সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব মোঃ গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ২১ কোটি টাকার বিশাল অংকের ঋণ গ্রহণ ও নজিরবিহীন শর্তে চুক্তির অভিযোগ উঠে এসেছে। ঘটনা ঘিরে প্রশাসনিক অঙ্গনে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিবেদকের হাতে আসা বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর নথিতে দেখা গেছে—উপসচিবের নিজ স্বাক্ষরিত একটি ‘সম্মতিপত্র’, তার জীবনবৃত্তান্ত (সিভি), স্ত্রীর জাতীয় পরিচপত্রের ফটোকপি এবং নিজস্ব সীল ও স্বাক্ষরসহ ছবি সংরক্ষিত রয়েছে।
প্রাপ্ত নথির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬ সালের ১৯ জুন তারিখে স্বাক্ষরিত এই সম্মতিপত্রে মোঃ গোলাম কিবরিয়া (পরিচিতি নং- ৭৯৬৮), পিতা- মোঃ গোলাম মাওলা, সাভারের ডগরমোড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করে স্পষ্ট জানান, তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ১৫ (পনেরো) কোটি টাকা ঋণ এবং ৪০% হারে সার্ভিস চার্জ বাবদ ৬ (ছয়) কোটি টাকাসহ সর্বমোট ২১ (একুশ) কোটি টাকা গ্রহণ করছেন।
নথিতে আরও মারাত্মক তথ্য প্রকাশ পায়, যেখানে তিনি ১৮ (আঠারো) মাসের মধ্যে এই ২১ কোটি টাকার বিপরীতে কাজের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৪২ (বিয়াল্লিশ) কোটি টাকা পরিশোধ করার অঙ্গীকার করেছেন। শুধু তা-ই নয়, এই বিশাল অঙ্কের অর্থ লেনদেন ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সুবিধামতো ক্যাশ (নগদ) কিংবা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করার সুবিধাও রাখা হয়েছে। একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার এমন অস্বচ্ছ এবং অবিশ্বাস্য আর্থিক অঙ্গীকার ও চুক্তিপত্র সরকারি চাকরি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন কি না—তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত উপসচিব মোঃ গোলাম কিবরিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ঘটনা সংক্রান্ত খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠানো হলেও তার কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।







