেছে।
‎
‎উপজেলার ধলেশ্বরী নদীর তীরে অবস্থিত তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন। ইউনিয়নটি সাভারের অন্যতম শিল্পাঞ্চল হওয়ায় রয়েছে কয়েক লক্ষো মানুষের বসবাস।
‎শহিদ রফিক সেতুর দক্ষিণ পূর্ব প্রান্তে কল-কারখানার দূষিত বর্জ্য ও গৃহস্তথালি বর্জ্যের ডাম্পিং কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ধলেশ্বরী নদীর তীর। এছাড়াও বিভিন্ন ক্লিনিক,হাট- বাজার ও বেসিক ট্যানারী শিল্পের বর্জ্য গুলো কোন প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই ফেলা হচ্ছে নদীতে।
‎ফলে এক দিকে যেমন বাড়ছে নদী দূষণ পাশাপাশি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্বকভাবে হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।
‎
‎নাম মাত্র কয়েকটি ট্যানারী ও শিল্প কারখানা বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) ব্যবহার করলেও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান গুলো রাসায়নিক ও তরল বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলছে।
‎
‎একইভাবে বিভিন্ন বাসা-বাড়ির উচ্ছিষ্ট বর্জ্য,প্লাস্টিক,অপচনশীল বস্তু বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করে  সরাসরি ফেলা হচ্ছে নদীতে।
‎
‎প্রত্যক্ষভাবে সকল বর্জ্যগুলো ধলেশ্বরী নদীতে ফেলার ফলে মাছ ও জলজ প্রাণির জীবন বিপন্ন হচ্ছে এবং নদীর পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
‎
‎স্থানীয় একজন জেলে জানান এই ময়লার দুর্গন্ধের কারণে আমরা চলাচল করতে পারিনা। কলকারখানার দূষিত বর্জ্যের কারণে নদীর মাছ প্রায় বিলুপ্তির পথে। নদীতে সাঁকার মাছ বেড়ে গেছে, জাল ফেললে সাকার মাছ ছাড়া অন্য তেমন কোন মাছ পাইনা। আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানাই নদীর এই দূষণ রোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
‎
‎একজন মাঝি জানান আমরা নৌকা বেয়ে জীবিকা নির্বাহ করি কিন্তু নদীর তীরে এই ময়লার স্তূপের কারণে দর্শনার্থীরা আগের মত তেমন আসে না। যারা আসে তারা সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে যেতে চান না। এছাড়াও ট্যানারীর দূষিত বর্জ্যর কারণে সারা বছর নদীর জল কালো ও বিষাক্ত থাকে। ফলে আমরা নানাভাবে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে নদীর তীরে বর্জ্য ফেলা রোধ করবে বলে আশা করি।
‎
‎দূষণের ভয়াবহতার কারনে পার্শ্ববর্তী এলাকার স্থানীয়দের বসবাসের অনুপোযোগী হওয়ার সম্ভাবনায় দিন দিন তাদের মধ্য বাড়ছে ক্ষোভ।
‎
‎স্থানীয়দের প্রত্যাশা প্রশাসন যেন অতি দ্রুত ধলেশ্বরী নদীকে দূষণমুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে।