বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রজন্মকে কর্মমুখী ও বাস্তবমুখী শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি কলাবোরেশনের কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের অর্জিত তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
তবে এ উদ্যোগ সফল করতে সরকারেরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করার জন্য সরকার বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দিতে পারে, যেমন কর-সুবিধা (ট্যাক্স রিলিফ) এবং স্বল্প সুদে লোন ইত্যাদি প্রদান। একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে যে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য ওরিয়েন্টেশন, ইন্টার্নশিপ, পার্ট-টাইম কাজ অথবা প্রাথমিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবে এবং কর্মজীবনের জন্য নিজেদের আরও দক্ষ ও প্রস্তুত করে তুলতে পারবে।
যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের এধরনের কাজে অবদান রাখবে, তাদের জন্য বিশেষ সরকারি প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হলে তারা এ কার্যক্রমে আরও আগ্রহী হবে। এতে একদিকে শিল্পখাত দক্ষ মানবসম্পদ পাবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা কর্মসংস্থানের বাস্তব সুযোগ লাভ করবে।
তবে এ উদ্যোগের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর। তাই সরকারকে দ্রুত একটি কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে, যাতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অংশগ্রহণে উৎসাহিত হয় এবং শিক্ষার্থীরা সরাসরি উপকৃত হয়।
২৬ সেপ্টেম্বর আমি আমার ফেসবুক আইডিতে একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি কলাবোরেশন বিষয়ে আমার মতামত প্রকাশ করেছিলাম। আদ্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে এবিষয়ে একটি সভার আয়োজন করে। সভায় মূলত একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা সম্প্রসারণের বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আলোচনার সারমর্ম ছিল আমাদের শিক্ষার্থীদের উৎপাদনমুখী ও কর্মমুখী শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মবাজারের জন্য আরও উপযোগী করে গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকার এ ধরনের ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে।
সভায় একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ এবং বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এ বিষয়ে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও মতবিনিময় সভার আয়োজন শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী ৮ অক্টোবর একটি বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হবে। এই সেমিনারে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। সেখানে আলোচনা করা হবে কীভাবে শিল্পখাত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গবেষণাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারে, শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয় কী ভূমিকা রাখতে পারে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ ও বাস্তব প্রশিক্ষণের সুযোগ কীভাবে বৃদ্ধি করা যায়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত গবেষণার ফলাফল ও উদ্ভাবনগুলো শিল্পক্ষেত্রে প্রয়োগ এবং বাণিজ্যিকীকরণের সম্ভাবনাও আলোচনা করা হবে।
অনুষ্ঠানে শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ইউজিসির একজন সম্মানিত সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞগণ উপস্থিত থাকবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এ অনুষ্ঠানে প্রায় তিন থেকে চারশত শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
আমি আশা করি আমাদের শিক্ষার্থীরা এই আয়োজনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে এবং একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতার এই উদ্যোগকে সফল করে তুলবে।






