এক কিশোরীর ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড। আর সেই হত্যার বিচার দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছিল গোটা দিনাজপুর। পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন আরও সাতজন।
১৯৯৫ সালের সেই ভয়াবহ ঘটনার ৩১ বছর পূর্ণ হলো আজ।
১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট ভোরে দিনাজপুরের দশমাইল এলাকায় ঢাকা থেকে আসা বাস থেকে নামেন কিশোরী ইয়াসমিন আক্তার। বাড়ি ফেরার পথে নিরাপদে শহরে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে টহল পুলিশের একটি ভ্যানে তাকে তুলে নেওয়া হয়। পরে গোবিন্দপুর এলাকায় তার মরদেহ পাওয়া যায়।
ইয়াসমিনকে ধর্ষণ ও হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তাল হয়ে ওঠে দিনাজপুর। শুরু হয় তীব্র আন্দোলন। কারফিউ, বিডিআর মোতায়েন—কোনো কিছুই থামাতে পারেনি ক্ষুব্ধ জনতাকে। ২৭ আগস্ট বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে গুলিতে নিহত হন আরও সাতজন।
এক ইয়াসমিনের হত্যাকাণ্ড তখন আর শুধু একটি হত্যার ঘটনা থাকেনি—পরিণত হয়েছিল বিচার, নিরাপত্তা ও পুলিশের জবাবদিহির দাবিতে এক ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে।
মামলার বিচার শেষে তিন পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড হয়। ২০০৪ সালে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
৩১ বছর পরও ইয়াসমিনের নাম দিনাজপুরের মানুষের কাছে শুধু একটি স্মৃতি নয়; এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর এক প্রতীক।







