মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার কদম বাড়ির দিঘির পাড়ে অবস্থিত “গনেশ পাগল সেবাশ্রম ” বাংলাদেশের একটি বিখ্যাত ধর্মীয় ও
ঐতিহাসিক স্থান। গণেশ পাগল সেবাশ্রম
শ্রীশ্রী গণেশ পাগল ১২৫৫ বঙ্গাব্দে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার পোলসাইর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল শিরোমণি এবং মাতার নাম নারায়ণী দেবী। তিনি ছিলেন শ্রীশ্রী নারায়ণ ঠাকুরের ভক্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া এক সাধুপুরুষ। গণেশ পূজার দিনে জন্ম হওয়ায় তাঁর নাম রাখা হয় “গণেশ”।
পরে তিনি আধ্যাত্মিক সাধনায় নিজেকে নিয়োজিত করেন এবং মানুষের সেবাকে জীবনের মূল লক্ষ্য বানান। তাঁর অসাধারণ আচরণ ও ভক্তির কারণে মানুষ তাঁকে “গণেশ পাগল” নামে ডাকতে শুরু করে। তিনি শ্রী বিন্দু দাস গোসাইয়ের অনুচর ছিলেন এবং ১৩৩৫ বঙ্গাব্দে মহাপ্রয়াণ করেন।
তাঁর অনুসারীরা ১৩১২ বঙ্গাব্দে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ী এলাকায় প্রায় ৩৬৫ বিঘা জমির উপর “গণেশ পাগল সেবাশ্রম” প্রতিষ্ঠা করেন।
এই সেবাশ্রমকে ঘিরে প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের ১৩ তারিখে বিশাল কুম্ভমেলার আয়োজন করা হয়। প্রায় দেড়শ বছরের বেশি পুরোনো এই মেলা উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় মেলা হিসেবে পরিচিত। শুরুতে ১৩ জন সাধু ১৩ কেজি চাল ও ১৩ টাকা নিয়ে এই মেলার সূচনা করেছিলেন বলে প্রচলিত আছে।
সেবাশ্রমে বর্তমানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, ভক্তদের সমাবেশ, পূজা ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। দূর-দূরান্ত থেকে লক্ষাদিক ভক্ত এখানে আসেন।







