মৌলভীবাজারে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে মনু নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তীব্র স্রোতের কারণে রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের উজিরপুর এলাকায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে হু হু করে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় প্লাবিত হচ্ছে বৃহত্তর রাজনগর। তলিয়ে গেছে অসংখ্য ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি।
বাঁধ ভাঙনে চরম বিপর্যয় – স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে উজিরপুর এলাকায় মনু নদীর বাঁধের একটি বড় অংশ ভেঙে যায়। বাঁধ ভাঙা পানি প্রবল বেগে কামারচাক ইউনিয়নসহ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। মুহূর্তের মধ্যেই তলিয়ে গেছে উজিরপুর ও এর আশপাশের গ্রামীণ সড়ক, কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ি এবং রোপা আমনের খেত। পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ গবাদিপশু ও জরুরি আসবাবপত্র নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন।
বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে পানি- পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, মনু নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পানির উচ্চতা ও গতিসীমা আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে, যা গত কয়েক বছরের রেকর্ডকে স্পর্শ করেছে। তীব্র স্রোতের কারণে নদী তীরবর্তী অন্যান্য দুর্বল অংশগুলোও ঝুঁকিতে রয়েছে।
এক নজরে বর্তমান পরিস্থিতি:আক্রান্ত এলাকা: রাজনগর উপজেলার উজিরপুর, কামারচাকসহ সংলগ্ন বিস্তীর্ণ অঞ্চল (বৃহত্তর রাজনগর)।
ক্ষয়ক্ষতি: অসংখ্য বসতবাড়ি ও গ্রামীণ অবকাঠামো পানির নিচে; ভেসে গেছে মাছের ঘের ও ফসলি জমি।
যোগাযোগ ব্যবস্থা: বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় জেলা ও উপজেলা সদরের সাথে উপদ্রুত এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
প্রধান সংকট: বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও আর্তনাদ- ক্ষতিগ্রস্ত উজিরপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, নদীর পানি বাড়ার পর থেকেই তারা আতঙ্কে ছিলেন। বাঁধের দুর্বল অংশটি সংস্কারের দাবি জানালেও শেষ রক্ষা হয়নি। আচমকা বাঁধ ভেঙে পানি ঢোকায় ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরানোর সময়ও পাননি অনেকে।
প্রশাসনের তৎপরতা – উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে বা আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। ভাঙনকবলিত স্থানে বালুর বস্তা (জিও ব্যাগ) ফেলে পানি আটকানোর চেষ্টা করা হলেও পানির তীব্র স্রোতের কারণে তা ব্যাহত হচ্ছে।
পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বন্যাদুর্গত এলাকায় দ্রুত সরকারি ও বেসরকারিভাবে পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী এবং উদ্ধারকারী দল পাঠানোর জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।






