মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমতা ন্যায্যতার ভিত্তিতে অসাম্প্রদায়িক জনগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লড়াই এখন জরুরী- নুর আহমদ বকুল
শহীদ রাসেল আহমেদ খান ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষাসহ সাম্রাজ্যবাদ মৌলবাদ বিরোধী সংগ্রামের অকুতোভয় সৈনিক। ২০ বছর পূর্বে ২০০৬ সনে এই দিনে দক্ষিণপন্থী শক্তি-জামাত শিবিরসহ চরম মৌলবাদী শক্তির বিরুদ্ধে রাজপথে জনতার প্রতিরোধ সংগ্রামে একজন প্রতিরোধ যোদ্ধা হিসেবে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন। সেদিন প্রকাশ্য দিবালোকে মৌলবাদী শক্তি “মরলে শহীদ বাচলে গাজী” শ্লোগান তুলে মুহুমুর্হ বৃষ্টির মত গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা করেছিল। রাসেল আহমেদ খান সেদিন গুলিবৃদ্ধ হন ও মৃত্যুবরণ করেন। দেশের গণতন্ত্র, শান্তি, স্থিতিশীলতা সর্বোপরি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাজনীতির ধারাবাহিকতা রক্ষায় যুব মৈত্রীর নেতা রাসেল আহমেদ খান এর জীবন দান আমাদের পুনরায় ফিরে দেখতে হবে। বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের রাজনীতিতে সাম্রাজ্যবাদ ও চরম দক্ষিণপন্থী মৌলবাদ শক্তি রাষ্ট্রকে দখলে নিয়ে সকল প্রকার প্রগতি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে এবং বাঙালি জাতি স্বত্তার সাংস্কৃতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল বাম গণতান্ত্রিক শক্তি সবচেয়ে সংকটময় মুহুর্ত পার করছে। ট্যাগিং রাজনীতি ও মব সন্ত্রাস করে প্রতিশোধের নতুন ফ্যাসিবাদী ধারা চালু করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধার কবর দেওয়া যাচ্ছে না, মাজার ভেঙ্গে লাশ পুড়িয়ে উল্লাস করা হচ্ছে। বাঙালি জাতির চিরয়াত সাংস্কৃতি বাউল, মুর্শিদী, ভান্ডারী গান বন্ধ করা হচ্ছে। যত্রতত্র ফতোয়াবাজীর নামে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা চলমান, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভার্স্কয্য অব্যহত ভাংচুর চলছে। ভাত কাপড়ের মিছিল মিটিং, রুটি রুজির দাবী দাওয়া নৃশংসভাবে দমনকরা হচ্ছে। দেশের এই চিত্র বলে না যে দেশ সুশাসনের ধারায় চলছে। যা ঘটছে তাতে দুঃশাসন বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বাম প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যবদ্ধতা হওয়ার আহবান জানাই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সামাজিক ন্যায্যতা সমতার ভিত্তিতে অসাম্প্রদায়িক জনগণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লড়াইয়ে সকল প্রগতিবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জননেতা রাশেদ খান মেননকে মুক্তি দিতে হবে। রাসেল দিবস সেই পথ নির্দেশনাই দাবী করে।
আজ ২৮ অক্টোবর ২০২৬ বাংলাদেশ যুব মৈত্রী নেতা ওয়ার্কার্স পার্টি সদস্য শহীদ রাসেল আহমেদ খান এর ২০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জননেতা নুর আহমদ বকুল উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন।
যুব মৈত্রী সভাপতি তৌহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক তাপস দাস এর সঞ্চালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতি তাঁর বক্তব্যে বলেন, রাসেল আহমেদ খানএর মৃত্যুর ২০ বছর পরেও আমরা দেখছি সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী শক্তি বাংলাদেশকে অতি দক্ষিণপন্থী পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নেয়ার অবিরাম চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। প্রতি বছর ২০/২৫ লাখ ছাত্র যুব শ্রম বাজারে প্রবেশ করছে, কিন্তু তার এক চতুর্থাংশও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে না। তাই যুব মৈত্রী যুবদের কর্মসংস্থান ও বেকার ভাতার দাবি জানাচ্ছে।
রাসেল আহমেদ খান স্মৃতি ভবনে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, সাদাকাত হোসেন খান বাবুল – সাবেক সভাপতি বাংলাদেশ যুব মৈত্রী, কিশোর রায় – সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাংলাদেশ যুব মৈত্রী, মোস্তফা আলমগীর রতন – সাবেক সভাপতি বাংলাদেশ যুব মৈত্রী, সাব্বাহ আলী খান কলিন্স – সাবেক সভাপতি বাংলাদেশ যুব মৈত্রী, শরিফুল কবির- সভাপতি জাতীয় যুব জোট, মিনহাজ সেলিম- আহবায়ক যুব ঐক্য, আহাদ মিনার- সহ সভাপতি বাংলাদেশ যুব মৈত্রী, ইয়াতুন নেছা রুমা – সভাপতি বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী, মাহাবুদ রানা তরুণ- দপ্তর সম্পাদক আলোচনা সভার পূর্বে শহীদ রাসেল আহমেদ খানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি, বাংলাদেশ যুব মৈত্রী কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী, বাংলাদেশ নারী মুক্তি সংসদ, জাতীয় গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়ন।







