জানুয়ারিতে ইতিবাচক সিদ্ধান্তের আশা,ফি ছাড়ের বিশেষ মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখে আকামা নবায়ন বন্ধ; প্রবাসীদের ধৈর্যের আহ্বান
সৌদি আরবে ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের (মুয়াসসাসা) আওতাভুক্ত প্রবাসী কর্মীদের আকামা (আবাসন অনুমতিপত্র) নবায়ন নিয়ে বড় ধরনের জটিলতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ ফি ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় আকামা নবায়ন ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি অবৈধ হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন। তবে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, স্থানীয় সৌদি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় আগামী জানুয়ারির মধ্যে নীতিমালায় নতুন কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
খরচের তফাত ও মূল সংকট
সৌদি আরবের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, একটি মাঝারি বা বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রতি প্রবাসী কর্মীর আকামা নবায়নে বছরে আনুমানিক ১১ হাজার রিয়াল খরচ হয়। তবে চারজন বা তার কম কর্মীবিশিষ্ট ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান বা ‘মুয়াসসাসা’র জন্য এত দিন বিশেষ সরকারি সুযোগ চালু ছিল। এই ব্যবস্থার অধীনে স্বল্প খরচে (প্রায় ১,৫০০ থেকে ২,০০০ রিয়ালে) আকামা নবায়নের সুবিধা পেতেন প্রবাসীরা, যা অনানুষ্ঠানিক বা মুক্ত কাজের সুবিধার একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
সৌদি সরকারের আগের ঘোষণা অনুযায়ী, এই বিশেষ সুযোগটির সময়সীমা আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এ শেষ হতে যাচ্ছে। ফলে বর্তমানে ফেব্রুয়ারির পরবর্তী মেয়াদের আকামা রিনিউ করা সম্ভব হচ্ছে না, যা প্রবাসীদের জন্য চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত সৌদি মালিক ও পরিবর্তনের সম্ভাবনা
বাজার বিশ্লেষক ও প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতির ফলে প্রবাসীদের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্বল্প আয়ের সৌদি নাগরিকরা। মূলত ক্ষুদ্র সৌদি ব্যবসায়ীদের সহায়তার জন্যই এই বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছিল। ১১ হাজার রিয়াল পূর্ণ ফি প্রদান করে কর্মী রাখা অধিকাংশ ক্ষুদ্র কফিলের (মালিক) পক্ষেই অসম্ভব।
যেহেতু এটি স্থানীয় অর্থনীতি ও ক্ষুদ্র সৌদি উদ্যোক্তাদের আয়ের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত, তাই আশা করা যাচ্ছে—আগামী জানুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যেই সৌদি শ্রম ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় এই সংক্রান্ত নীতিমালায় নতুন কোনো শিথিলতা বা বিকল্প সুযোগের ঘোষণা দিতে পারে।
প্রবাসীদের জন্য নির্দেশনা
এমতাবস্থায় সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধারণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হুট করে কফালা (স্পন্সর পরিবর্তন) বা চুক্তি বাতিলের মতো আইনগত ঝুঁকি না নিয়ে অন্তত জানুয়ারি পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা শ্রেয়।
কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে সৌদি সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল তথ্যের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।সৌদি সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক পদক্ষেপই পারে এই হাজার হাজার প্রবাসী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে।







