বাংলাদেশে তৈরি মোটরসাইকেল এবার পৌঁছাল উত্তর আমেরিকার বাজারে। গুয়াতেমালায় সফল রপ্তানির ধারাবাহিকতায় এবার মেক্সিকোতে হোন্ডা এনএক্স২০০ রপ্তানি শুরু করেছে বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেড (বিএইচপিএল)। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি শুধু একটি কোম্পানির ব্যবসায়িক সাফল্য নয়; বরং বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা, শিল্পায়ন এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
বাংলাদেশ সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন (বিএসইসি) এবং জাপানের হোন্ডা মোটর কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগ বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেড সম্প্রতি মেক্সিকোতে মোটরসাইকেল রপ্তানি শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, তৈরি পোশাকনির্ভর রপ্তানি অর্থনীতিতে মোটরসাইকেলের মতো প্রকৌশলভিত্তিক পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ বাংলাদেশের শিল্পখাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। এতে দেশীয় উৎপাদন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও দক্ষ মানবসম্পদের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাও বাড়বে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান বলেন, সরকার উৎপাদন, বিনিয়োগ ও রপ্তানিবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর মতে, মেক্সিকোতে হোন্ডা এনএক্স২০০ রপ্তানি দেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি শক্তিশালী করবে।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাফসা নাদিয়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এই অর্জনকে স্বাগত জানান।
বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুসুমু মরিসাওয়া বলেন, মেক্সিকোতে রপ্তানি সম্প্রসারণ তাদের উৎপাদন দক্ষতা, গুণগত মান এবং কর্মীদের নিবেদিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি। গুয়াতেমালার পর আরেকটি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পের বিকাশেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, স্থানীয়ভাবে যন্ত্রাংশ সংগ্রহ বৃদ্ধি, উৎপাদন প্রতিযোগিতা শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যতে আরও নতুন বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেডের চিফ মার্কেটিং অফিসার শাহ মুহাম্মদ আশেকুর রহমান বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার এখনও প্রতিষ্ঠানের প্রধান অগ্রাধিকার হলেও মেক্সিকোতে হোন্ডা এনএক্স২০০ রপ্তানি বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা ও হোন্ডার বৈশ্বিক মানের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন। তাঁর ভাষায়, এই উদ্যোগ শিল্পায়ন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, স্থানীয়করণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশকে প্রতিযোগিতামূলক মোটরসাইকেল উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মেক্সিকোতে রপ্তানি হোন্ডার বৈশ্বিক উৎপাদন নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের গুরুত্ব আরও বাড়াবে। একই সঙ্গে দেশীয় সাপ্লাই চেইন শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রকৌশলভিত্তিক শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি, স্থানীয়করণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের মাধ্যমে রপ্তানি সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ডিউটি এক্সেম্পশন অ্যান্ড ড্রব্যাক অফিস (ডিইডিও), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), শুল্ক কর্তৃপক্ষ, ব্যাংকিং অংশীদার, সরবরাহকারী, ডিলার এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সহযোগিতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেড।
রপ্তানি খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, পোশাকশিল্পের বাইরে প্রকৌশল পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও বৈচিত্র্যময় ও টেকসই করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে মেক্সিকোতে বাংলাদেশে তৈরি হোন্ডা এনএক্স২০০-এর যাত্রা দেশের শিল্প ও রপ্তানি খাতের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।







