, ,

উথুরা রেঞ্জে বনভূমিতে স্থাপনা নির্মাণের ‘অনুমতি’ দিয়ে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

নিউজটি শেয়ার করুন

ডেপুটি রেঞ্জার ইসমাইলের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ | আঙ্গারগারা বিটে চলছে একাধিক পাকা ভবন নির্মাণ

ময়মনসিংহের উথুরা রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার মো. ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে সরকারি বনভূমিতে পাকা ভবন নির্মাণের সুযোগ করে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ নেওয়া, কাঠ পাচারসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের অভিযোগ, বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন জমিতে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়ার নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।

অভিযোগ অনুযায়ী, উথুরা রেঞ্জের আঙ্গারগারা বিটের শহীদের মোড় থেকে প্রায় ১০০ গজ সামনে ইন্টারগেট সড়কের পাশে শফিকুল ইসলামকে পাকা ভবন নির্মাণের সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।

একই এলাকার ধনু নেতার বাড়ির কাছে গার্মেন্টসকর্মী আলম ও তার স্ত্রী মুক্তাকে পাকা ভবন নির্মাণের অনুমতি দিয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ইন্টারগেট থেকে আউলিয়ারচালা যাওয়ার পথে খালপাড়া এলাকায় গজারি বাগানের টিলায় মোশাররফ হোসেনকে পাকা ভবন নির্মাণের সুযোগ দিয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ছাড়া ঢালপাড়া এলাকার বাসিন্দা মুজিবরকে আট কক্ষের পাকা ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার বিনিময়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধার মোড়-গজারি বাগান ও হিজলাপাড়া এলাকায় ইয়াছিন, পিতা মোশাররফ হোসেনকে ভবন নির্মাণের অনুমতি দিয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আউলিয়ার বড়চালা এলাকার কাঁচা রাস্তার পাশে পল্লী চিকিৎসক বেলাল হোসেনের জামাতাকে দুইতলা পাকা ভবন নির্মাণের অনুমতি দিয়ে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং কালিবাড়ির মোড়ে রুবেল হুজুরকে দুইতলা পাকা ভবন নির্মাণের অনুমতি দিয়ে ৩ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, আঙ্গারগারা বিট এলাকায় বর্তমানে ছোট-বড় প্রায় ২০টি ভবন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এসব স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ করে দেওয়ার বিনিময়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে ডেপুটি রেঞ্জার মো. ইসমাইল হোসেনের বক্তব্য জানতে দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রার পক্ষ থেকে রাজ আহমেদ তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন ধরনের ব্যস্ততার কথা জানান এবং বর্তমানে হাসপাতালে অবস্থান করছেন বলে জানান।

তার শারীরিক অবস্থা ও ব্যস্ততার বিষয়টি বিবেচনা করে প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে ওই সময় বিস্তারিত বক্তব্য নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে আবারও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়।

তবে দ্বিতীয়বার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

অভিযুক্ত ডেপুটি রেঞ্জার মো. ইসমাইল হোসেনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।