, ,

আতিথেয়তা সেবা খাতে অনন্য উদ্যোগ এফআইসিএসি ও ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানের সমঝোতা স্মারক

নিউজটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক হোটেল ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান আইএইচজি-এর অধীনে থাকি পাঁচ তারকা হোটেল ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশান এবং কনস্যুলার সংস্থা ও সমিতিসমূহের আন্তর্জাতিক ফেডারেশনের (এফআইসিএসি ওয়ার্ল্ড), মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এই চুক্তির মাধ্যমে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানকে বাংলাদেশে এফআইসিএসি ওয়ার্ল্ডের আনুষ্ঠানিক আতিথেয়তা অংশীদার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও কনস্যুলার অঙ্গনের বিশিষ্ট প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই সমঝোতা বাংলাদেশের আতিথেয়তা খাত ও কনস্যুলার অঙ্গনের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডোরিন-এর জ্যেষ্ঠ গ্রুপ উপদেষ্টা ফিরোজ আসাদ; এফআইসিএসি’র সভাপতি এবং থেসালোনিকিতে ফিলিপাইনের সম্মানসূচক কনসাল জেনারেল নিকোলাওস মার্গারোপোলোস; এফআইসিএসি’র সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশে চিলির অনারারি কনসাল আসিফ এ. চৌধুরী; বাংলাদেশে লুক্সেমবার্গের অনারারি কনসাল নাসরিন জামির, বাংলাদেশে লাও পিপলস ডেমোক্রেটিক রিপাবলিকের সম্মানসূচক কনসাল আরিক মোরশেদ এবং বাংলাদেশে গাম্বিয়ার অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ ফারজানা চৌধুরী। এছাড়াও কূটনৈতিক, কনস্যুলার ও ব্যবসায়িক অঙ্গনের অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথি ও প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের সময় এফআইসিএসি ওয়ার্ল্ডের সভাপতি নিকোলাওস মার্গারোপোলোস ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানকে এফআইসিএসি ওয়ার্ল্ডের আনুষ্ঠানিক আতিথেয়তা অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ফিরোজ আসাদের হাতে একটি প্রশংসাপত্র তুলে দেন।
এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ঢাকায় আসা আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি, কূটনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিবর্গ, সম্মেলন, সংবর্ধনা এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানের জন্য আরও বিস্তৃত পরিসরে আতিথেয়তা সেবা প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একইসঙ্গে, এটি ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানকে আন্তর্জাতিক ব্যবসা, কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পৃক্ততার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আরও শক্তিশালী করবে।

এই অংশীদারিত্বের আওতায় এফআইসিএসি ওয়ার্ল্ডের সদস্য এবং যোগ্য প্রতিনিধিরা ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানে বিভিন্ন বিশেষ সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষ আবাসন মূল্য, বিনামূল্যে আইএইচজি ওয়ান রিওয়ার্ডস সদস্যপদ গ্রহণের সুযোগ, খাবার ও পানীয় সেবায় বিশেষ ছাড়, সুইমিং পুল ও জিম ব্যবহারের সদস্যপদ, লন্ড্রি সেবা, বিমানবন্দর যাতায়াত এবং ভোজসভা ও অনুষ্ঠান আয়োজনের সুবিধা। এছাড়াও এফআইসিএসি ওয়ার্ল্ড সদস্যদের বিশেষ নৈশভোজ এবং নির্বাচিত অনুষ্ঠানের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে।
এই অংশীদারিত্ব শুধুমাত্র আবাসন ও আতিথেয়তা সেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়,উভয় পক্ষ বাণিজ্য প্রতিনিধিদল, কৌশলগত রোডশো, বিশেষায়িত প্রদর্শনী, সংবর্ধনা এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও সম্পৃক্ততার সুযোগ অনুসন্ধান করবে। এফআইসিএসি ওয়ার্ল্ডের সদস্যরা ব্যবসায়িক ও কূটনৈতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশান ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। একইসঙ্গে উভয় প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে নির্বাচিত খাদ্য উৎসব ও অন্যান্য বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজনের সম্ভাবনাও বিবেচনা করবে।

প্রসঙ্গত “এফআইসিএসি ওয়ার্ল্ডের সদস্য, প্রতিনিধি ও অতিথিদের জন্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করার পাশাপাশি বাংলাদেশে সংগঠনটির বিভিন্ন কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানকে সহযোগিতা করতে আমরা প্রত্যাশী।”
এফআইসিএসি ওয়ার্ল্ড, একটি অলাভজনক আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা বিশ্ব কনসাল ফেডারেশন নামেও পরিচিত। সংস্থাটি নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনার, বিভিন্ন কর্মসূচি, প্যানেল আলোচনা এবং অন্যান্য কার্যক্রম আয়োজন করে থাকে। সংস্থাটি জাতিসংঘ কর্তৃক একটি বেসরকারি সংস্থা হিসেবে স্বীকৃত এবং জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের বিশেষ পরামর্শক মর্যাদা ধারণ করে। পাশাপাশি সংস্থাটি আমেরিকান রাষ্ট্রসমূহের সংস্থা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছ থেকেও স্বীকৃতি লাভ করেছে।
এই চুক্তির আওতায় এফআইসিএসি ওয়ার্ল্ড তাদের সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানে এফআইসিএসি ওয়ার্ল্ডের সদস্যদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ সুবিধা ও আতিথেয়তা সেবাগুলো প্রচার করবে এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সদস্য, সফররত প্রতিনিধি ও সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের জন্য হোটেলটি সুপারিশ করবে।
স্বাক্ষরের তারিখ থেকে সমঝোতা স্মারকটি কার্যকর হবে এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এর মাধ্যমে উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অব্যাহত সহযোগিতার জন্য একটি সুস্পষ্ট কাঠামো তৈরি হবে।
এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অর্থবহ অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা এবং ঢাকায় বৈশ্বিক ব্যবসায়িক, কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য একটি উষ্ণ ও স্বাগতপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রতি হোটেলটির অব্যাহত অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।