খামারিদের উৎপাদনশীলতা ও লাভজনকতা বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত ব্যবস্থাপনা এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে টেকনিক্যাল সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টায় হোটেল রেডিসনের ভেতরে ‘Nahar Lohmann Layer Targeting 600 Egg Production in 120 Weeks’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। দেশের অন্যতম কৃষি ও পোল্ট্রি প্রতিষ্ঠান নাহার এগ্রো এবং জার্মানির লোহম্যান ব্রিডার্স যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে বক্তব্য দেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) ডিস্টিংগুইশড ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, লোহম্যান ব্রিডার্সের গ্লোবাল টেকনিক্যাল সার্ভিস-ফ্লক ম্যানেজমেন্ট কর্মকর্তা মার্ক অ্যালেন এবং ইন্টার এগ্রো বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এ. কে. এম. খসরুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নাহার এগ্রোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রকিবুর রহমান (টুটুল)। সেমিনারে দেশের পোল্ট্রি শিল্পের উদ্যোক্তা, বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও খামারিরা অংশ নেন। এতে ১২০ সপ্তাহে ৬০০ ডিম উৎপাদনের লক্ষ্যে লেয়ার মুরগির দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন ধরে রাখার কৌশল, আধুনিক ফ্লক ম্যানেজমেন্ট, খাদ্য ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, রোগ প্রতিরোধ এবং বায়োসিকিউরিটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি যথাযথভাবে প্রয়োগ করা গেলে লেয়ার খামারে উৎপাদনকাল বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও খামারিদের লাভজনকতা বাড়ানো সম্ভব। এজন্য উন্নত জাতের পাশাপাশি সুষম পুষ্টি, রোগ নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর বায়োসিকিউরিটি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
নাহার এগ্রোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রকিবুর রহমান (টুটুল) বলেন, ১৯৮৯ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে নাহার এগ্রো দেশের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে কাজ করে আসছে। মানসম্মত বাচ্চা, উন্নতমানের ফিড এবং খামারিদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা দেওয়ার মাধ্যমে দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় অবদান রাখাই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি বলেন, পোল্ট্রি খাতের উন্নয়নে শুধু উৎপাদন বাড়ানো নয়, খামারিদের জন্য টেকসই ও লাভজনক উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সেমিনারে বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের পোল্ট্রি খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে আধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বায়োসিকিউরিটি, পুষ্টি ও ফ্লক ম্যানেজমেন্টের সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমে লেয়ার খামারিদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আর্থিক ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নাহার এগ্রো ও লোহম্যান ব্রিডার্সের এ ধরনের যৌথ কারিগরি উদ্যোগ দেশের লেয়ার খামারিদের আধুনিক উৎপাদন পদ্ধতির সঙ্গে আরও সম্পৃক্ত করবে। একই সঙ্গে ডিম উৎপাদন খাতে উৎপাদনশীলতা ও খামারিদের লাভজনকতা বাড়াতে এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।







