আয়োজিত ২০২৬-২০২৮ বায়রা নির্বাচন উপলক্ষে মতবিনিময় ও প্রার্থী পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁয়ে বায়রা পরিবারের উদ্দেশ্য মতবিনিময় সভায় বক্তব্য বায়রার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বায়রার সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব|
এবং সদস্যদের নানাবিধ সমস্যার সমাধানসহ একটি সমৃদ্ধশালী বায়রা গঠনে আমি যথাসাধ্য ভূমিকা রাখার চেষ্টা করি। বায়রার সংঘবিধি মোতাবেক পরপর দুইবার সভাপতির দায়িত্ব পালন শেষে দুই বছর পর পুনরায় নির্বাচনের সুযোগ এলে, ইচ্ছা থাকা সত্বেও ব্যক্তিগত কারণে নির্বাচনে অংশগ্রহণ সম্ভব হয়ে ওঠেনি। কিন্তু আমি নির্দিধায় বলতে পারি বায়রা আমার প্রাণের সংগঠন, এখান থেকেই আমার ব্যবসায়িক পথচলা শুরু। জনশক্তি রপ্তানিকারক হিসাবে পরিচয় দিতেই আমি বেশি সাচ্ছন্দ্য বোধ করি এবং জনশক্তি রপ্তানি পেশাকে আমি আমার হৃদয়ে লালন করি। বিগত প্রায় দেড়যুগ বিবিধ কারণে আপনাদের সাথে আমার যোগাযোগের খানিকটা ভাটা পড়ে যায়, ইতিমধ্যে বায়রাতে বিভিন্ন অঙ্গন থেকে আগত শিক্ষিত, মেধাসম্পন্ন এবং লিডারশীপ কোয়ালিটিসহ শত শত সম্মানিত সদস্য জনশক্তি রপ্তানি পেশায় সম্পৃক্ত হয়েছেন, যাকিনা বায়রার জন্য একটি ইতিবাচক দিক।
প্রিয় সহকর্মীবৃন্দ, বায়রাতে যারা প্রবীণ সদস্য রয়েছেন উনারা আমার দায়িত্ব পালন সম্পর্কে কমবেশি অবগত থাকলেও, অপেক্ষাকৃত নবীন সদস্যরা সভাপতি হিসাবে আমার ভূমিকা সম্পর্কে তেমন একটা ওয়াকিবহাল নন। তাই আমি নবীন-প্রবীণ সবার কাছে আমার দায়িত্ব পালনকালে সম্পন্ন দু-একটি বিষয় আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই।
* আপনারা অনেকেই অবগত আছেন ২০০৩ সালে মন্ত্রণালয় কর্তৃক রিক্রুটিং লাইসেন্সের জামানত ৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি টাকায় উন্নিত করে গেজেট প্রকাশ করা হয়, যা কিনা হাতে গোনা দুই-একজন সদস্য ব্যতীত বাকি সদস্যদের পক্ষে ১ কোটি টাকা জামানত প্রদান মোটেই সম্ভব ছিলনা। আমি তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করে বিষয়টির নেতিবাচক দিক উনাকে বুঝাতে সমর্থ হই এবং প্রকাশিত গেজেট বাতিলের ব্যবস্থাগ্রহণ পূর্বক লাইসেন্সের জামানত পূর্বের ন্যায় সাড়ে সাত লক্ষ টাকা বহাল রাখতে সক্ষম হই।
* ২০০৬ সালে সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে বন্ধ থাকা দ্বিতীয় বৃহত্তম মালয়েশিয়া শ্রমবাজার উন্মুক্তের লক্ষ্যে তৎকালীন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রীসহ একটি প্রতিনিধি দল মালয়েশিয়া সফর করি এবং উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্তের ব্যবস্থা করি। দেশটিতে কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে সকল রিক্রুটিং এজেন্সি কর্মী প্রতি এক হাজার টাকা বায়রার কল্যাণ তহবিলে প্রদান করেন এবং স্ব স্ব লাইসেন্সে বহির্গমণ ছাড়পত্র গ্রহণ করে কর্মী প্রেরণ করেন। যার ফলে একদিকে সদস্যরা যেমন উপকৃত হন, অন্যদিকে বায়রা অর্থনৈতিক ভাবে একটি শক্ত ভিতের উপর দাঁড়াতে সমর্থ হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, আমার উদ্যোগের কারণেই কাকরাইলে বায়রার তত্ত্বাবধানে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সম্পন্নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
* ২০০২ সালে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জনশক্তি রপ্তানি ব্যবসায় অনিহার অজুহাত দেখিয়ে ২৫০টি লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিলে আমি সেই অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করি, আমার অনড় অবস্থানের কারণেই মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে বাধ্য হন।
প্রিয় সদস্যবৃন্দ, বিগত প্রায় দেড় দশক যাবত বায়রাতে শাসকগোষ্ঠীর ধারাবাহিক স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, দুর্নীতি, সিন্ডিকেটসহ কৃত নানানরকম গর্হিত কর্মকাণ্ড এবং কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত মানবপাচার আইনের সূত্র ধরে অযৌক্তিক সব প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সদস্যদের বঞ্চিত করা হয়েছে স্বাধীনভাবে ব্যবসা পরিচালনার ন্যায্য অধিকার থেকে। ফলে অধিকাংশ বায়রা সদস্যরা বর্তমানে চরম আর্থিক সঙ্কট মোকাবিলা করছেন। এমনি এক প্রেক্ষাপটে আগামী ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বায়রা নির্বাচন ২০২৬-২৮।
আমার প্রিয় সহকর্মীবৃন্দ, এমতাবস্থায় বায়রাকে বিনির্মাণ করতঃ সদস্যদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার প্রত্যয় নিয়ে আমি “বায়রা সম্মিলিত সমন্বয় ফ্রন্ট” থেকে সভাপতি পদপ্রার্থী হিসাবে বায়রা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছি। আমি আপনাদের সমর্থনে বায়রা পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সকল দেশের সিন্ডিকেশন প্রথা বিলুপ্ত করে স্বাধীনভাবে ব্যবসা পরিচালনার অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ সদস্যকল্যাণে বায়রা থেকে যাবতীয় দুর্নীতি অপসারণ করবো, ইনশাআল্লাহ। বায়রার সম্মানিত সদস্য ভাই-বোনদের প্রতি আমার বিনীত নিবেদন আপনারা “বায়রা সম্মিলিত সমন্বয় ফ্রন্ট” এর ২৭ জন প্রার্থী তথা পূর্ণ প্যানেলে আপনাদের মূল্যবান ভোট প্রদান করে একটি সদস্যবান্ধব বায়রা বিনির্মাণে এগিয়ে আসুন।







