ফরিদগঞ্জে সেভেন হর্স সিমেন্টের বস্তায় ওজন কম থাকার অভিযোগে সংবাদ প্রকাশ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা অভিযোগ, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অর্থ দাবির অভিযোগ বিতর্কে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি)।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ভুক্তভোগী কামাল হোসেনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। তাঁর দাবি, সেভেন হর্স সিমেন্টের একাধিক বস্তায় নির্ধারিত ওজনের তুলনায় কম সিমেন্ট পাওয়া গেছে। অভিযোগটি সামনে আসার পর স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। প্রকাশিত সংবাদে ভোক্তা অধিকার, পণ্যের মান এবং বাজার তদারকি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে আসে।
সংবাদ প্রকাশের পর অভিযোগ অনুযায়ী, ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার জোবায়ের এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ও সেভেন হর্স সিমেন্টের স্থানীয় প্রতিনিধি ফয়সাল আলম তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট প্রকাশ করেন। সেখানে সাংবাদিক এফ. এ. মানিক, শামীম হাসান, মেহেদী হাছান ও শাকিল হাসানের নাম উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অশোভন আচরণ, একটি বিষয় জোরপূর্বক মীমাংসার জন্য চাপ প্রয়োগ এবং অর্থ বা অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ তোলা হয়।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, সংবাদ প্রকাশের জেরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁদের পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই এ ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ঘটনার পর বুধবার (৮ জুলাই) সাংবাদিক এফ. এ. মানিক ফরিদগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে ফয়সাল আলমকে বিবাদী করা হয়। সাক্ষী হিসেবে শামীম হাসান সজীব, মেহেদী হাছান ও মুহাম্মদ শাকিল হাসানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
জিডিতে বলা হয়েছে, ফেসবুকে প্রকাশিত পোস্টে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এমন বক্তব্য তাঁদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা পরিচালনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে বিষয়টি নথিভুক্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও আবেদন জানানো হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ থানা সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য নথিভুক্ত রয়েছে।
স্থানীয় মহলের মতে, একটি ভোক্তা অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ঘটনাপ্রবাহ এখন আইনগত ও সামাজিক দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে পণ্যের ওজন ও মান নিয়ে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি রয়েছে, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আনা অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় যাচাই হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
এদিকে পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ওজনে কম থাকার মূল অভিযোগের তদন্ত কী অবস্থায় রয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আনা অভিযোগের সত্যতা কতটুকু, এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কী সিদ্ধান্ত নেয় সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি।







