, ,

অনলাইন জুয়া ও ক্রিপ্টোকারেন্সির ফাঁদ:

নিউজটি শেয়ার করুন

নিঃস্ব শত শত মানুষ, ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতা দিনাজপুর সদর উপজেলার সাব্বির আহমেদ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথমে সখ্য স্থাপন, তারপর অল্প বিনিয়োগে দ্বিগুণ লাভের চমকপ্রদ প্রলোভন। এই ফাঁদে ফেলে সাধারণ মানুষের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এক চতুর প্রতারক চক্র। নামমাত্র ব্যবসার আড়ালে অবৈধ ক্রিপ্টোকারেন্সী ও অনলাইন জুয়ার কারবার চালিয়ে শত শত মানুষকে নিঃস্ব করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে দিনাজপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা সাব্বির আহমেদের বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতারণার পথ সুগম করতে সামাজিক মাধ্যমে মূলত স্বচ্ছল ও ধনী ব্যক্তিদের টার্গেট করতেন সাব্বির। সম্পর্ক গাঢ় হওয়ার পর ব্যবসার কথা বলে বাগিয়ে নিতেন ভুক্তভোগীর জিমেইল অ্যাকাউন্ট। শুরুতে গ্রাহকের অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিজ খরচে অ্যাকাউন্ট খুলে দিয়ে ভুয়া লাভের অংক দেখাতেন তিনি। এতে বিশ্বাস জন্মালে গ্রাহকরা যখনই বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করতেন, তখনই নেমে আসত বিপর্যয়।

​রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা ভুক্তভোগী কাজী ফিরোজ হোসেন জানান, ২০২৩ ইং সালে তার সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলেন সাব্বির। প্রথমে নিজের টাকায় অ্যাকাউন্ট খুলে ১০ হাজার টাকা জমা দেখিয়ে বিশ্বাস অর্জন করেন। পরবর্তীতে “আন্তর্জাতিক ব্যবসা”-র দোহাই দিয়ে ২ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করান। কিন্তু টাকা হাতে পাওয়ার পরপরই “কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে” অজুহাতে যোগাযোগ সীমিত করে ফেলে সাব্বির।

​প্রতারণার এই জালে পড়ে ৩ লক্ষ টাকা খুইয়েছেন তাহের আহমেদ নামের আরেক ব্যবসায়ী। তিনি জানান, ভুয়া পরিচয় ও ৬-৭টি বিভিন্ন মোবাইল সিম ব্যবহার করে গ্রাহকদের ধোঁকা দিয়ে আসছিল সে। ভুক্তভোগীদের ব্যবহৃত ঠিকানা ও নম্বর ভুল বলে জানা গেলেও, অনেক কষ্টে সাব্বিরের আসল পরিচয় উদ্ধার করেন কাজী ফিরোজ। দিনাজপুর সদর উপজেলার আব্দুল আজিজ ও সালেহা বেগমের ছেলে এই সাব্বির আহমেদ।

বর্তমানে সাব্বির উধাও না হয়ে নিজ এলাকায় আত্মগোপনে থাকলেও ভুক্তভোগীদের ধরাছোঁয়ার বাইরে অবস্থান করছেন। কাজী ফিরোজের লাগাতার যোগাযোগের মুখে আগামী ১৯ নভেম্বর পাওনা টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও, তা কেবল সময়ক্ষেপণের কৌশল বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে এই অবৈধ অনলাইন জুয়াড়ি ও প্রতারকের কঠোর শাস্তি এবং অর্থ উদ্ধারের আকুল আবেদন জানিয়েছেন সর্বস্ব হারানো মানুষগুলো।