মতিঝিলের ৯৯ করিম চেম্বারে অবস্থিত ক্রীম এন্ড ক্রাস্ট মেট্রো রেস্টুরেন্টটি বিজেএমসি কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ বে-আইনীভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।
ভাড়া পরিশোধ করার পরও এমন আচরণে বিস্মিত হোটেল মালিকরা। এতে ব্যাবসায়িক ক্ষতির পাশাপাশি চরমভাবে সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে।
ক্রীম এন্ড ক্রাস্ট মেট্রো রেস্টুরেন্ট ১ জানুয়ারী ২০২২ থেকে বিজেএমসি ভবন (সাবেক করিম চেম্বার) নীচতলায় ১৩৪২ স্কয়ার ফিট জায়গা ভাড়া নিয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ব্যাবসা পরিচালনা করে আসছেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল থেকে আরও ১০৪৫ স্কয়ার ফিট ভাড়া নিয়ে সঞ্জয় কুমার রায় ও সাবেক মহাপরিচালক বগুরা পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (অতিঃসচিব পদ মর্যাদা) ড. এম এ মতিন যৌথভাবে ব্যাবসা পরিচালনা করে আসছেন বর্ধিত অংশ ভাড়া নেয়ার পর বিভিন্ন সময়ে সুয়ারেজ লাইন ও ছাদের ময়লা পানি ও দূর্গন্ধের জন্য ব্যাবসা বাধাগ্রস্থ হলে কর্তৃপক্ষকে বারবার নোটিশ করার পরও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
উল্টো ভাড়া বকেয়ার অজুহাতে ২৫ জুন ২০২৬ ইং বিকাল চারটার দিকে উভয় অংশের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় ভবন কর্তৃপক্ষ।এতে রেস্টুরেন্টে রান্না উপকরণ সহ ফ্রীজে সংরক্ষিত মূল্যবান মাছ মাংস পচে লক্ষাধিক টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়। উপরন্ত ১০ জুলাই ২০২৬ ইং অতি বৃষ্টির কারণে রেস্টুরেন্টের ভেতরে ২ ফুট পানি ঢুকে কয়েকদিন জমে ছিল। ফলে আসবাবপত্র নষ্ট হলে প্রচুর পরিমাণে আর্থিক ক্ষতি হয়। বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ না থাকাতে পরিস্কার করাও সম্ভব হয়নি। যারফলে ভেতরে থাকা মালামাল ও আসবাবপত্রের বিপুল পরিমানে ক্ষতি সাধিত হয়।
এখানে উল্লেখ্য যে,ক্রীম এন্ড ক্রাস্ট মেট্রো রেস্টেুরেন্ট ১৩৪২ স্কয়ার ফিটের অংশ বাবদ ১ জানুয়ারী ২০২২ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত করিম চেম্বারের ভাড়া বাবদ পাওনা হয় ৭০ লক্ষ ৩৪ হাজার ৬৪৬ টাকা যার বিপরীতে ভাড়া বাবদ ক্রীম এন্ড ক্রাস্ট মেট্রো রেস্টুরেন্ট প্রদান করে ৭০ লক্ষ ৪৬ হাজার ৯০৮ টাকা এবং এই অংশের বিপরীতে সিকিউরিটি ডিপোজিট হিসেবে করিম চেম্বারে জমা আছে ৭ লক্ষ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা।
কিন্তু বর্ধিত অংশের ভাড়া বাবদ ১ এপ্রিল ২০২৪ হতে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মোট প্রাপ্য ভাড়া ২৩ লক্ষ ৪১ হাজার ৮৪৫ টাকা । যার মধ্যে সঞ্জয় রায় ও ড. আব্দুল মতিন ব্যাবসায়িক অসুবিধা এবং সূয়ারেজ লাইনের দূর্গন্ধ ছাদ থেকে পানিপড়া সহ নানা প্রতিকুলার অভিযোগ বা নোটিশ করে প্রতিকার না পেয়ে উক্ত অংশের ভাড়া বাবদ ৩ডিসেম্বর ২০২৪ সালে ২লক্ষ টাকা জমা দেওয়ার পর এই অংশের আর কোন ভাড়া দেয়নি।
এ বিষয়ে ব্যাবসায়ী সঞ্জয় রায় বলেন, চার বৎসর জামানতসহ প্রায় এক কোটি টাকা ভাড়া হিসেবে জমা করি হঠাৎ করে চালু দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রাহকদের কাছে একটি নেতিবাচক বার্তা পৌঁছেছে। পানির লাইন প্রতিবন্ধকতা,বিদ্যূৎ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে আর্থিক ক্ষতিসহ এই অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এমতাবস্থায় পানি কমে যাওয়ার পর ব্যাবসায়িক প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ১৯ আগষ্ট ২০২৬ আনুমানিক ৪ টায় প্রতিষ্ঠানের তালার উপর ভবন কর্তপক্ষ কোন নোটিশ ছাড়াই অমানবিকভাবে কোন সুয়োগ না দিয়ে তালা লাগিয়ে দেন। ক্রীম এন্ড ক্রাস্ট মেট্রো রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের দাবি সমস্যার সমাধান করে ব্যাবসা করার সুযোগ দেওয়া হোক।






