বর্তমান সরকারকে উৎখাত, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নাশকতার মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক
শোভন সহ জেলা ছাত্রলীগের শীর্ষ ৩০ জন নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাত নামা ১২০/২০০ জনকে আসামী করা হয়।
*মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় যে*, গত ২৩শে আগস্ট ২০২৬ তারিখ বেলা ১২টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৩টা ২০ মিনিট পর্যন্ত বিজয়নগর উপজেলার চম্পকনগর ইউনিয়নের দত্তলা চরের উপর ০১ টি স্পিডবোট এবং ৪/৫ টি নৌকায় আনুমানিক – ১৫০/২০০ জন যুবকের উপস্থিতিতে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বর মাসে দেশে প্রত্যাবর্তন করবেন মর্মে নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি রাখতে এবং নিজেদের নিরাপদ রাখতে বিভিন্ন সাহসিকতা মূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা নৌকা ও স্পিডবোট যোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এজাহারে বলা হয়, আসামিরা “শোভন ভাই”, “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু”, “শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ বাঁচবে” সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
মামলায় এজাহারভুক্ত ৩০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
*উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন* :
শাহাদাৎ হোসেন শোভন* (৩৮) – সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা, মিকাইল হোসেন হিমেল* (২৯) – যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগ, ইশতিয়াক আহমেদ বাপ্পি* (২৭) – সভাপতি, সরাইল উপজেলা ছাত্রলীগ, শ্যামল ভূঁইয়া* (৩০) – সাধারণ সম্পাদক, সৈয়দাবাদ কলেজ ছাত্রলীগ, কসবা, এস এম সাফায়েত হৃদয়* (৩০) – সদস্য, আহবায়ক কমিটি কসবা উপজেলা ছাত্রলীগ, রিজান* (২৬) ও *ইমন খান* (২৯) – সদস্য, পৌর ছাত্রলীগ, আখাউড়া, মোঃ জাহিদ আহমেদ জয়* (২৩) – আতকাপাড়া, বিজয়নগর
এছাড়াও নবীনগর, কসবা, সরাইল, আখাউড়া, সদর ও বিজয়নগর উপজেলার আরও ২৭ জনের নাম রয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত ১০০ থেকে ১২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা “বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কতিপয় নেতা” কর্তৃক প্ররোচিত হয়ে “বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এর পদত্যাগ দাবি ও নিষিদ্ধ সত্তার সমর্থনসহ” সরকার বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়।
তাদের বিরুদ্ধে *সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ সংশোধনী/২০১৩ এর ৮/৯(১)(২)/১০/১/১২/১৩ ধারায়* মামলা রুজু করা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে আসামিদের সনাক্তের কাজ চলছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এত বড় আকারে রাজনৈতিক মামলা হওয়ায় জেলা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।








