, ,

কাশিয়ানীতে বাক প্রতিবন্ধী কিশোরীর সন্তানের পিতৃত্ব নির্ধারণ নিয়ে সালিশ, জরিমানার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ

নিউজটি শেয়ার করুন

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সাজান ইউনিয়নের মহানগর গ্রামে বাক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এক কিশোরীর সন্তানের পিতৃত্ব নির্ধারণকে কেন্দ্র করে গ্রাম্য সালিশ এবং পরবর্তীতে জরিমানার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে এলাকায় তীব্র দ্বন্দ্ব ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহানগর গ্রামের আকবর শেখের বাক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়ে শিল্পী (ছদ্মনাম) কুমারী মাতৃত্বের মাধ্যমে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। বাক প্রতিবন্ধী হওয়ায় শিশুটির পিতার পরিচয় সে নিজে প্রকাশ করতে না পারলেও পরে পারিবারিক ও স্থানীয়ভাবে জানা যায়, একই গ্রামের অজিত শেখের ছেলে পান্নু শেখ ওই সন্তানের পিতা।
এ ঘটনায় প্রায় ২০–২৫ দিন আগে গ্রামের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির উদ্যোগে একটি গ্রাম্য সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অভিযুক্ত পান্নু শেখের বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা এবং ভুক্তভোগী বাক প্রতিবন্ধী শিল্পীর জন্য ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়। সালিশ বৈঠকের সভাপতি ছিলেন মৌলভী ইউনুস আলী। বৈঠকে জাহিদ, কাশেম, লিটু শেখ, আনোয়ারসহ আরও কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
তবে সালিশের বৈধতা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এ ধরনের গুরুতর অপরাধের বিচার গ্রাম্য সালিশে করা আইনসঙ্গত নয়। এতে বিচারপ্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি ভুক্তভোগীর ন্যায্য অধিকারও ক্ষুণ্ন হয়েছে।
সালিশ বৈঠকের সভাপতি মৌলভী ইউনুস আলী দাবি করেন, জরিমানার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে যে দ্বন্দ্ব চলছে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। অন্যদিকে সালিশে অংশ নেওয়া কয়েকজন মাদবরের ভাষ্য, আইনগত এখতিয়ার না থাকলেও তারা সন্তানের পিতার পরিচয় নির্ধারণের উদ্দেশ্যে সালিশ করেছেন।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, জরিমানার অর্থ কে কত ভাগ পাবেন—তা নিয়ে সালিশে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যেই এখন বিরোধ দেখা দিয়েছে। এতে পুরো ঘটনাটি নতুন করে এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং আইন অনুযায়ী সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।