, ,

‎দুপুরেই বিদ্যালয় ছুটি, প্রশ্নে প্রধান শিক্ষকের জবাব’নিউজ করলে করেন’

নিউজটি শেয়ার করুন

‎গাইবান্ধার উত্তর গিদারী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া এবং নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়ে পূর্ণ সময় ক্লাস অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
‎বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, জাতীয় পতাকা নামিয়ে বিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা লাগানো হচ্ছে। তখনই শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ত্যাগ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে চলে যাচ্ছে। বিদ্যালয়ের পিয়ন জাহাঙ্গীর আলম জানান, সহকারী প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমানের নির্দেশে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়েছে।
‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে জানায়, বিদ্যালয়ে অধিকাংশ দিনই মাত্র দুই থেকে তিনটি ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়। তাদের দাবি, অনেক শিক্ষক নিয়মিত পাঠদান করেন না। ফলে নির্ধারিত সিলেবাস শেষ হচ্ছে না এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও তারা পিছিয়ে পড়ছে।
‎কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় সন্তানরা দুপুরেই বাড়ি ফিরে আসে। অবসর সময়ে তারা দীর্ঘ সময় খেলাধুলা করে, আবার কিছু শিক্ষার্থী অসামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রভাবেও জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। শিক্ষকদের দায়িত্বশীলভাবে পূর্ণ সময় পাঠদান নিশ্চিত করা হলে শিক্ষার্থীরা এমন ঝুঁকি থেকে দূরে থাকবে। তারা অভিযোগগুলোর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
‎এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলুসুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি সকালে বিদ্যালয়ে হাজিরা দিয়ে বিদ্যালয়ের কাজেই উপজেলায় এসেছি। আর একদিন বন্ধ তো কী হয়েছে? নিউজ করলে করেন।
‎এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া এবং নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।
‎বিদ্যালয়ে আগাম ছুটি, নিয়মিত পাঠদান নিয়ে অভিযোগ এবং প্রধান শিক্ষকের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি অভিভাবকদের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।